মিরপুর প্রতিনিধি: ২৬ জুন ২০২৬
ঢাকার মিরপুর বাংলা স্কুল এন্ড কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল খোশনবীশ পল্লবী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে তিনি প্রতিষ্ঠানের সাবেক দারোয়ান মো. লতিফ মোল্লা (৫৫) ও সাবেক আয়া সাগরিকা বেগম মনি (৪৬) সহ প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান শিক্ষকের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মিথ্যা মামলার হুমকির অভিযোগ তুলেছেন।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত মো. লতিফ মোল্লা মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর উপজেলার ইন্দ্রপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং বর্তমানে ঢাকা পল্লবীর সেকশন-৬ এলাকায় বসবাস করেন। অপর অভিযুক্ত সাগরিকা বেগম মনি ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলার ধলাইবচর এলাকার বাসিন্দা এবং বর্তমানে পল্লবীর সেকশন-৭ এলাকায় বসবাস করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে অধ্যক্ষের কাছে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করে আসছিলেন। টাকা না দিলে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠানো এবং চাকরিচ্যুত করার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এক পর্যায়ে তারা ৭ লাখ টাকা দাবি করেন বলেও অভিযোগ করেন অধ্যক্ষ।
অধ্যক্ষের দাবি, তার বিরুদ্ধে পূর্বে ৩১ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল-২, ঢাকায় একটি মামলা করা হয়। পরবর্তীতে আদালত ৫ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে মামলাটি মিথ্যা ও বানোয়াট বিবেচনায় খারিজ করে দেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ২৩ জুন ২০২৬ রাত আনুমানিক ১০টার দিকে মিরপুর-১১ নম্বর বাজার এলাকায় অভিযুক্তরা পুনরায় ১৫ লাখ টাকা দাবি করেন। দাবি করা অর্থ না দিলে আবারও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার হুমকি দেওয়া হয়। এ সময় প্রতিবাদ করলে তাকে গালিগালাজ ও বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর অধ্যক্ষ পল্লবী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই প্রিয় সরকার বলেন, “আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রাথমিক প্রক্রিয়া শেষে খুব শিগগিরই মামলা রুজু করা হবে।”
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মো. লতিফ মোল্লা ও সাগরিকা বেগম মনির বক্তব্য জানা যায়নি।


















