অভাব, রাজনৈতিক ব্যবহার আর নেতৃত্বের দূরত্বে বেপরোয়া হয়ে ওঠা কর্মীদের বাস্তবতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক: বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬
রাজধানীর রূপনগরে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া মোঃ রাজু গাজীকে নিয়ে এলাকায় চলছে নানা আলোচনা।
একপক্ষ তাকে “শীর্ষ সন্ত্রাসী” ও “চাঁদাবাজ” হিসেবে আখ্যা দিলেও, স্থানীয় অনেকের ভাষ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাদের দাবি, রাজু মূলত একজন ত্যাগী রাজনৈতিক কর্মী, যিনি বছরের পর বছর মাঠে থেকেও পাননি মূল্যায়ন কিংবা ন্যূনতম নিরাপত্তা।
মঙ্গলবার (১২ মে) দিবাগত রাতে রূপনগর থানাধীন ৩৯ নম্বর রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাজু গাজীকে আটক করে পুলিশ। অভিযানে নেতৃত্ব দেন রূপনগর থানার ওসি নোমান সাহেব। পরে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে আদালতে পাঠানো হয়।
তবে গ্রেপ্তারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজুকে ঘিরে নানা তথ্য সামনে আসতে থাকে। স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাজুর জীবন ছিল চরম অভাব আর অনিশ্চয়তায় ঘেরা। ছোট্ট একটি ঘরে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস করতেন তিনি। নিয়মিত সংসারের বাজার চালাতেও হিমশিম খেতে হতো।
একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “রাজুর নামে নানা অভিযোগ থাকলেও তাকে যারা কাছ থেকে চেনে, তারা জানে সে কোটি টাকার মালিক না। বড় কোনো সন্ত্রাসী চক্রের নেতা না। বরং রাজনৈতিক মাঠে ব্যবহার হওয়া এক বেপরোয়া কর্মী।”
তাদের অভিযোগ, দেশের বড় রাজনৈতিক দলগুলোতে তৃণমূলের অনেক কর্মী বছরের পর বছর ঝুঁকি নিয়ে কাজ করলেও পরে হয়ে পড়েন অবহেলিত। নেতারা বিলাসবহুল জীবনযাপন করলেও মাঠের কর্মীদের জীবন কাটে অনিশ্চয়তা, অভাব আর হতাশায়। সেই হতাশা থেকেই অনেকে ভুল পথে জড়িয়ে পড়েন।
স্থানীয় এক রাজনৈতিক কর্মী বলেন,
“রাজুর মতো ছেলেরা মিছিল-মিটিংয়ে সামনে থাকে, হামলা-মামলা খায়, কিন্তু প্রয়োজনের সময় তাদের পাশে দাঁড়ানোর মানুষ থাকে না। তখনই তারা বেপরোয়া হয়ে ওঠে। পরে সমাজ তাদের ‘সন্ত্রাসী’ বলে চিহ্নিত করে।”
এলাকাবাসীর একাংশ মনে করেন, শুধুমাত্র আইনশৃঙ্খলা অভিযান দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের তৃণমূল কর্মীদের জীবনমান, পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।
তাদের মতে,
“যে কর্মীরা দলকে সময় দেয়, জীবন ঝুঁকিতে ফেলে, তাদের ন্যূনতম সম্মান ও জীবিকার ব্যবস্থা না থাকলে ভবিষ্যতে আরও অনেক ‘রাজু’ তৈরি হবে।”
এদিকে পুলিশ বলছে, অপরাধের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। তবে স্থানীয়দের দাবি, বিচার হোক নিরপেক্ষভাবে এবং কোনো ব্যক্তিকে যাচাই ছাড়া “শীর্ষ সন্ত্রাসী” আখ্যা দিয়ে সামাজিকভাবে ধ্বংস না করা হোক।


















