চোরাই ভাঙ্গারী বাণিজ্য, দখল, চাঁদাবাজি ও অপরাধী সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ; যুবলীগ নেতা ‘পিস্তল সোহেল’-এর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ভাঙ্গারী বাবুকে ঘিরে নতুন বিতর্ক।
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী ও রূপনগর থানার সীমান্তবর্তী আবাসিক এলাকায় চোরাই ভাঙ্গারী ব্যবসা পুনরায় সক্রিয় হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বিভিন্ন বাসাবাড়ি, কলকারখানা এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চুরি হওয়া দামি আসবাবপত্র, লোহালক্কড় ও অন্যান্য মালামাল সংগ্রহ করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, এ চক্রের নিজস্ব কিশোর গ্যাং ও চোর বাহিনী রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘ভাঙ্গারী বাবু’ নামে পরিচিত ব্যক্তি ওই চক্রের অন্যতম নিয়ন্ত্রক। তাদের দাবি, তিনি কথিত সন্ত্রাসী যুবলীগ নেতা ‘পিস্তল সোহেল’ ওরফে ‘দুদ সোহেল’ ওরফে ‘মিল্কভিটা সোহেল’-এর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় কাউন্সিলর বাপ্পি ও পিস্তল সোহেলের হয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার এবং সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া দুটি হত্যা মামলায় ভাঙ্গারী বাবুর নাম রয়েছে। একটি মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, হামলার সময় তার ভাঙ্গারী দোকান থেকে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র সরবরাহ করা হয় এবং তা ব্যবহার করে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সরকার পরিবর্তনের পর কিছু স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ভাঙ্গারী বাবু পুনরায় এলাকায় সক্রিয় হয়েছেন এবং আগের চোরাই ভাঙ্গারী ব্যবসা আবারও চালু করেছেন। তাদের দাবি, পল্লবী ও রূপনগর থানাকে ‘ম্যানেজ’ করেই এই ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানাগুলোর কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা আরও অভিযোগ করেন, ভাঙ্গারী বাবু এখনও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন গোপন বৈঠক ও মিছিল-মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করেন এবং আর্থিক সহায়তা দিয়ে সংগঠনের কার্যক্রম সচল রাখার চেষ্টা করছেন। তাদের দাবি, সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লা, কাউন্সিলর বাপ্পি ও পিস্তল সোহেলের পক্ষে তিনি এখনও সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন।
অভিযোগের বিষয়ে ভাঙ্গারী বাবু বলেন, তিনি দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন। স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতার উদ্যোগে তিনি মুক্তি পেয়েছেন। বর্তমানে তিনি এলাকায় খুব একটা চলাফেরা করেন না বলেও দাবি করেন।
অন্যদিকে, পল্লবী ও রূপনগর থানার সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


















