স্বজনদের অভিযোগ—পুলিশ আসামিপক্ষের সুবিধাভোগী; বাচ্চাদের লাশ দেখতে দেওয়া হয়নি, ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম
রাজু আহমেদ | প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৫
রাজধানীর মিরপুরে চার সন্তানের জননী সৈয়দা ফাহমিদা তাহসিন কেয়া (২৬) কে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার স্বজনরা। নিহতের মা নাজমা বেগম থানায় দায়েরকৃত এজাহারে উল্লেখ করেছেন, মাদকাসক্ত ও নারীসঙ্গপ্রিয় স্বামী সিফাত আলী (৩১) দীর্ঘদিন ধরে তার মেয়েকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছিল।
১৪ আগস্ট রাত সাড়ে ১২টার পর থেকে রাত ১টা ৫৬ মিনিটের মধ্যে পশ্চিম শেওড়াপাড়া শামীম সড়কের অনামিকা কনকর্ড টাওয়ারের ফ্ল্যাটে কেয়াকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ। পরে আসামিরা কৌশলে হাসপাতালে নেওয়ার নাটক সাজায়। বিআরবি হাসপাতালে পৌঁছে এক সহযোগী সরাসরি স্বীকার করে—সিফাত আলী কেয়াকে মেরে ফেলেছে।
স্বজনদের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়; সুপরিকল্পিত হত্যা। কিন্তু মিরপুর মডেল থানা পুলিশ আসামিপক্ষ থেকে সুবিধা নিয়ে সত্য গোপনের চেষ্টা করছে। এমনকি নিহতের চার শিশুসন্তানকেও মায়ের লাশ দেখতে দেয়নি পুলিশ। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্বজনরা আজ শুক্রবার (১৫ আগস্ট) সন্ধ্যা থেকে লাশ নিয়ে থানার সামনে অবস্থান নেন।
এসময় শতশত মানুষের উপচেপড়া ভিড়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন নিহতের স্বজনরা। খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা থানা ঘেরাও করে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ওসি ও তদন্ত কর্মকর্তা দ্রুত থানার ভেতরে নিজেদের রুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন।
স্থানীয়রা জানান, নিহতের স্বামী সিফাত আলীর মিরপুরে একাধিক মার্কেট ও বিপুল সম্পদ রয়েছে, যার প্রভাবেই পুলিশ সত্য ঘটনা উড়িয়ে ‘আত্মহত্যা’ হিসেবে চালাতে চাইছে। একাধিক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “৫ আগস্টের পরও পুলিশ ভালো হয়নি, সয়ং আল্লাহ চাইলে হয়তো ভালো করতে পারেন।” আরেকজন বলেন, “এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে শুধু আসামি নয়, মিরপুর মডেল থানার ওসি ও তদন্ত কর্মকর্তাকেও আইনের আওতায় আনতে হবে। শুধু বদলি বা সাময়িক বরখাস্ত করলে চলবে না; যখনই অভিযোগ হবে, সেটি আদালতের মাধ্যমে বিচার হলে তবেই পুলিশ সত্যের পক্ষে কাজ করবে।”
নিহতের বাবা, প্রবাসী সৈয়দ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ গণমাধ্যমকে বলেন, “এসআই রোকন ও তদন্ত কর্মকর্তা রাজিব আসামিপক্ষের সঙ্গে কনভিউস্ট হয়ে শুরুতেই ভুল তথ্যভিত্তিক রিপোর্ট দিয়েছে। পুলিশ উপস্থিত হয়ে দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করলেও সেখানে কোনো লাশ ছিল না। অথচ তারা রিপোর্টে উল্লেখ করেছে, ভেতরে ঢুকে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এটি সরাসরি সত্য গোপনের অপচেষ্টা।”
শোকাহত পরিবারের পক্ষ থেকে আল্টিমেটাম দিয়ে বলা হয়েছে—২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামী সিফাত আলীসহ এজাহারভুক্ত সব আসামীকে গ্রেপ্তার করতে হবে। অন্যথায় তারা আরও কঠোর কর্মসূচিতে যাবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মিরপুর মডেল থানার ওসি ও তদন্ত কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তারা থানা গেট বন্ধ করে জনসাধারণ ও গণমাধ্যমের প্রবেশে বাঁধা দিয়েছেন।