মঙ্গলবার , ১৬ জানুয়ারি ২০১৮ | ৩০শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন ও আদালত
  3. আওয়ামীলীগ
  4. আন্তর্জাতিক
  5. খেলাধুলা
  6. জাতীয়
  7. তথ্য-প্রযুক্তি
  8. ধর্ম
  9. বি এন পি
  10. বিনোদন
  11. বিশেষ সংবাদ
  12. রাজধানী
  13. লাইফস্টাইল
  14. শিক্ষা
  15. শিল্প ও সাহিত্য

হারিয়ে যেতে বসেছে বাবুই পাখি ও তার শৈল্পিক নিদর্শনের বাসা।

প্রতিবেদক
bangladesh ekattor
জানুয়ারি ১৬, ২০১৮ ৪:২১ পূর্বাহ্ণ

হারিয়ে যেতে বসেছে বাবুই পাখি ও তার শৈল্পিক নিদর্শনের বাসা।

একটা সময় গ্রামের বাড়িগুলোতে কিংবা পথের পাশের তালগাছের দিকে লক্ষ করলেই চোখে পড়ত বাবুই পাখির বাসা। সকাল থেকে সাঁঝের বেলা পর্যন্ত চলত তাদের বাসা তৈরির কারুকাজ। বাবুই পাখির মতো করে এমন নিখুঁত বাসা তৈরির কাজ আর কোনো পাখি করতে পারে না। বৈচিত্র্যের দিক থেকে এই পাখির বাসা কেবল দৃষ্টিনন্দনই না, বরং আর্কিটেকচারাল দিক থেকেও নিখুঁত। বিশেষ করে ঝড়-বৃষ্টি ও বাতাসের কারণে এর টিকে থাকার বৈশিষ্ট্য চোখে পড়ার মতো। অধিক জনসংখ্যায় ভারে নূব্জ বাংলাদেশ হতে হারিয়ে যেতে বসেছে বাবুই পাখি ও তার শৈল্পিক নিদর্শনের বাসা।
গ্রামে এখন মাইলের পর মাইল হেঁটে গেলেও বাবুই পাখির ঝুলন্ত বাসা চোখে পড়ে না।
বাংলাদেশে দিনে দিনে মানুষ বাড়লেও কমছে পশু-পাখির সংখ্যা। অসচেতনতা, পাখি শিকার এবং আবাসন ব্যবস্থার কারণে গাছ কেটে ফেলার কারণে গ্রামবাংলার এই নিপুণ বাসা তৈরির কারিগর বাবুই পাখি আজ বিলুপ্তির পথে। বাবুই পাখিকে মূলত শিল্পীপাখি বলা হয়। বাবুই পাখির সংখ্যা দিনে দিনে কমে আসছে। এর পেছনের কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে ফসলি জমিতে বিষ প্রয়োগ। কারণ বাবুই পাখি সাধারণত বিভিন্ন ফসলের বীজ, ধান, পোকা, ঘাস, ছোট উদ্ভিদের পাতা, ফুলের মধু, রেণু প্রভৃতি খেয়ে জীবনধারণ করে। ফসলি জমিতে অতিরিক্ত বিষ প্রয়োগের কারণে বাবুই পাখির খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে বিপণ্ন পাখির তালিকায় উঠে এসেছে বাবুইয়ের নাম।
বিশিষ্ট পাখি পর্যবেক্ষক ও পাখি বিশেষজ্ঞ ইনাম আল হক জানান, ‘বাংলা বাবুই, যার নামের শেষে বেঙ্গেলেনসিন আছে, তাই এরা বাংলার বাবুই। তিনি জানান, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই এ পাখি দেশ থেকে বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। বাংলাদেশে মাত্র ১০০টি বাংলা বাবুই থাকতে পারে।’ তিনি অরও জানান, ‘২০০৪ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পেছনের এক গ্রামে হোগলার বনে কিছু বাসা দেখেছিলাম, কিন্তু কয়েক দিন পর গিয়ে আর একটি বাসাও দেখতে পাইনি; মানুষ বাসাগুলো ভেঙে ফেলেছে!

কিছু প্রজাতির বাবুই পাখির বসবাস নল ও হোগলার বনে।এখন সেখানে মানুষের চলাচল থাকে। বাবুই বাসা বোনে মানুষের হাতের নাগালে পাঁচ থেকে ছয় ফুট ওপরে। তাই সহজেই গ্রাম কিংবা চর এলাকার অসচেতন মানুষ এদের বাস ভেঙে ফেলে। এ কারণে অধিকাংশ বাবুই ডিম ফুটিয়ে ছানা বড় করে তুলে নিতে পারে না।
আজকাল বাবুয়ের বাসা গাছের ডালপালা থেকে খুলে এনে ঢাকা শহরের বিভিন্ন মার্কেটে শোপিছ হিসাবে ৭০ থেকে ১০০/১৫০ টাকায় বিক্রি করা হয়। বন্যপাখি বিশেষত অথিতি পাখি নিধন ও বিক্রি বন্ধে সরকার যেরকম আইন করেছে!!! জানিনা এরকম পাখির বাসা ছিনিয়ে নেবার ব্যাপারে সরকারের কোন আইন আছে কিনা?
থাকলেও সে আইন যে কার্যকর নয় তা নিউমার্কেটে গেলেই বোঝা যায়।

যেহেতু এ পাখি মানুষের খুব নাগালে বাসা বোনে, তাই মানুষের সচেতনতাই পারে এ পাখির বংশ টিকিয়ে রাখতে।
দিন দিন বাবুই পাখির সংখ্যা এতটাই কমে যাচ্ছে হয়তো অদূর ভবিষ্যৎতে বাবুই পাখি চোখেই পড়বে না। তাই প্রকৃতির সৌন্দর্য ধরে রাখতে আমাদের সচেতন হতে হবে। গড়ে তুলতে হবে সামাজিক ঐক্য। পাখি শিকার এবং অকারণে গাছ কেটে ফেলা থেকে বিরত থাকতে হবে। আমরা সচেতন হলে প্রকৃতির কোনো কিছুই আর হারিয়ে যাবে না।

সর্বশেষ - সর্বশেষ সংবাদ