মঙ্গলবার , ৯ জুলাই ২০২৪ | ৩০শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন ও আদালত
  3. আওয়ামীলীগ
  4. আন্তর্জাতিক
  5. খেলাধুলা
  6. জাতীয়
  7. তথ্য-প্রযুক্তি
  8. ধর্ম
  9. বি এন পি
  10. বিনোদন
  11. বিশেষ সংবাদ
  12. রাজধানী
  13. লাইফস্টাইল
  14. শিক্ষা
  15. শিল্প ও সাহিত্য

পুলিশের এডিসি ও স্ত্রীর নামে ১১ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ

প্রতিবেদক
bangladesh ekattor
জুলাই ৯, ২০২৪ ৯:৪৮ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশ একাত্তর;

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপির) অতিরিক্ত উপকমিশনার (ক্রাইম) মোহাম্মদ কামরুল হাসান ও তার স্ত্রী সায়মা বেগমের নামে থাকা ১১ কোটি ৩৪ লাখ ৩৫ হাজার ৯১৯ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

চট্টগ্রামের মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক বেগম জেবুন্নেছা এ নির্দেশ দেন। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চট্টগ্রাম-১-এর সহকারী পরিচালক মো. এমরান হোসেনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ মঙ্গলবার এ আদেশ দেওয়া হয়।

দুদক চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক এমরান হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে মোহাম্মদ কামরুল হাসানের ৯ কোটি ৭৩ লাখ ২২ হাজার ৪৪ টাকার জ্ঞাত আয়ের উৎস বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে। একইভাবে তার স্ত্রী সায়মা বেগমের নামে ১ কোটি ৬২ লাখ ৮৫ হাজার ১৮৮ টাকার জ্ঞাত আয়ের উৎসবহির্ভূত সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া যায়।

গত মাসে দুদক প্রধান কার্যালয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় এ সকল সম্পদ যাতে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হস্তান্তর করতে না পারেন, সে জন্য দুদকের পক্ষ থেকে সম্পত্তি ক্রোকের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়।

দুদকের অনুসন্ধানে দুজনের নামে দেশের কোথায় স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ আছে, তা উল্লেখ করে ক্রোক আবেদনে বলা হয়েছে, উল্লিখিত দুজন অসাধু উপায়ে অর্জিত অপরাধলব্ধ সম্পদ অন্যত্র হস্তান্তর, বিক্রি ও বেহাত করার চেষ্টা করছেন। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে রাষ্ট্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ অবস্থায় দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা ২০০৭ (সংশোধনী ২০১৯)-এর বিধি ১৮ মোতাবেক দুজনের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করা প্রয়োজন। এ অবস্থায় আজ আদালত আবেদন মঞ্জুর করে ওই ক্রোক আদেশ দেন।

এ বিষয়ে দুদকের পিপি অ্যাডভোকেট কাজী ছানোয়ার আহমেদ লাভলু জানান, দুদক আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় উল্লিখিত দুজনের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ক্রোকের আবেদন করার পর মহানগর দায়রা জজ বেগম জেবুন্নেছা ক্রোকের আদেশ দিয়েছেন। এর ফলে দুজনের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ হস্তান্তর ও বেচাকেনার পথ বন্ধ হলো।

দুদক সূত্র জানায়, কামরুল হাসান ১৯৮৯ সালে উপপরিদর্শক (এসআই) হিসেবে পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করেন। পরে পদোন্নতি পেয়ে তিনি হাটহাজারী বাঁশখালীসহ বিভিন্ন থানায় ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। গত বছর নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার প্রসিকিউশন হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তাকে বদলি করা হয়। তিনি চট্টগ্রাম আদালতের হাজতখানার আসামিদের জন্য সরকারি বরাদ্দের খাবার বিতরণ না করে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বিল উত্তোলন করে নিতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তিনি সিএমপির অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) ক্রাইম হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।

দুদকের সহকারী পরিচালক এমরান হোসেন জানান, পুলিশ কর্মকর্তা কামরুল হাসানের নামে নগরের পাহাড়তলীতে বাড়ি ও খুলশী ডিআইজি অফিসের পাশে ২ হাজার ৫৭০ বর্গফুটের কোটি টাকা মূল্যের একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। এটি থেকে মাসিক ভাড়া পান ৭০ হাজার টাকা। এ ছাড়া অনন্যা আবাসিক এলাকায় প্লট আছে।

বাড়ি, ফ্ল্যাট, প্লট ছাড়াও ঢাকার সাভারে সাভার সিটি সেন্টার ও সাভার সিটি টাওয়ার নামে দুটি মার্কেটে মালিকানা রয়েছে কামরুল হাসানের। সরকারি কর্মকর্তা হয়েও ব্যবসা কিংবা সম্পত্তিগুলো ক্রয়ের সময় কোনো অনুমতি নেননি তিনি। এমনকি চট্টগ্রাম শহরে বাড়ি থাকলেও তা গোপন করে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) দেওয়া অনন্যা আবাসিক এলাকা থেকে প্লট নেন কামরুল হাসান।

তার স্ত্রী সায়মা বেগমের নামে রয়েছে চারটি নৌযান। দুদকের অনুসন্ধানে এ পর্যন্ত ১১ কোটি ৩৪ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। কামরুল হাসান ও তার স্ত্রীর নামে আর কোনো সম্পদ আছে কি না, তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে বলেও জানান এই দুদক কর্মকর্তা।

সর্বশেষ - সর্বশেষ সংবাদ