মোট টাকার বড় অংশ নির্দিষ্ট তহবিলে সংরক্ষিত, সাধারণ তহবিলে কার্যত ছিল মাত্র ২৫ কোটি টাকা
বাংলাদেশ একাত্তর (ডিএনসিসি) ৫ মার্চ ২০২৬
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)–এর তহবিল সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে জনমনে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি দূর করতে ব্যাখ্যা দিয়েছেন ডিএনসিসি প্রশাসক মো: শফিকুল ইসলাম খান।
তিনি জানান, সাবেক প্রশাসক দায়িত্ব হস্তান্তরের সময় কর্পোরেশনের ২৬টি ব্যাংক হিসাবের মধ্যে ১ হাজার ২৬০ কোটি ১৫ লাখ ৫১ হাজার টাকা থাকার যে দাবি করেছেন, তার বেশিরভাগই বিভিন্ন নির্দিষ্ট তহবিলে সংরক্ষিত অর্থ। এসব অর্থ সাধারণ খাতে ব্যয় করা যায় না।
প্রশাসক বলেন, সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা এবং ঠিকাদারদের বিল পরিশোধ করা হয় কর্পোরেশনের সাধারণ তহবিল থেকে। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি তিনি দায়িত্ব গ্রহণের সময় সাধারণ তহবিলে নগদ অর্থ ছিল মাত্র ২৫ কোটি টাকা। এছাড়া ফিক্সড ডিপোজিট হিসেবে ছিল ৬৪২ কোটি টাকা, যা আপদকালীন দায় মেটানোর জন্য সংরক্ষিত রয়েছে।
তিনি আরও জানান, চলতি মাসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ প্রায় ১৩ কোটি টাকা সংরক্ষিত ছিল। ফলে ঠিকাদারদের বিল পরিশোধের জন্য কার্যত অবশিষ্ট ছিল প্রায় ১২ কোটি টাকা।
ডিএনসিসি প্রশাসকের ভাষ্য, সাবেক প্রশাসকের উল্লেখ করা মোট অর্থের বড় একটি অংশ জামানত তহবিল, পেনশন তহবিল, শিক্ষা তহবিল এবং জিপিএফ (জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ড)–এর মতো নির্দিষ্ট খাতে ফিক্সড ডিপোজিট হিসেবে রক্ষিত রয়েছে। এসব তহবিলের অর্থ নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে সংরক্ষিত থাকে এবং তা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বা ঠিকাদারদের বিল পরিশোধে ব্যবহার করা যায় না।
উল্লেখ্য, ডিএনসিসির সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলাম–এর দায়িত্বকালীন ২০২৩–২৪ অর্থবছর শেষে কর্পোরেশনের সাধারণ তহবিলে নগদ অর্থ ছিল প্রায় ৫৯৭ কোটি টাকা।
প্রশাসক বলেন, কর্পোরেশনের আর্থিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে ফিক্সড ডিপোজিট নগদায়ন না করার বিষয়ে তিনি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
তিনি আরও বলেন, সিটি কর্পোরেশনের আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে সঠিক তথ্য জনসম্মুখে তুলে ধরা জরুরি। এ কারণে বিভ্রান্তি দূর করতেই এই ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।


















