সীমিত অফিস সময় ও ব্যাংকিং কার্যক্রমে বিপাকে সাধারণ মানুষ; সেবার মান ও সময়সূচি পুনর্বিবেচনার দাবি।
রাজু আহমেদ : ৩ জুন ২০২৬
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরকারি অফিস ও ব্যাংকের সীমিত কার্যক্রম নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। সেবা নিতে এসে অনেকেই অভিযোগ করছেন, অল্প সময়ের অফিস কার্যক্রমের কারণে দিনের কাজ দিনে শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে একটি কাজের জন্য বারবার অফিস ও ব্যাংকে যেতে হচ্ছে, যা সময়, অর্থ ও শ্রমের অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে।

বিকাল ৪টা। ব্যাংকের শাটার নেমে গেছে। সেবা নিতে আসা অনেক গ্রাহক ফিরে যাচ্ছেন খালি হাতে। সীমিত ব্যাংকিং সময়ের কারণে প্রতিদিনই এমন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
শুধু ব্যাংক নয়, সীমিত অফিস সময়ের কারণে সরকারি হাসপাতাল, ভূমি অফিস, পাসপোর্ট অফিস, সিটি করপোরেশন, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও অন্যান্য সরকারি সেবাপ্রতিষ্ঠানেও প্রতিদিন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ নাগরিকরা। অনেকের অভিযোগ, একটি ছোট কাজ শেষ করতে বারবার অফিসে যেতে হচ্ছে। ফলে সময়, অর্থ ও শ্রমের অপচয়ের পাশাপাশি বাড়ছে জনদুর্ভোগ।
ভুক্তভোগীদের মতে, সরকারি অফিসে কোনো নথি জমা দেওয়া, অনুমোদন নেওয়া কিংবা সাধারণ প্রশাসনিক কাজ সম্পন্ন করতে অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। ফলে ১০ মিনিটের কাজ শেষ করতেও কয়েকদিন এমনকি সপ্তাহ পেরিয়ে যায়। একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে ব্যাংকিং সেবা নিয়েও।
গ্রাহকদের দাবি, ব্যাংকের কার্যক্রম শেষ হওয়ার নির্ধারিত সময় ঘনিয়ে এলে অনেক শাখায় নতুন লেনদেন গ্রহণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন। বিশেষ করে কর্মজীবী মানুষ, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, প্রবীণ নাগরিক এবং গ্রামাঞ্চল থেকে আসা গ্রাহকরা সবচেয়ে বেশি সমস্যার মুখোমুখি হন।
সচেতন নাগরিকদের একটি অংশ মনে করেন, ব্যাংকিং সেবার সময় আরও বাড়ানো গেলে গ্রাহকের চাপ কমবে, দীর্ঘ লাইন হ্রাস পাবে এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও তুলনামূলক স্বস্তিতে কাজ করতে পারবেন। এতে দিনের কাজ দিনেই সম্পন্ন করার সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং জনভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
এদিকে অনেক প্রবীণ ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষ দিনের বেলা ব্যক্তিগত বা পেশাগত কাজ শেষ করে ব্যাংকে পৌঁছাতে না পেরে নগদ অর্থ বাসায় রাখতে বাধ্য হন। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এতে চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। অতীতেও নগদ অর্থ সংরক্ষণকে কেন্দ্র করে নানা দুর্ঘটনা ও অপরাধের ঘটনা ঘটেছে।
জনসেবাকে আরও সহজ ও কার্যকর করতে সরকারি অফিস ও ব্যাংকিং সময়সূচি বাস্তবতার আলোকে পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন সেবা গ্রহীতারা। তাদের মতে, জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সেবার সময় ও ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় সংস্কার আনা হলে লাখো মানুষের দুর্ভোগ কমবে এবং সেবার গতি বাড়বে।


















