১৮ বছর পর দেশের মাটিতে পা রাখলেন তারেক রহমান; বিজয়ের মাসে ঢাকায় কোটি মানুষের উপস্থিতিতে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য, মায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ এভারকেয়ার হাসপাতালে।
বাংলাদেশ একাত্তর: সংবাদ
তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এক সময় দৃঢ় কণ্ঠে বলেছিলেন— “তারেক রহমান যেদিন দেশে ফিরবে, সেদিন লক্ষ-কোটি মানুষ এয়ারপোর্টে তাকে রিসিভ করতে যাবে।” সময়ের ব্যবধানে সেই বক্তব্য অনেকের কাছে রাজনৈতিক আশাবাদ মনে হলেও, আজ ২৫ ডিসেম্বর বিজয়ের মাসে তার বাস্তব প্রতিফলন দেখলো বাংলাদেশ। দীর্ঘ ১৮ বছর পর তারেক রহমান দেশের মাটিতে পা রাখতেই প্রমাণ হলো—মায়ের দোয়া ও প্রত্যয় ইতিহাসে রূপ নেয়।
তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে তিন দিন আগেই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে লাখো মানুষ ঢাকামুখী হতে শুরু করেন। রাজধানীর গাবতলী–ঢাকা তিনশ ফিট সড়ক ও এলাকায় রূপ নেয় এক অভূতপূর্ব জনসমুদ্রে। প্রত্যক্ষদর্শী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সমাগম শুধু একটি দলের কর্মসূচি নয়, বরং এটি ছিল গণআকাঙ্ক্ষার বিস্ফোরণ। কোটি মানুষের উপস্থিতিতে ঢাকার তিনশো ফিট সড়ক এলাকায় তারেক রহমান সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন, যা ইতোমধ্যে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অনন্য নজির হিসেবে আলোচিত হচ্ছে। অনেকেই একে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম এমন গণসমাবেশ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
দেশে পৌঁছে প্রথমেই তারেক রহমান ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়ে তাঁর মা বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। দীর্ঘদিন পর মা–ছেলের এই সাক্ষাৎ রাজনৈতিক অঙ্গনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মাঝেও আবেগের সৃষ্টি করে। এরপর তিনি সরাসরি তিনশো ফিট এলাকায় উপস্থিত হয়ে জনতার উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন।
বক্তব্যে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার কথা তুলে ধরেন বলে
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বিজয়ের মাসে তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তনকে অনেকেই রাজনৈতিক মোড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই জনসমাগম প্রমাণ করে—তারেক রহমানকে ঘিরে জনসমর্থন শুধু স্মৃতির বিষয় নয়, বরং এটি এখনও বাস্তব ও শক্তিশালী। মায়ের বলা সেই ভবিষ্যদ্বাণী আজ বাস্তবে রূপ নেওয়ায় বিএনপির নেতাকর্মীরা একে ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে বিবেচনা করছেন।
দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ দিনটি তাই শুধু একটি প্রত্যাবর্তনের দিন নয়, বরং গণমানুষের শক্তি প্রদর্শনের এক স্মরণীয় অধ্যায় হিসেবেই চিহ্নিত হয়ে

















