ফুটপাত দখলমুক্ত করে জনগণের চলাচলের জন্য আধুনিক টাইলসযুক্ত হাঁটার পথ নির্মাণ করা হোক।
ঢাকা, ৩ আগস্ট ২০২৫:
রাজউকের নকশা উপেক্ষা করে রাজধানীর পল্লবী পুরাতন থানা সংলগ্ন মিরপুর ১২-সি ব্লকের ১০ নম্বর রোডের ১ নম্বর বাড়ীটি গড়ে উঠেছে একটি অবৈধ সাততলা ভবন। সাড়ে ছতলা পর্যন্ত গড়ে তোলার পর ভবনের মালিক বাইরের দিকে ঝুলন্ত লোহার সিঁড়ি নির্মাণ করেছেন, যা যেকোনো সময় ভেঙে পড়লে মারাত্মক দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
ভবনটির মালিক ৬ তলা পর্যন্ত অনুমোদন নিলেও, অতিরিক্ত সাড়ে তলা নির্মাণ করে সব ফ্ল্যাট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কোচিং সেন্টার ও দোকান হিসেবে ভাড়া দিয়ে মাসে লাখ লাখ টাকা আয় করছেন। আবাসিক এলাকায় এমন বানিজ্যিক ব্যবহার এবং নকশা বহির্ভূত নির্মাণে জননিরাপত্তা মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়েছে।
এর আগেও এই ভবন থেকে ভয়াবহ দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। ভবনের সাড়ে ছতলায় এসি লাগাতে গিয়ে এক কর্মী ওপর থেকে নিচে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন। তার মাথা ফেটে যায় এবং সারা শরীরে রক্তাক্ত জখম হয়। পরে তিনি বেঁচে ছিলেন কিনা সে বিষয়ে কেউ নিশ্চিত তথ্য দিতে পারেননি। এই ঘটনার পরও কোনো তদন্ত হয়নি, হয়নি কোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপ। অথচ ভবনের সামনেই রয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর অফিস, রাজউক কর্মকর্তারা প্রতিদিনই এই সড়ক দিয়ে চলাচল করেন।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন—”প্রশাসনের এত লোক চলাফেরা করলেও কেন এই ভয়াবহ অনিয়ম কেউ দেখতে পায় না?”
এখানেই থেমে থাকেনি ভবন মালিকের দখলবাজি। ভবনের নিচে জনগণের হাঁটার ফুটপাত দখল করে গড়ে তুলেছেন একাধিক দোকান। পুরাতন থানা রোডের সি-ব্লক সাইড জুড়ে ফুটপাতের উপর দখলদারি চালিয়ে এসব দোকানপাট তৈরি করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামিলীগ আমলে ওয়ার্ড কাউন্সিলর থাকাকালীন সাজ্জাদ হোসেনের মদদেই এইসব অবৈধ স্থাপনা হয়েছে। যদিও বর্তমানে তিনি কাউন্সিলর নন, তথাপি বিএনপি নেতার পরিচয়ে এখনও এলাকার বিভিন্ন বিষয় নিয়ন্ত্রণ করছেন।
এলাকাবাসীর দাবি: ঝুঁকিপূর্ণ লোহার সিঁড়ি অবিলম্বে ভেঙে ফেলা হোক। রাজউকের নকশা বহির্ভূত অংশ উচ্ছেদ করে ভবনকে অনুমোদিত কাঠামোতে আনা হোক।
দখলদার রাজনীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। ভবন মালিক ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে পূর্বের দুর্ঘটনার তদন্ত এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।


















