সুমন মাস্টার: প্রকাশ, ৬ এপ্রিল ২০২৫
রাজধানীর পল্লবীতে ছিনতাইকারী সন্দেহে আটক যুবক রিয়াদ হোসেনের (৩৪) মৃত্যুর পরে পুলিশ কর্তৃক ঘুস নেওয়ার অভিযোগ উত্থাপন করা হচ্ছে। তার পরিবার দাবি করেছে, পুলিশ হেফাজতে রিয়াদের মৃত্যুর পর তাদের ঘুসের টাকা ফেরত দেওয়া হয়। তবে পুলিশ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং বলছে, রিয়াদ অপরাধী দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
গত ৩০ মার্চ ২০২৫ রোববার ভোরে রিয়াদকে ছিনতাইকারী সন্দেহে স্থানীয় জনতার গণপিটুনির শিকার হতে হয়। এরপর তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থানকালীন তাকে নির্যাতন করা হয়নি বলে দাবি করছে পুলিশ।
রিয়াদের স্ত্রী, প্রিয়া, জানিয়েছেন যে, তিনি প্রথমে পুলিশ স্টেশনে গিয়ে তাকে আহত অবস্থায় দেখতে পান। পরে আসা তার বিস্তারিত জানিয়েছেন যে, এসআই আশরাফুল তার কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা দাবি করেন। তিনি ২০ হাজার টাকা জোগাড় করে দেন। এরপর সোমবার সকালে পুলিশ তাকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিতে বলে, কিন্তু ভোরে তার মৃত্যু ঘটে।
পল্লবী থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম বলেছেন, যদি ঘুস লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া যায় তবে সংশ্লিষ্ট এসআইয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও দাবী করেন যে, রিয়াদের বিরুদ্ধে স্থানীয় অপরাধী গ্রুপের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ রয়েছে এবং সে গ্রুপ ছিনতাইয়ে সক্রিয় ছিল।
পুলিশের অভিযোগে বলা হয়েছে, স্থানীয়রা রিয়াদকে আটক করে গণপিটুনি দেয় এবং তার প্রাইভেট কারে থাকা অপর দুই ছিনতাইকারী পালিয়ে যায়। রিয়াদকে সেনাবাহিনী হাসপাতালে ভর্তি করতে চেষ্টা করে, কিন্তু সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
রিয়াদের পরিবার তথা স্ত্রী প্রিয়া দাবি করেছেন, তার স্বামী কোন অপরাধী দলে যুক্ত ছিলেন না। তিনি বিভিন্ন শখের মধ্যে নাচতেন এবং গাড়ি ভাড়া দিয়ে জীবনযাপন করতেন।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে এলাকাবাসী এবং অধিকার গোষ্ঠীগুলি তদন্তের দাবি জানিয়েছে এবং রিয়াদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে সঠিক তথ্য পাওয়া দাবি করছে।