আওয়ামী দোসর এবার অভিভাবক প্রতিনিধি!
পল্লবী প্রতিনিধি: প্রকাশ, ২৩ এপ্রিল ২০২৫
পল্লবীর এমডিসি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অভিভাবক প্রতিনিধি নির্বাচনে এক সময় ছাত্রজনতার ওপর হামলা চালানো, রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত আওয়ামী ঘরানার নেতা জাহাঙ্গীর আলম প্রার্থী হওয়ায় পুরো পল্লবীতে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা ও নিন্দার ঝড়।
জানা গেছে, জাহাঙ্গীর সি-ব্লক ইউনিট আওয়ামী লীগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। তার বিরুদ্ধে স্থানীয় ছাত্র ও যুবকদের ওপর হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনসহ একাধিক অভিযোগ দীর্ঘদিনের। আওয়ামী শাসনামলে ক্ষমতার অপব্যবহার করে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজির অভিযোগও উঠেছে।
সরকার পতনের পর কিছুদিন লোকচক্ষুর আড়ালে থাকলেও সম্প্রতি বিএনপির এক পল্টিবাজ সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলরের আশ্রয়ে থেকে আবারও এলাকায় সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। তাকে সামাজিক অনুষ্ঠানে ওই নেতার পাশে দেখা যাচ্ছে। সেই সুযোগেই এখন নাম লিখিয়েছেন স্কুলের অভিভাবক প্রতিনিধি নির্বাচনে।
এমডিসির অধ্যক্ষ আনোয়ার হোসেন বলেন, “২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাজ্জাদ হোসেন এসেছিলেন, তিনি জাহাঙ্গীর আলম নিজের ভাগ্না হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তিনি বলেন, কাউন্সিলর বলেছিলেন আওয়ামী লীগের সাথে কোনো তার সংপৃক্ততা নেই। কিন্তু এখন দেখি বিভিন্ন ছবি আসছে। এক প্রশ্নে তিনি বলেন, আওয়ামী দলে কোনো পদবী আছে কি না জানি না। অধ্যক্ষ বলেন, আমি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো, তারা যে সিদ্ধান্ত নেবে সেটাই কার্যকর হবে।”
আওয়ামী লীগের নেতা হয়েও প্রকাশ্যে চলাফেরা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অভিভাবক প্রতিনিধি নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে জানতে জাহাঙ্গীরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি নির্বাচন করছি।” প্রতিবেদক জানতে চান, “আপনি আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেছেন, আমাদের কাছে বিভিন্ন ছবি আছে।” জবাবে তিনি বলেন, “ছবি থাকলে সমস্যা কী? স্কুলে অনেকের সাথেই এমপিসহ আওয়ামী লীগের ছবি আছে।” এরপর আরেকটি প্রশ্ন করতেই তিনি ব্যস্ততা দেখিয়ে ফোনটি কেটে দেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শুরু হয়েছে আলোচনার ঝড়। অনেকে বলছেন, এমন বিতর্কিত ব্যক্তি যদি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অভিভাবকদের প্রতিনিধি হন, তাহলে শিক্ষা ও শৃঙ্খলার পরিবেশ আরও প্রশ্নবিদ্ধ হবে।