পল্লবীর সবুজ বাংলা এলাকাবাসীর মানববন্ধন; চাঁদাবাজ, ধর্ষণ, ভূমিদস্যু ও অপপ্রচারকারীর বিচার দাবি জানানো হয়।
বাংলাদেশ একাত্তর : প্রকাশ ২৪ মার্চ ২০২৬
রাজধানীর পল্লবীর সবুজ বাংলা এলাকায় ‘প্রান্ত পারভেজ’ নামে পরিচিত এক ব্যক্তিকে ঘিরে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, গুজব ছড়ানোসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রভাব খাটিয়ে অর্থ আদায় করে আসছেন।
এলাকাবাসীর দাবি, চাঁদা না পেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেন তিনি। ‘জনতার আলো’ নামে একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও ফেসবুক পেজ ব্যবহার করে বিভিন্ন সংবাদ কপি করে সেখানে টার্গেট করা ব্যক্তিদের নাম জড়িয়ে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ‘আমরা নির্বিক’ নামে ভুয়া ফেসবুক আইডির মাধ্যমেও বিভিন্ন পোস্টে মন্তব্য ও শেয়ার করে গুজব ছড়ানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
গুজব মাস্টার প্রান্ত পারভেজের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, সেনাবাহিনীর নাম ভাঙিয়ে এক অসহায় নারীর কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করেছেন তিনি। একই সঙ্গে মাদক বাণিজ্যে সেল্টার সম্পৃক্ততা, ধর্ষণ, মসজিদের জমি দখলসহ নানা অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয়রা।
এ ব্যক্তির পরিচয় নিয়েও রয়েছে বিভ্রান্তি। কেউ তাকে ‘হানজালা’, কেউ ‘মো. পারভেজ’ নামে চেনেন। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, ‘প্রান্ত পারভেজ’ নাম ব্যবহার করে তিনি এলাকায় নতুন পরিচয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অতীতেও তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিএনপির নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং বিভিন্ন অপরাধ অপকর্মে একাধিক মামলার আসামি হয়েছেন।
এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি পল্লবী থানার তালিকাভুক্ত দাগি আসামি।এসব অভিযোগের প্রতিবাদে সবুজ বাংলা এলাকার বাসিন্দারা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছিলেন।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা তাকে চাঁদাবাজ, ভূমিদস্যু ও অপপ্রচারকারী উল্লেখ করে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চললেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে।
এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, একটি বেসরকারি টেলিভিশনের পরিচয় ব্যবহার করে তিনি নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দেন এবং সেই পরিচয়ের আড়ালে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয়দের দাবি, একটি জাতীয় টেলিভিশনের এক সাংবাদিকের সঙ্গে সোর্স হিসেবে কাজ করার মাধ্যমে তিনি এই পরিচয় লাভ করেন।
এ বিষয়ে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, “অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রান্ত পারভেজের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসীর দাবি, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হোক।

















