প্রতিবেদক প্রকাশ : ৩১ জানুয়ারি ২০২৫
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আবারও বিশেষ সুবিধা পাচ্ছে ঋণখেলাপিরা। বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের জন্য এই সিদ্ধান্তটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। গত সরকারের সময় বিভিন্ন নীতি প্রয়োগের মাধ্যমে ঋণখেলাপিদের সুবিধা দেওয়া হয়েছিল, যা আবারও শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ৫০ কোটি টাকার বেশি ঋণে বিশেষ পুনঃতপশিলের জন্য ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে।
কিন্তু এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে কিছু বাস্তবতা। গত ৫ আগস্ট নতুন সরকারের ব্যতিক্রমী কার্যক্রমের মাধ্যমে অনৈতিক ঋণ খাটানোর জন্য ঋণ খেলাপির সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, খেলাপি ঋণের পরিমাণ গত বছরের ৯ মাসে দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বর্তমানে ২ লাখ ৮৪ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। ব্যাংক খাতের মোট ঋণের ১৭ শতাংশ এখন খেলাপি।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই, ব্যবসায়ীরা পুনঃতপশিলের জন্য বিশেষ সুবিধার আবেদন জানিয়ে আসছিলেন। বাংলাদেশ ব্যাংক বিশেষ ছাড়ে পুনঃতপশিলের উদ্যোগ নিয়েছে, যেখানে ডাউন পেমেন্টের শর্ত শিথিল ও সুদ মওকুফের সুযোগ দেওয়া হবে। তবে, ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিরা এই সুবিধা পাবে না বলেও জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত পাঁচ সদস্যের যাচাই-বাছাই কমিটি বিশেষ পুনঃতপশিলের কার্যক্রমকে স্বচ্ছতা দেওয়ার কাজ করবে। এই কমিটি সাম্প্রতিক সময়ে সম্পন্ন বিভিন্ন ধরণের ক্ষতির কারণে ঋণের নিবীক্ষণ করবে।
কমিটিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মেজবাউল হক এবং অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ শাহরিয়ার সিদ্দিকী, এফআইডির যুগ্ম সচিব ড. দেলোয়ার হোসেন, অর্থনীতিবিদ মামুন রশিদ ও ব্যবসায়িক প্রতিনিধি আব্দুল হক অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে ঋণ পুনঃতপশিলের নিয়মিত করার সুযোগ এবং বৃহৎ ঋণখেলাপিদের আরো বিশেষ সুবিধার দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে, যা ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে।
এখন, বিশেষ সুবিধার আওতায় কীভাবে ঋণ পুনঃতপশিলের প্রক্রিয়া বাস্তবায়িত হবে, সেটির মূলে প্রশিক্ষণ এবং যেন নিশ্চিত করা যায় যে সেই সুবিধা প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য দেওয়া হচ্ছে। খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি পাচ্ছে, ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যয় বাড়ছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিদেশি বিনিয়োগকে প্রভাবিত করতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সবশেষ নীতিমালা অনুসারে, ব্যাংকগুলি সর্বাধিক চারবার ঋণ পুনঃতপশিল করতে পারে, যেখানে ডাউন পেমেন্টের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি মাথায় রেখে ব্যাংকের ঋণ পুনঃতপশিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা ২০২২ সালের নীতিমালার চেয়ে আরও সুবিধাজনক হতে চলেছে।
অতীতে দেখা গেছে, রাজনৈতিক বিবেচনায় ঋণ শ্রেণীকরণের নীতিগুলোর শিথিলতার ফলে দেশের ব্যাংকিং খাতের খেলাপি ঋণ সংখ্যা প্রকট বেড়েছে। ২০০৯ সালে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২২ হাজার কোটি টাকা, যা বর্তমানে ১৩ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ২ লাখ ৮৩ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
এই নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক লক্ষ্য রাখছে যাতে ঋণ পুনঃতপশিলের সুবিধা প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে পৌঁছে এবং দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।