জাতীয়, রাজধানী, রাজনীতি

সড়কে বিভিন্ন দোকানপাটে দুর্ঘটনার কারন

%e0%a6%b8%e0%a7%9c%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%ad%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a8-%e0%a6%a6%e0%a7%8b%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%9f%e0%a7%87-%e0%a6%a6
বাংলাদেশ একাত্তর.কম / নিজেস্ব প্রতিবেদক:
 
সড়ক ও ফুটপাত জুড়েই গড়ে উঠেছে হরেক রকম দোকানপাট। ফলে ফুটপাত ও সড়কের ৫০%ভাগ দোকানিদের দখলে এসব কারনেই সড়কে যানচলাচলে বিঘ্ন ঘটে। ঘটছে প্রায়ই ছোটবড় দুর্ঘটনা।
 
সরেজমিনে দেখা যায়, রাজধানীর মিরপুর-১২, সিএনজি পাম্প সিরামিক রোড হয়ে টেকের বাড়ী ও পল্লবীথানা নতুন ভবন পর্যন্ত।পল্লবী থানার নিকটে সেকশন-১২, ব্লক-সি, রোড-৪,৫,৬, ব্লক-এ, বাইতুল সালাম জামে মসজিদ। অন্যদিকে মিরপুর-১১, পুরবী থেকে কালসী রোড হয়ে মিরপুর জেনারেল হাসপাতাল চন্দ্রবিন্দু মোড় হয়ে নির্মাণাধীন ফ্লাইওভার কালসী কবরস্থান পর্যন্ত। বাউনিয়াবাধ সড়ক, লালমাটিয়া টেম্পুস্ট্যান্ড। মিরপুর-১১, ভাষানির মোড়, মিরপুর অরিজিনাল ১০ হোপের গলি। মিরপুর-সাড়ে-১১, থেকে রুপনগর দুয়ারীপাড়া ও ইস্টার্ন হাউজিং। দুয়ারীপাড়া মোড় হয়ে শিয়ালবাড়ী কবরস্থান।
ছবি- সড়কে বাজার, দুয়ারীপাড়া মোড় হয়ে মোল্লা টাওয়ার পর্যন্ত।
 
এ সব সড়কে আসা যাওয়ার দুপাশেই ফুটপাত ও মুল সড়কের ৫০% ভাগ দখল করে বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। কোনো নিয়ম কানুনের বালাই নেই যন্ত্রতন্ত্র পড়ে থাকতে দেখা যায় হরেক রকম নতুন পুরাতন মালামাল। বেশি চোখে পড়ে ভাংড়ির দোকান। লোহার গ্রিল ওয়ার্কশপ, মোটর সাইকেল গ্যারেজ, কাঠের দোকান। (ভ্যান-গাড়ী ভিত্তিক) কাঁচাবাজার। মাছ বাজার সহ ইত্যাদি।
 
অন্যদিকে মিরপুর, সেকশন ৬ ব্লক-সি, আদর্শ স্কুলের পিছনে সড়কে বাজার বসিয়ে প্রায়ই ৫ লাখ টাকা চাঁদাবাজি করছে কথিত যুবলীগ নেতা পরিচয়ে। সড়কে চাঁদা বানিজ্যকে কেন্দ্র করে মাঝে মধ্যেই চলে সংঘর্ষ। গত বছরে ফুটের চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে রুমান নামের এক যুবলীগ কর্মীকে খুন ও হতে হয়।
ছবি-কালসী রোড হয়ে মিরপুর জেনারেল হাসপাতাল চন্দ্রবিন্দু মোড় অস্থায়ী বিভিন্ন ধরনের দোকান।
 
ভাংড়ি দোকান গুলোর ব্যাপারে সবারই জানা আছে, এলাকার বাসা-বাড়ীতে চুরি, নির্মাণাধীন এ্যাপাটর্মেন্ট সাইডের লোহা লক্কর, সড়কের মাঝে থাকা লোহার জালি ইত্যাদি বিক্রি হয় অধিকাংশ এ সব দোকানে। এই সকল দোকানের মালিকরা অধিকাংশ তাদের নিজেস্ব চোর বাহিনী দ্বারা ব্যবসা দীর্ঘদিন ধরে করে আসছে। সেল্টার হিসেবে স্থানীয় কথিত নেতা, কথিত সাংবাদিক, থানা ও ফাড়ির পুলিশের যোগসাজশে। সড়কে কাঁচা বাজার বসানো ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙ্গিয়ে কথিত যুবলীগ নেতা পরিচয়ে থানা পুলিশ ম্যানেজ করেই চলে চাঁদাবাজি। মাঝেমধ্যে প্রশাসনের লোক দেখানো অভিযান বছরে দু-একবার হলেও সারা বছর জুড়েই চলে জনভোগান্তি।
 
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের অধীনে কাউন্সিলর, ওয়ার্ড-২, বিএনপি সমর্থিত সাজ্জাদ হোসেন। ওয়ার্ড-৩,বিদ্রোহী প্রার্থী কাজি জহিরুল ইসলাম মানিক। ওয়ার্ড-৫, আওয়ামীলীগ সমর্থিত আব্দুর রউফ নান্নু। ওয়ার্ড-৬, বিদ্রোহী প্রার্থী তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী।
 
এলাকার উন্নয়ন ও সামাজিক কাজের দায়বদ্ধতার কারনে এসব অনিয়ম তাদের চোখেই যেন পড়ে না। সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দ্বারা অভিযান পরিচালনা হলেও তা হয় স্থানীয় কাউন্সিলীদের পছন্দ মত।
 
নকলের ভিড়ে আসল চেনার উপায় নেই ক্ষমতাসীন দলের ভিতর উইপোকার মত উৎরাই চড়াই, উক্ত এলাকা গুলোর ঘুরে দেখা যায়, স্থানীয় বিএনপি অঙ্গসংগঠনের বেশির ভাগ লোক আওয়ামী অঙ্গসংগঠনের সাথে মিশে তাদের ফয়দা লুটে নিচ্ছে তাই নকলের ভিড়ে আসল চেনা বড় দায়। অনেক সময় শুনা যায় স্থানীয় এমপি, কাউন্সিলর বা নেতারা বক্তৃতার সময় যেভাবে সাধারণ মানুষদের প্রতিশ্রুতি দেন, তার ৫০ভাগ সত্য হলেও প্রতিটি এলাকায় অবাদে এমন অনিয়ম চলতে দেখা যেতোনা। প্রতিশ্রুতি দিলেও রাখতে পারছেনা অনেকেই।
সড়কে  বিভিন্ন দোকানপাটে দুর্ঘটনার কারন
ছবি- সেকশন-৬ ব্লক-সি, আদর্শ স্কুলের পিছনে সড়কে বাজার।
 
তবে পল্লবী শান্তি প্রিয় এলাকাবাসী মনে প্রানে ওসি হিসেবে দাদন ফকিরের আমল ভুলতে পারেনা। তারা আজও দাদন ফকিরের মত কর্মকর্তার অপেক্ষায়। তারা মনে করেন প্রশাসন চাইলেই সব অনিয়ম দুর করা সম্ভব, যার একমাত্র উদাহরণ পল্লবী থানার সাবেক ওসি জানাব দাদন ফকির।
 
এ বিষয়ে পল্লবী থানা সেচ্ছাসেবকলীগের সহসভাপতি জনাব আমান উল্লাহ বলেন, মিরপুর-১২ থেকে টেকের বাড়ী যে ভাবে অবাদে সড়ক জুড়ে বিভিন্ন দোকানপাট গড়ে উঠেছে তাতে যে-কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে এখনই প্রশাসনের পদক্ষেপ গ্রহন করা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। আর যারা ঘর মালিক এ সব দোকান বেশি টাকার আশায় ভাড়া দেয় তাদেরও আইনের আওতায় আনা উচিৎ।
 
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন অঞ্চল-২ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা এ.এস.এম সফিউল আজম বলেন, রুপনগর দুয়ারীপাড়া এলাকায় আমরা যে-কোন সময় অভিযান চালাবো। তবে পল্লবী টেকের বাড়ী এলাকায় এর পরে অভিযান চলবে।
 
৬নং ওয়ার্ড, কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম বলেন, আমার এলাকার সড়কে ফুটপাতে কোনো দোকান থাকবেনা।
 
৫নং ওয়ার্ড, কাউন্সিলর আবদুর রউফ নান্নুর ব্যবহারিক মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
 
৩নং ওয়ার্ড, কাউন্সিলর কাজী জহিরুল ইসলাম মানিক বলেন, ফুটপাত সড়কে যারা দোকান করে তারা আমার কোন দলের লোকনা, এবিষয়ে আমি সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে খুব শীগ্রই উচ্ছেদ করা হবে।
২নং ওয়ার্ড, কাউন্সিলর সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ফুটপাতের টাকা আমি খাইনা এবিষয়ে আমি জানিনা। তবে সিটি করপোরেশন মাঝে মধ্যে অভিযান চালায় তারা আবার বসে।
 
এ বিষয়ে পল্লবী থানার ওসি কাজী ওয়াজেদ আলী বলেন, আমি নতুন এসেছি আপনারা আমাকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করুন।
 
এ বিষয়ে রুপনগর থানার (ওসি) আবুল কামাল আজাদ বলেন, কাদের থাকবেনা সে শুধু সময়ের ব্যাপার মাত্র। তিনি আরো বলেন, দুয়ারীপাড়া বাজার পুরোপুরি উঠবেনা, ডিসি স্যারের সাথে আলাপ হইছে শিয়ালবাড়ী কবর স্থান থেকে আবাসিক ৩৯ নম্বর রোড পর্যন্ত সড়কে যাতে কোন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয় সেই ব্যবস্থা করা হবে।
Print Friendly, PDF & Email
Comments
Share
bangladesh ekattor

bangladesh ekattor

বাংলাদেশ একাত্তর.কম

Reply your comment

Your email address will not be published. Required fields are marked*

1 × three =