দা-লাঠি-রড নিয়ে সংঘবদ্ধ হামলা, আহত একাধিক; ৯৯৯ কলের পর পুলিশ উদ্ধার—মামলার হুমকির অভিযোগ
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: শুক্রবার | ১লা মে ২০২৬
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে পথসংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে একটি পরিবারের ওপর সংঘবদ্ধ হামলা, ভাঙচুর, নারী লাঞ্ছনা ও হত্যাচেষ্টার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী খোরশেদ আলম (৫২) সদর মডেল থানায় দায়েরকৃত এজাহারে জানান, তিনি ও অভিযুক্তরা পৃথক মালিকের কাছ থেকে পাশাপাশি জমি ক্রয় করেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে তাদের বসতবাড়িতে যাতায়াতের পথ নিয়ে বিরোধ চলছিল।
অভিযোগ, পূর্বে অভিযুক্তরা ওই পথে বাউন্ডারি দেয়াল তুলে চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে এবং এ নিয়ে প্রতিবাদ করায় খোরশেদ আলম ও তার পরিবারকে হত্যার হুমকি দেয়।
এজাহারে বলা হয়, গত ৩০ এপ্রিল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকায় বসবাসরত খোরশেদ আলম পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাড়িতে গেলে যাতায়াতের পথ বন্ধ দেখে তারা প্রতিবাদ করেন। এতে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে দা, ছেনি, লাঠি-সোটা ও লোহার রড নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে তাদের বসতবাড়ির সীমানায় প্রবেশ করে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, হামলাকারীরা দোচালা টিনের ঘরের বেড়া কুপিয়ে ও ভাঙচুর করে প্রায় দেড় থেকে দুই লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করে।
এসময় বাধা দিতে গেলে খোরশেদ আলমসহ তার তিন ছেলে—আবুল আলম মুন্না (২৮), মনতাজিল মাহমুদ মৃদুল (২২) ও জুলফিকার হায়দার রাহিম (১৪)—কে পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।
এছাড়া, তার স্ত্রী তাছলিমা বেগম (৪৫)-এর শ্লীলতাহানির অভিযোগও আনা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, দুইজন অভিযুক্ত তার পরনের কাপড় টানাটানি করে লাঞ্ছিত করে। একাধিক ভিকটিমকে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলেও দাবি করা হয়েছে।
অভিযুক্তদের মধ্যে কেউ লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাত করতে গিয়ে পিঠে আঘাত করে মেরুদণ্ডে ক্ষতি করে, আবার কেউ লাঠি দিয়ে পিঠ ও কোমরে আঘাত করে গুরুতর জখম করে—এমন বর্ণনা রয়েছে এজাহারে।
ঘটনার সময় স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে তাদের সামনেই হামলাকারীরা ভুক্তভোগীদের মারধর করে এবং মামলা করলে প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলে অভিযোগ করা হয়।
পরবর্তীতে আশপাশের লোকজন জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের জরুরি নিবন্ধন নম্বরও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
খোরশেদ আলম জানান, তিনি ও তার সন্তানরা চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় এজাহার দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।
এ ঘটনায় একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।

















