রাজধানী

মিরপুরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদকালে পুলিশের সাথে দফায় দফায় সংঘর্ষঃ অবেশষে দখল মুক্ত সড়ক

%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a6%aa%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%85%e0%a6%ac%e0%a7%88%e0%a6%a7-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%a5%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%89%e0%a6%9a%e0%a7%8d

বাংলাদেশ একাত্তর.কম নিজেস্ব প্রতিবেদন:

রাজধানীর মিরপুরে পুরো সড়ক ও ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করে আসছিল কয়েকটি সুবিধাবাদী সিন্ডিকেট মহল। সেই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদকালে পুলিশের সাথে দফায় দফায় সংঘর্ষ বাধে। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) অভিযান চালাতে এলে দখলদাররা প্রথমে বাধা প্রদান করে। পরে তারা একজোট হয়ে হামলা ও চালায়।

উচ্ছেদ অভিযানের সময় তোলা ছবি-বাংলাদেশ একাত্তর

পুলিশের পাশাপাশি ঢাকা উত্তর মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতা মিলন ঢালী, আলামীন ইসলাম রিপন সহ ছাত্রলীগের  কর্মীরাও কঠোর ভুমিকা রেখেন। এ সময় ছাত্রলীগের দুই নেতা আহতের খবর পাওয়া গেছে। ব্যবসায়ীরা সংঘবদ্ধ হয়ে ইটপাটকেল ছুড়ছলে অবস্থা বেগতিক দেখা দেয়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য পুলিশ প্রথমে কাঁদানে গ্যাস ও পরে রাবার বুলেট ছুড়েন। পরে পরিস্থিতি সামাল দিতে আরো পুলিশের সদস্য মোতায়েন করা হয়।

উচ্ছেদ অভিযানে পুলিশের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের দুই নেতা, মিলন ঢালী ও আলামীন ইসলাম রিপন-ছবি :বাংলাদেশ একাত্তর

উচ্ছেদের আগে ডিএনসিসির পক্ষ থেকে নোটিশ করা হলেও তারা কোনো কর্নপাত করেনি। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় মিরপুর ১১-এর এভিনিউ-৪ (পল্লবীতে) অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে নামে ডিএনসিসি। সেখানে নিউ সোসাইটি মার্কেট ও মোহাম্মদীয়া মার্কেটের সামনে পুরো সড়ক জুড়ে থাকা অবৈধ দোকানপাট ভাঙতে চায় ডিএনসিসি। অবৈধভাবে মুল সড়ক ও ফুটপাত দখল করে হাজার হাজার দোকান বসে। ফলে ভাষানী মোড়ে সব সময়ই তিব্র যানজট লেগেই থাকতো। সড়ক থাকলেও যানবাহন চলাচল ওই সড়কে বন্ধ ছিলো। অবৈধ স্থাপনার কারনে প্রতিদিন ছোট-বড় দুর্ঘটনার সম্মুখীন হতে হতো পথচারিদের। দৈনিক লাখ লাখ টাকার চাঁদা কালেশন হতো ওই দোকানগুলো থেকে। অবাঙ্গালী (বিহাদের) নেতারা এই সড়ক ও ফুটপাত পরিচালিত করে বছরে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিতো।

আজ বিপুলসংখ্যক পুলিশসহ ডিএনসিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে শুরু হয় উচ্ছেদ অভিযান। একপর্যায়ে অবৈধ দখলদাররা প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ফুটপাতের ওপর থাকা একটি টিনশেড দোকান বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিলে দখলদাররা সংঘবদ্ধ হয়ে অভিযান টিমের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে তারা ঢিল ছুড়তে থাকলে পুলিশসহ উচ্ছেদ অভিযানে থাকা লোকবল পিছু হটে। পরে আবার উচ্ছেদ অভিযান শুরু করতে চাইলে সংঘর্ষ বেধে যায়। এভাবে দফায় দফায় সংঘর্ষ চলতে থাকে।

খবর পেয়ে বেলা সোয়া ১১টার দিকে ডিএনসিসির মেয়র আতিকুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সিটি কর্পোরেশন অঞ্চল ২-এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এএসএম শফিউল আজম অভিযানে নেতৃত্ব দেন।

স্থানীয়রা বলেন, এই সড়ক দখল মুক্ত হলে হাজার মানুষ নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবে। চুরি ছিনতাই কমবে সকল ধরনের যানবাহন ও চলতে পারবে। এখানে বড় একটা মাদকের সিন্ডিকেটের আখড়া ছিলো সব ধ্বংস হইছে। এ সময় তারা ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও অভিযানকারীদের সকলেই স্বাগতিক জানান।

Print Friendly, PDF & Email
Comments
Share
bangladesh ekattor

bangladesh ekattor

বাংলাদেশ একাত্তর.কম

Reply your comment

Your email address will not be published. Required fields are marked*

eight + ten =