জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে ত্যাগ ও আদর্শের প্রতীক তিন নেত্রী-বেগম মেহেরুননেছা হক, তাহসিনা রুশদি (লুনা) ইলিয়াস ও ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা-নিজ নিজ আসনে মনোনয়ন সংকটে। প্রজন্ম পরিবর্তনের নামে কি উপেক্ষিত হচ্ছেন দুঃসময়ের এই পরীক্ষিত যোদ্ধারা?
স্টাফ রিপোর্টার: প্রকাশ ৩০ অক্টোবর ২০২৫
বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে ত্যাগ, আদর্শ ও সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে তিনজন নারীর নাম এখন আলোচনায়, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য বেগম মেহেরুননেছা হক, সিলেটের তাহসিনা রুশদি (লুনা) ইলিয়াস, এবং চট্টগ্রামের ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা। তিনজনই দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে, কারাগারে, দলীয় সংগঠনে সক্রিয় থেকেছেন এবং নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও বিএনপির পতাকা উঁচিয়ে রেখেছেন। তবে প্রশ্ন উঠেছে, তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ নতুন মুখদের অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে, দলের এই ত্যাগী নেত্রীদের কি প্রান্তে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে?
মেহেরুননেছা হক: মিরপুর-পল্লবীর ত্যাগী প্রতীক অর্ধশতাব্দীর বেশি সময় ধরে রাজধানীর পল্লবীতে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় কাউন্সিলর বেগম মেহেরুননেছা হক। ২৫ বছর কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য তিনি দুই দশকেরও বেশি সময়। ৭০ বছর বয়সেও তিনবার কারাবরণ, প্রায় ২৯টি রাজনৈতিক মামলা, আর পরিবারকে নির্বাসনে যেতে হয়েছে নির্যাতনের চাপে। তবুও মেহেরুননেছা হক আজও তৃণমূলে সক্রিয়।
তবে ঢাকা-১৬ আসনে তাঁকে বাদ দিয়ে তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ এক নবাগত প্রার্থীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে—যা তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে।
লুনা ইলিয়াস: সিলেটের প্রতিরোধের উত্তরাধিকার সিলেট-২ আসন একসময় পরিচিত ছিল ‘ইলিয়াস আলীর আসন’ নামে। ২০১২ সালে গুম হওয়া বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদি (লুনা) ইলিয়াস তখন থেকেই দলের প্রতিরোধের প্রতীক। চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হিসেবে তিনি কঠিন সময়েও রাজপথে ছিলেন, আদালতে গেছেন, কর্মীদের পাশে থেকেছেন। তবে এবার শোনা যাচ্ছে, সিলেট-২ আসনে তাকেও সরিয়ে নতুন একজন প্রার্থীকে বিবেচনা করা হচ্ছে-যিনি ‘তারেক রহমান ঘনিষ্ঠ’। স্থানীয়রা বলছেন, “এটি শুধু প্রার্থিতা নয়, ইলিয়াস আলীর ত্যাগ ও সিলেটের জাতীয়তাবাদী উত্তরাধিকারের প্রশ্ন।”
ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা: চট্টগ্রামের সাহসী কণ্ঠস্বর হাটহাজারী (চট্টগ্রাম-৫) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের কন্যা, ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা বিএনপির আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দলের আইনি সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। ২০১৫ সালে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গ্রেফতার হয়ে ১০ মাস কারাভোগ করেন। তবুও তিনি রাজনীতিতে অটল, আজও মাঠে সক্রিয়। কিন্তু এবার তাকেও বাদ দিয়ে মীর হেলালকে বিবেচনা করা হচ্ছে—যা চট্টগ্রামে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। প্রজন্ম পরিবর্তন না রাজনৈতিক ভুল? বিএনপির পুনর্গঠনের পথে ‘প্রজন্ম পরিবর্তন’ এখন আলোচিত বিষয়।
তবে প্রশ্ন উঠেছে, ত্যাগী নেত্রীদের উপেক্ষা করলে কি দলের আদর্শিক ভিত নড়বড়ে হবে না? একজন প্রবীণ নেতা মন্তব্য করেছেন”,“যারা তারেক রহমানের নামে প্রার্থিতা ঘোষণা দিচ্ছেন, তারা কি বলতে পারবেন তাদের স্ত্রী, সন্তান বা পরিবার বিএনপির জন্য জেল খেটেছে, দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছে? মেহেরুননেছা, লুনা, শাকিলারা তো সেই ত্যাগের প্রতীক।
ইতিহাসই শেষ পর্যন্ত উত্তর দেবে- বিএনপি কি ত্যাগীদের সম্মান রক্ষা করবে, নাকি ‘কৌশল’ নামের আবরণে হারাবে আদর্শের প্রাণশক্তি?


















