আওয়ামীলীগ, তথ্য-প্রযুক্তি, প্রবাসী জীবন, রাজধানী

গ্রামীণফোনের দুর্বল নেটওয়ার্ক- ফোর-জির যুগেও নেই টু-জি

%e0%a6%97%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%80%e0%a6%a3%e0%a6%ab%e0%a7%8b%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%b2-%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%9f%e0%a6%93

গোয়াইনঘাট(সিলেট) প্রতিনিধি :

গোয়াইনঘাট উপজেলার তোয়াকুল ইউনিয়নের বীরকুলী গ্রাম ও আশেপাশের ২০/২৫ টি গ্রামে প্রায়ই ৩০ হাজার গ্রামীণফোনের গ্রাহকেরা দুর্বল নেটওয়ার্কের কারণে ভোগান্তির চরম পর্যায়ে রয়েছে।

গ্রামীণ সিম মোবাইল কোম্পানির দুর্বল নেটওয়ার্ক এবং ইন্টারনেটের ধীরগতি সমস্যায় মুঠোফোন গ্রাহক ও ইন্টানেট ব্যবহারকারীরা অতিষ্ট হয়ে উঠেছেন। একের পর এক অভিযোগ করার পরও গ্রামীণ সিম কোম্পানীর নেটওয়ার্কের কোনো প্রকার উন্নতি হয়নি এমন অভিযোগ অসংখ্য গ্রাহকের।

এসব গ্রামের স্থানীয় বসবাসকারীরা অনেকেই রয়েছেন প্রবাসে। এই গ্রামে সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী ব্যবসায়ীগণ ছাড়াও সাধারণ মানুষের বসবাস রয়েছে। দুর্বল নেটওয়ার্ক এর কারণে বেশিরভাগ সময় তাদের গুরুত্বপূর্ণ কাজের বিঘ্ন ঘটছে অহরহ। প্রবাসীদের অভিযোগ দুর্বল নেটওয়ার্কের কারণে তারা দেশের পরিবার-পরিজন আত্মীয়-স্বজন দের সাথে যোগাযোগ রাখতে অনেকটা কষ্ট ও বেগ পেতে হচ্ছে। 

সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অনেক সময় তারা দেশের আত্মীয়স্বজনের খবর নিতে দুর্বল নেটওয়ার্কের কারণে বিরক্ত বোধ করেন। স্বামী স্ত্রীর সংসারেও অশান্তি বিরাজ করছে। কলচার্জ আর এমবি ঠিক-ই কেটে নেয়, তাতে কোন ঘাটতি থাকে না। গ্রামের বিভিন্ন  গ্রামীণফোন গ্রাহকদের সাথে আলাপ হলে তারা বলেন, জরুরী কোন ফোন আসলেই তাদের মোবাইল নিয়ে নেটওয়ার্ক খুজতে এদিক ওদিক ছুটতে হয়। ঘর থেকে বারান্দায়, বাসার ছাদের উপরে, এমনকি অনেক উঠতি বয়সের তরুণ তরুণীরা গাছের ডালে চড়ে নেটওয়ার্ক খুজতে থাকে। গ্রামীন সিম কোম্পানির অবহেলার কারণে অনেক গ্রামীণ সিম ব্যবহারকারীরা সঠিক নেটওয়ার্ক না পেয়ে তারা অন্য বিভিন্ন কোম্পানির সিম ক্রয় করেছেন। গ্রামীণ সিম নেটওয়ার্ক পেতে গভীর রাতে ফোনে সংযোগ রাখার জন্য জানালার পাশে রেলিংএ অথবা ঘরের সানসেট এ মোবাইল রেখে ঘুমাতে হয়। 

বিভিন্ন স্কুল/ কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, সরকার অনলাইন ক্লাস চালু করেছে। অথচ নেটওয়ার্ক শুধু লাটিমের ঘুরতে থাকে পড়াশোনা করতে অসুবিধা হয়। জানা গেছে করোনা কালীন সময়ে ঘরে বসে অনলাইন ক্লাসের জন্য তাদের কাছে স্মার্টফোন থাকা সত্ত্বেও যেতে হয় স্থানীয়-বাজারে। ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের অভিযোগ, দুর্বল নেটওয়ার্কের কারনে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করেও কম্পোজ, মেইল ওপেন করা সম্ভব হয় না। তাতে করে আর্থিক ক্ষতি ও মূল্যবান সময়ের অপচয় হয়। গ্রাহকদের সুযোগ সুবিধা দেখার জন্য নেই মুঠোফোন কোম্পানীগুলোর প্রতিনিধি। তাই নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত সমস্যার মধ্যেই কাটাতে হচ্ছে মুঠোফোন গ্রাহকদের দিনের পর দিন।

গোয়াইনঘাট উপজেলার বীরকুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক ফখরুল ইসলাম বলেন, গ্রামীণফোনের অভিযোগ সেন্টারে একাধিক বার অভিযোগ দিয়েও কোন ফল পায়নি। অনেক গ্রাহকরা গ্রামীনফোনের অফিসে প্রতিবেদন দরখাস্ত পেশ করলেও দিচ্ছে না কেউ পাত্তা।

উল্লেখ থাকে যে বিভিন্ন নেটওয়ার্ক কোম্পানি গুলো তাদের গুগল সার্ভার ডাউন করে রেখে দেয়, তাতে করে মোবাইল সেটে দেখা যায় নেটওয়ার্ক আছে কিন্তু কাজ করে না। তখন শুধু ঘুরতে থাকে আর অপেক্ষায় থাকতে হয় গ্রাহকদের। নূন্যতম টাওয়ার এর ফ্রিকোয়েন্সি/তরঙ্গ বাড়িয়ে দিলে গ্রাহকরা দুর্বল নেটওয়ার্ক থেকে একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারে।

এলাকাবাসীর দাবি তথ্য-প্রযুক্তির যুগে সঠিক তথ্য সেবা পেতে দরকার স্ট্রং নেটওয়ার্ক। ফোর-জির যুগেও সেখানে নেই টু-জি। তোয়কুল ইউনিয়নের বীরকুলী গ্রামের মাঝামাঝি যেকোনো স্থানে নেটওয়ার্কের টাওয়ার নির্মাণ করে ভুক্তভোগী গ্রাহকদের সমস্যা সমাধানে গ্রামীণ সিম নেটওয়ার্ক কোম্পানির প্রতিনিধিগণ পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে তারা খুবই আশাবাদী।

Print Friendly, PDF & Email
Comments
Share

bangladesh ekattor

বাংলাদেশ একাত্তর.কম

Reply your comment

Your email address will not be published. Required fields are marked*

fourteen − twelve =

বাংলাদেশ একাত্তর