আবাসিক ভবনে অবৈধ বাণিজ্যিক কার্যক্রম, অগ্নিঝুঁকি ও নামে-বেনামে সম্পদের অভিযোগ; মিরপুরে ‘অদৃশ্য ক্ষমতার বলয়’ ঘিরে দুদক তদন্তের দাবি
নিজেস্ব প্রতিবেদক: শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
রাজধানীর মিরপুরে রাজউকের নকশা জালিয়াতি, অবৈধ বহুতল ভবন নির্মাণ এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে হাজার কোটি টাকার সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ আবু সাঈদ মোল্লার বিরুদ্ধে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, মিরপুর ১২ থেকে ১৪ নম্বর এলাকায় তার নামে-বেনামে একাধিক বহুতল ভবন, মার্কেট ও বাণিজ্যিক স্থাপনা রয়েছে। আবাসিক অনুমোদন নিয়ে এসব ভবন অবৈধভাবে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের এক পরিদর্শন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ভয়াবহ অনিয়মের চিত্র। অনুমোদনের বাইরে অতিরিক্ত তলা নির্মাণ, বেইজমেন্টে ঝুঁকিপূর্ণ জেনারেটর ও বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশন স্থাপন, ফায়ার সেফটি ছাড়াই রেস্টুরেন্ট ও ক্লাব পরিচালনা, এমনকি জরুরি নির্গমন পথ ও রাজউকের বাধ্যতামূলক অকুপেন্সি সনদ ছাড়াই ভবন ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে মিরপুরে গড়ে তোলেন বিশাল এক ‘মোল্লা সাম্রাজ্য’। তবে এত বিপুল সম্পদের মালিক হলেও আবু সাঈদ মোল্লা নিজেকে সবসময় আড়ালে রাখেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, তিনি খুব কমই সরাসরি মানুষের সামনে আসেন। সাধারণত তার হয়ে কথা বলেন ম্যানেজার, ঘনিষ্ঠ সহযোগী কিংবা ভাগনে-ভাতিজারা। এমনকি তার নিজ বংশের অনেক মানুষও তাকে সহজে দেখতে পান না।
স্থানীয়দের মতে, মিরপুরে তার বিশাল প্রভাব বলয় থাকলেও তিনি থাকেন অনেকটাই অদৃশ্যভাবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি বলেন, “সাধারণ মানুষ যদি তাকে ভালোভাবে চিনে ফেলে, তাহলে তার অবৈধ সাম্রাজ্যে ধস নামতে পারে বলেই হয়তো তিনি সবসময় নিজেকে আড়ালে রাখেন।”
শুধু রাজধানীতেই নয়, মানিকগঞ্জেও তার বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি, গুদাম ও মৎস্য খামার ও জমি ভাড়া দেওয়া কোম্পানির তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি স্থানীয়দের। একজন সরকারি কর্মকর্তার বৈধ আয়ের সঙ্গে এসব সম্পদের সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।
এদিকে এলাকাবাসীর দাবি, রাজউক, দুদক, এনবিআর ও গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে দ্রুত উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে আবু সাঈদ মোল্লার অবৈধ সম্পদের উৎস অনুসন্ধান এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও উপসচিব মোহাম্মদ আবু সাঈদ মোল্লার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


















