৫ আগস্টের পর আওয়ামী স্বৈরাচার পতন হলেও প্রভাবশালীদের দৌরাত্ম্য কমেনি, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ, গ্যারেজ নিয়ন্ত্রণ ও সাংবাদিক নিপীড়নে প্রশাসনের নীরবতা
নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রকাশ-১১ আগস্ট ২০২৫
ঢাকা, ১১ আগস্ট ২০২৫:
রূপনগর আরামবাগ ৬ নম্বর গেটে সোমবার গভীর রাতে আবারও বিদ্যুতের খুঁটিতে আগুন লেগেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, আগুনের সূত্রপাত হয়েছে জিতু নামের এক প্রভাবশালীর অবৈধ অটোরিকশা গ্যারেজে টানা বিদ্যুতের তার থেকে। জিতুর লাইনের সঙ্গে সংযুক্ত ওই পিলারে যত বৈধ ও অবৈধ সংযোগ ছিল, সবই পুড়ে ছাই হয়। জিতুর পিতা কবির আহমেদ।
লোকদেখানো একটি বৈধ মিটার থাকলেও, রাতের অন্ধকারে চলে অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে চার্জিং ব্যবসা। এটি শুধুমাত্র জিতুর গ্যারেজেই সীমাবদ্ধ নেই, রূপনগর, শিয়ালবাড়ী, দুয়ারীপাড়া, আনবিক শক্তি এলাকা, ঝিলপাড় বস্তি, ট-ব্লক বস্তি, মোল্লা বস্তিসহ রূপনগর আবাসিক এলাকা এবং আশপাশের ফুটপাত ও গ্যারেজগুলোতেও অবৈধ ব্যবসা-বাণিজ্যের ছড়াছড়ি রয়েছে। এসব স্থানে প্রচুর অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিদ্যমান।
স্থানীয়রা জানান, এসব গ্যারেজে প্রায়ই ৭০-৮০টি অটোরিকশা রাতভর অবৈধ সংযোগে চার্জ হয়। এই অবৈধ সংযোগের কারণে বারবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে, যা রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় ঘটাচ্ছে এবং সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
৫ আগস্টের পর যদিও আওয়ামী স্বৈরাচার পতন ঘটে, তবু তাদের প্রভাবশালী অনুসারীরা এখনো রূপনগরসহ আশপাশের এলাকায় সক্রিয় রয়েছে। কেউ অবৈধভাবে অটোরিকশা গ্যারেজ নিয়ন্ত্রণ করছে, কেউবা সড়কে অবাধে অটোরিকশা চালিয়ে যাত্রী পরিবহন করছে। সড়কের শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ক্রমশ অবনতির দিকে যাচ্ছে। আইন মানার কথা বললেই অটোরিকশা চালকরা ট্রাফিক সার্জেন্টদের উপর মিথ্যে অভিযোগ করে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে।
সাংবাদিকরা অনিয়ম নিয়ে রিপোর্ট করলে তাদের প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, এমনকি প্রাণনাশের ঘটনাও ঘটছে। অটোরিকশার ওপর বসে চালক সেজে রাতে দিনে বাসে আগুন দিচ্ছে, আওয়ামী লীগকে পুনরায় প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে এবং বর্তমান উপদেষ্টা সরকারের ভাবমূর্তি খুণ্ন করার জন্য আওয়ামী লীগের দোসর নেতাকর্মীরা কথিত অটোরিকশা চালক সেজে মশাল মিছিল ও অশান্তি সৃষ্টি করছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিদ্যুৎ বিভাগের রূপনগর শাখার কর্মকর্তারা এসব অনিয়ম ও অবৈধ সংযোগ সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত। কিন্তু আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে এই চক্রকে সহায়তা করে চলেছেন। ৫ আগস্টের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পরও দুর্নীতি ও অবহেলার অবসান হয়নি।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“বিদ্যুৎ চুরি, দুর্নীতি আর সন্ত্রাস যদি এখনই বন্ধ না হয়, তবে যে কোনো দিন বড় ধরনের দুর্ঘটনায় বহু মানুষ প্রাণ হারাবে। আমরা অবিলম্বে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও দায়ীদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।”
রূপনগরের মানুষ এখন একটাই প্রশ্ন তুলছে, রাষ্ট্রের সম্পদ ধ্বংসের দায় কে নেবে, আর কতদিন প্রশাসনের চোখ বন্ধ থাকবে?