মিরপুর ৭ নম্বর এলাকায় নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ, ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল
বাংলাদেশ একাত্তর;সংবাদ
ঢাকা–১৬ আসনে জামায়াতে ইসলামির মনোনীত প্রার্থী কর্নেল আব্দুল বাতেনের নির্বাচনী প্রচার চলাকালে সাধারণ মানুষের তীব্র প্রতিবাদের মুখে পড়ে দলটির কর্মী ও সমর্থকরা। ঘটনাটি ঘটে রাজধানীর মিরপুর ৭ নম্বর এলাকায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রচারের সময় জামায়াতের কর্মীদের হাতে লিফলেট দেখা যায়। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের কাছে ভোটার আইডি কার্ড চাইতে দেখা যায় এবং ভোটের বিনিময়ে টাকা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এসব বিষয় সামনে আসতেই এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশনা উপেক্ষা করেই ওই এলাকায় প্রচার কার্যক্রম চালানো হচ্ছিল, যা নির্বাচন আচরণবিধির পরিপন্থী। তারা বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
ঘটনার সময় ধারণ করা একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে জনতার প্রতিবাদ, উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় এবং প্রচার কার্যক্রম ঘিরে বিশৃঙ্খলার চিত্র দেখা যায়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে।
একই সঙ্গে স্থানীয়রা জামায়াতে ইসলামির রাজনৈতিক ইতিহাস নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন। তাদের বক্তব্য, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল এবং পাকিস্তানি বাহিনীর পক্ষে অবস্থান নিয়ে বাঙালি জনগণের ওপর নির্যাতন ও নিপীড়নে সহযোগিতা করেছিল। এই ইতিহাস ভুলে যাওয়ার সুযোগ নেই বলেও তারা মন্তব্য করেন।
সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, যারা একাত্তরে স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল, তারা কীভাবে আজ স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে রাজনীতি করার নৈতিক অধিকার দাবি করে। এই প্রশ্ন এখন ঢাকা–১৬ আসনের ভোটারদের মাঝেও জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে।
স্থানীয়দের আরও দাবি, জামায়াতে ইসলামী কখনোই জনগণের প্রত্যক্ষ সমর্থনে একটি গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারেনি। বরাবরই তারা বিভিন্ন সময় ভিন্ন রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে যুক্ত হয়ে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছে।
ঘটনাটি ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা চলছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইতিহাস, আদর্শ এবং সাম্প্রতিক নির্বাচনবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের কারণেই সাধারণ মানুষ ক্রমেই জামায়াতের রাজনীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হচ্ছে। ঢাকা–১৬ আসনের এই ঘটনাপ্রবাহ আবারও দেখিয়ে দিয়েছে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, গণতন্ত্র ও নির্বাচনীয় স্বচ্ছতার প্রশ্নে আপস করতে রাজি নয় সাধারণ মানুষ।


















