“জাতীয় নেতা হওয়ার যোগ্যতা শুধু নয়ন বাঙালির”,সাবেক প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফরের ভবিষ্যদ্বাণী আজো রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু
চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি
রাজু আহমেদ: প্রকাশ, ২৮ আগস্ট ২০২৫
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফর আহমেদ আজ আর নেই, তবে তার রেখে যাওয়া রাজনৈতিক বার্তা এখনো বেঁচে আছে চৌদ্দগ্রামে। মৃত্যুর মাত্র দুইদিন আগে তিনি জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছিলেন,“আমার পরে যদি চৌদ্দগ্রাম থেকে কোনো জাতীয় নেতা হয়, তবে সে শুধু নয়ন বাঙালিই।”
কাজী জাফরের এই বক্তব্য আজ নতুন প্রজন্মের রাজনীতিতে প্রশ্ন জাগায়—তিনি কি শুধু একজন তরুণ নেতার প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছিলেন, নাকি তিনি চৌদ্দগ্রামের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন?
ব্যতিক্রমী পথচলা
নয়ন বাঙালি প্রচলিত রাজনীতির পথ অনুসরণ করেননি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধার স্বীকৃতি অর্জন, আইনজীবী হিসেবে উচ্চ আদালতে সফল ক্যারিয়ার—সবকিছুই ছেড়ে তিনি ঝুঁকেছিলেন শ্রমিক রাজনীতির দিকে। কারণ তার বিশ্বাস, “ছাত্র রাজনীতি হচ্ছে লেজুরবৃত্তির রাজনীতি, আর শ্রমিক রাজনীতি হচ্ছে মৌলিক রাজনীতি।”
১২ বছর শ্রমিকদের দুঃখ-দুর্দশা নিয়ে কাজ করার পর তিনি গ্রামীণ রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। পৌরসভা নির্বাচন, ষড়যন্ত্র, গ্রেফতার, মিথ্যা মামলা, ক্রসফায়ারের তালিকা—সব প্রতিকূলতা পেরিয়েও তিনি মাঠে থেকেছেন।
রাজনীতিতে দর্শন
দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে তাকে একাধিকবার সংসদে পাঠানোর প্রস্তাব আসলেও নয়ন বাঙালি প্রত্যাখ্যান করেন। তার ভাষায়“এমপি বা মন্ত্রী হওয়াই রাজনীতির শেষ কথা নয়। রাজনীতির শিক্ষক হওয়া, নতুন প্রজন্মকে রাজনৈতিকভাবে সৎ ও সামাজিক দায়িত্বশীল করে তোলা—এটাই আমার লক্ষ্য।”
এই বক্তব্য শুধু একটি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন চিন্তার স্রোত।
আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও স্বীকৃতি
নির্বাসিত জীবনে তিনি আমেরিকা, জেনেভা ও ভারতে থেকেও আন্দোলনের অংশ হয়েছিলেন। রেমিটেন্স শাটডাউন থেকে শুরু করে প্রবাসীদের অধিকার আদায়ে তিনি ভূমিকা রাখেন। একইসাথে লিবার্টি ইউনিভার্সিটি থেকে ডক্টরেট, হার্ভার্ড থেকে পাবলিক লিডারশিপ ডিপ্লোমা অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ে “সোশ্যাল ওয়ার্ক পলিটিকস” নিয়ে গবেষণা করছেন।
রাজনৈতিক বার্তা
আজ কাজী জাফরের মৃত্যুবার্ষিকীতে চৌদ্দগ্রামের মানুষ প্রশ্ন করছে, তার ভবিষ্যদ্বাণী কি সত্যি হতে যাচ্ছে? নয়ন বাঙালিই কি আগামী দিনে চৌদ্দগ্রামের গর্ব হয়ে উঠবেন?
যেখানে রাজনীতি এখন পেশা ও ব্যবসায় রূপ নিয়েছে, সেখানে নয়ন বাঙালির দর্শন ভিন্ন—তিনি রাজনীতিকে দেখেন সামাজিক কর্ম ও নৈতিক নেতৃত্বের বিদ্যালয় হিসেবে। কাজী জাফরের স্বীকৃতি তাই কেবল ব্যক্তিগত প্রশংসা নয়, বরং এক রাজনৈতিক উত্তরাধিকার, যা চৌদ্দগ্রাম থেকে নতুন ধারার রাজনীতির জন্ম দিতে পারে।