নির্বাচনের আগে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি, জয়ের পর ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের খোঁজ না নেওয়ার অভিযোগ; জমির মিউটেশনসহ অসমাপ্ত কাজ দ্রুত শেষ করার দাবি
নিজস্ব প্রতিবেদক : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জ-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কে এম বাবর (ধানের শীষ) ৪০ হাজার ৪৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এইচ খান মঞ্জু (হরিণ প্রতীক) পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৩৯ ভোট।
রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের ফলাফল সংগ্রহ ও পরিবেশন কেন্দ্র থেকে আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান ইসি সচিব আখতার আহমেদ।
নির্বাচনের আগে এলাকাবাসীর কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতিতে কে এম বাবর বলেছিলেন, নির্বাচিত হলে ড্রেনেজ ব্যবস্থা, সড়ক, পানি ও বিদ্যুতের সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা জমির মিউটেশন কার্যক্রম চালু করবেন। উন্নয়ন ও জনসেবাকেই অগ্রাধিকার দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছিলেন তিনি।
তবে নির্বাচনের পর গোপালগঞ্জ-২ আসনের ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের অভিযোগ, এখন পর্যন্ত তাদের খোঁজখবর নেননি বর্তমান সংসদ সদস্য। বিশেষ করে ১ নম্বর ওয়ার্ডের কলাবাগান এলাকার বহু জমির মিউটেশন দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকলেও একই ওয়ার্ডের মাস্টারপাড়া ও বসুন্ধরা এলাকার কিছু জমির মিউটেশন কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অনেক পরিবার ৪০ থেকে ৫০ বছর ধরে এসব এলাকায় বসবাস করে আসছেন। জমি ক্রয় করে দীর্ঘদিন বসবাস করলেও মিউটেশন না হওয়ায় তারা নানা জটিলতার মুখোমুখি হচ্ছেন। তাদের মতে, যারা দীর্ঘদিন ধরে বৈধভাবে বসবাস করছেন, তাদের জমির মিউটেশনকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
এলাকাবাসীর একাংশের অভিযোগ, সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সেলিমও বারবার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু অধিকাংশ সময় ঢাকায় অবস্থান করায় স্থানীয় অনেক সমস্যা অমীমাংসিত থেকে যায়। তাদের আশঙ্কা, বর্তমান সংসদ সদস্য কে এম বাবরের ক্ষেত্রেও যেন একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
স্থানীয়দের দাবি, গোপালগঞ্জ-২ আসনের মানুষের প্রত্যাশা শুধু নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে সীমাবদ্ধ নয়। দীর্ঘদিনের অসমাপ্ত জমির মিউটেশন, ড্রেনেজ, সড়ক, পানি ও বিদ্যুতের সমস্যার দ্রুত সমাধান করে জনগণের আস্থা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটানো এখন সময়ের দাবি।


















