বাংলাদেশ একাত্তর/রাজু আহমেদ:
ওয়ার্ড বাসিকে সুরক্ষা ও সেবা দেওয়ার বদলে বিভিন্ন হয়রানিসহ দোকান এডভান্সের টাকা আত্মসাত করায় ডিএনসিসি’র ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাজ্জাদ হোসেনের বিরুদ্ধে পল্লবী থানায় একাধিক জিডি ও অভিযোগ।
এর আগে দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় কাউন্সিলর সাজ্জাদকে পল্লবী থানা বিএনপির দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেয় কেন্দ্রীয় বিএনপি।
বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হয়ে ২০১৫ সালে প্রথমবারের মতো কাউন্সিলর নির্বাচিত হন তিনি। এরপর আবারও বিএনপির সমর্থন নিয়েই ২০২০ সালে দ্বিতীয়বারের মতো কাউন্সিলর নির্বাচিত হন সাজ্জাদ। ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় যখন বিএনপি নেতারা নিরব ছিলেন। তখন বিএনপির এই কাউন্সিলর বেশ দাপটের সাথেই এলাকায় সক্রিয় ছিলেন। অভিযোগ উঠেছিল ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে সক্ষতা রয়েছে কাউন্সিলর সাজ্জাদের। এই অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় বিএনপির সকল পদবি থেকে তাকে বহিস্কার করা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মিরপুর ১২ নম্বর এলাকায় নিজের শশুর বাড়িতে বসবাস করেন কাউন্সিলর সাজ্জাদ। অভিযোগ রয়েছে শশুরবাড়ি পুরোটাই দখলে মরিয়া হয়ে উঠেছেন তিনি। ২নং ওয়ার্ডে হাউজিংয়ের কিছু প্লট নিজ দখলে রেখে লাখ লাখ টাকা ভাড়া তুলছেন সাজ্জাদসহ তার লোকজন। ২নং ওয়ার্ড কমিউনিটি সেন্টার তার নিয়ন্ত্রণে। বিল্ডিং ভবনে নিচে চলে বিয়ে জন্মদিন ইত্যাদি অনুষ্ঠানের সব রানার কাজ। ফলে আগুনের তাপে সিমেন্ট খয়ে খয়ে পড়ছে বিভিন্ন স্থানে ফাটল ধরে চলটা নুইয়ে পড়ছে। ভবনের ভিতর ও আশেপাশে ময়লা আবর্জনায় ঢাকা। ঝুঁকিতে রয়েছে পল্লবী ২নং ওয়ার্ড কমিউনিটি সেন্টার।
সম্প্রতি কাউন্সিলর সাজ্জাদের মারধরের শিকার এক যুবক। সেই ভিডিও ভাইরাল হয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। পরে জানা যায়, ওই যুবক কাউন্সিলর সাজ্জাদের ভায়রার ছেলে। ওই যুবকের অভিযোগ, ভায়রা ভাইয়ের মৃত্যুর পর সাজ্জাদের কুনজর পরে ওই পরিবারের উপর। মা ছেলে বোনদের মধ্যে সামান্য মনমালিন্য হলেই বিশেষ উদ্দেশ্যে নিয়েই ভায়রা ভাইয়ের স্ত্রীর অভিভাবক সেজে ভায়রার ছেলের উপর নির্যাতন শুরু করেন। ছেলে কে তার মা বোনদের কাছে ঘিসতেই দিতে চায়না কাউন্সিলর সাজ্জাদ।
এর আগেও আপন ভাতিজাকে জনসম্মুখে অশ্লীল ভাষায় গালাগালি ও মুখে নেশাদ্রব্য সিগারেট জ্বালিয়ে ঠোঁটে রেখেই মারতে তেড়ে আসেন কাউন্সিলর সাজ্জাদ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে মুহুর্তেই ভাইরাল হয়। তার আগে কাউন্সিলর অফিসে বসেই সুখটানে মগ্ন সাজ্জাদ” শিরোনামে নিউজ ভাইরাল হয়। এর আগে ওয়ার্ড বাসিকে সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় তার বিরুদ্ধে ক্ষিপ্ত হয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন এক তুহিন নামে এক ব্যবসায়ী। তবুও ক্ষমতার দাপট এতটুকু কমেনি। একের পর এক ঘটনা ঘটিয়ে সমালোচনা সৃষ্টি করছেন এই কাউন্সিলর।
শুধু তাই নয় এলাকার সড়ক ও ফুটপাতে কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান করতে হলে চক্তির মাধ্যমে কাউন্সলর সাজ্জাদের অনুমতি লাগে। দোকান করতে মাসিক ও দৈনিক চুক্তিতে টাকা দিতে হয় তাকে। টাকা না দিলে সিটি কর্পোরেশনের ম্যাজিস্ট্রেটের ডেকে উচ্ছেদ অভিযানের ভয় দেখান এই জনপ্রতিনিধি। অভিযোগ রয়েছে সিটি কর্পোরেশন এলাকার ২নং ওয়ার্ডে বিভিন্ন সড়কের পাশে ফুটপাত থাকার কথা থাকলেও গোপনে বিভিন্ন বাড়ীর মালিক ও দোকান্দারের থেকে মোটা অংকের টাকা খেয়ে ফুটপাত না করে সেখানে দোকান বাসা বাড়ীর গ্যারেজ রেখে দিয়েছেন।
সর্বশেষ কাউন্সিলর সাজ্জাদের বিরুদ্ধে পরপর কয়েকটি জিডি হয়েছে। জিডি গুলোতে কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে হুমকী, মিথ্যা মামলা দিয়ে এ্যাডভান্সের টাকা আত্নসাতের চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। জিডিতে উল্লেখ করা হয়, কাউন্সিলর থেকে সিটি ক্লাব মার্কেটে ২ লাখ টাকা এ্যাডভান্স দিয়ে দোকান ভাড়া নেয়। কিন্তু, পরবর্তীতে চুক্তির মেয়াদ থাকা অবস্থায় জোর করে দোকান থেকে বের করে দেয়। এরপর এ্যাডভান্সের টাকার জন্য ঘুরাতে থাকে। সর্বশেষ এ্যাডভান্সের টাকা না দিয়ে বিভিন্ন হুমকী-ধামকি দেয় বলে জিডিগুলোতে উল্লেখ রয়েছে।
স্থানীয়রা বলেন, কাউন্সিলর মাটির তল দিয়ে অনিয়ম দুর্নীতি করে। স্থানীয় আওয়ামীলীগের সাথে তার রয়েছে গভির সখ্যতা। সড়ক ফুটপাত দখল বানিজ্য। সরকারি ফাঁকা প্লট বানিজ্য। পার্ক দখল বানিজ্য। বেশির ভাগ এলাকাবাসিরা রাষ্ট্রীয় ফ্রি সেবা পাওয়াতো দুরের কথা অর্থ দিয়েও কাউন্সিলর কার্যালয় থেকে সময় মতো পাচ্ছেনা। যেমন: জন্ম নিবন্ধন, ওয়ারিশ সার্টিফিকেট, বিভিন্ন ভাতা নাগরিক সুযোগ সুবিধা ইত্যাদি। তবে তার পছন্দসই নারী পুরুষ উভয় মানুষদের সময় মতো সকল সুযোগ সুবিধা দিয়ে থাকেন।
এই বিষয়ে জানতে কাউন্সিলর সাজ্জাদের মোবাইলে গত মঙ্গলবার সারাদিন কল দেওয়া হলেও মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।