আইন ও আদালত

মিরপুরে অসহায় এক ডাক্তারের জমি দখলের অভিযোগ

%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a6%aa%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%85%e0%a6%b8%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a7%9f-%e0%a6%8f%e0%a6%95-%e0%a6%a1%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b0

উজ্জল বেপারি:

রোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সারা দেশে এক সপ্তাহের ‘কঠোর লকডাউন’ চলছে। ডাক্তাররা মানুষের চিকিৎসা সেবা দানে দিনরাত পরিশ্রম করে আর সেই সুযোগে তাদের সম্পত্তি দখল করে নিচ্ছে ভুমিদ্যুসুরা।

রাজধানীর মিরপুর কাফরুল এলাকার বাইশটেকীতে এক ডাক্তারের নিজ নামীয় সম্পত্তি (প্লট নং ২৪/৮/এ,/১) দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। জমিতে আসলে জানে মেরে ফেলারও হুমকি দিচ্ছে অবৈধ দখলকারীরা। মিরপুরে আসলেই তার বড় ধরনের ক্ষতি করা হবে বলেও রীতিমত তাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ভয়ে এখন সে ঘর থেকেই বের হতে পারছেনা। এমন কি সন্ত্রাসীদের ভয়ে কর্মস্থানেও যেতে পারছেনা।

শুক্রবার (২৮ মে ২০২১ইং) তারিখ কাফরুল থানায় একটি সাধারণ ডাইরি করেন ভুক্তভোগী জমির মালিক ডাক্তার নুরুল ইসলাম। (জিডি নং ১৫১৪)।,

(তফসিল বর্ণিত সম্পত্তি) ঢাকা জেলা মৌজাঃ সেনপাড়া পর্বতা, জে.এল নং১৭, খতিয়ান নং-সি.এস-৫৭৪, এস.এ-১৫২, আর.এস-১৩২০, দাগ নং সি.এস ও এস.এ-১৩২,আর.এস-৬৫৯৬, জমির পরিমাণ-১৩ শতাংশ)।,

ডাক্তার নুরুল ইসলাম এর জিডির কিছু অংশ তুলে ধরা হলো, বিগত ২০-০৩-১৯৯৪ইং তারিখে- ১০৬৭ নং দলিল মুলে নিম্ম তফসিল বর্ণিত সম্পত্তি কেয়ার টেকার মাধ্যমে ভোগ দখল করে আসছি। গত ২৩-০৫-২০২১ই তারিখে আসামী (১) মোঃ জাকির হোসেন খন্দকার অরফে বাবুল, পিতা: বদিউর রহমান খন্দকার,(২) এহসানুল ইসলাম, (৩) হাজী আমিনুল ইসলাম, পিতা: হাজি আলী হোসেন, (৪) শহীদুল আলম, পিতা: কাজী আবুল হোসেন, ঠিকানা: পশ্চিম বাইশটেকী, থানা কাফরুল,জেলা ঢাকা সহ আরো অজ্ঞতনামা ১০/১২ জন সংবদ্ধভাবে আমার মালিকানাধীন সম্পত্তিতে জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করে। আরো থাকে গত ঈদুল ফিতরে ছুটিতে বেড়াইতে যাই তখন আমার অনুপস্থিতিতে আমার স্থাপনায় যে টিনের ছাপড়া ঘর ছিল তা উচ্ছেদ পূর্বক জোর করে দখল করতে উদ্যত হয় এবং আমার দারোয়ানকে সম্পত্তি স্থল থেকে বাহির করে দেয়। আমার নিয়োজিত দারোয়ান বাঁধা দিলে তাহাকে মারধর করিতে উদ্যত হয় এবং আমি উক্ত সংবাদ পাইয়া ঐ দিন বিকাল আনুমানিক ৪ ঘটিকায় আমার সম্পত্তি স্থলে যাই। অতঃপর আসামীগন আমাকে হুমকি প্রদান সরূপ বলে, যেকোনো সময় তাহারা নিম্ম তফসিল বর্ণিত সম্পত্তি দখল করিয়া ভোগ করিবে।

স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বলেন, ডাক্তার এখানে কম আসা যাওয়া করত। তার একজন দারোয়ান ছিলো দেলোয়ার নামে। রাতের আধারে তাকে মারধর করে বের করে দিয়ে জাকির, এহসান আমিনুল শহীদুল এরা দখল করেছে এবং সেখানে ইট বাশ রেখে দিয়েছে। স্থানীয়রা আরো বলেন, পশ্চিম বাইশটেকী এলাকায় তারা এমন অনেক অসহায় মানুষের জমি আরো দখল করেছে। এদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলার মত কেউ নেই। কত মানুষ তাদের ভয়ে ঘরবাড়ি রেখে ফেলে চলে গেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে জিডির ১,২ ৩ ও ৪ নং আসামীরা প্রকৃত ভুমি দখলকারী। এলাকায় জমির কাগজের দুর্বলতা আছে জানলেই দখল করেন। এদের দখলের কৌশল আবার ভিন্ন। অসহায় নিরীহ কারোর খালি জমি দেখলেই সেখানে প্রথমে ইট বালু বাশ রাখে। কিছুদিন পর সেই জমি তাদের হয়ে যায়। কাগজপত্র বানিয়ে মামলা টুকে দেয়। বছরের পর বছর মামলার অজুহাত দেখিয়ে স্থাপনা গড়ে তুলে। ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিয়ে দখল ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা রয়েছে। খালি জমি, কাগজ দুর্বল, মালিক দুরে থাকে এসব জমি খোজার জন্যে ও আলাদা ১০/১২ জনের একটি টিম রয়েছে। এ ছাড়াও তাদের পালিত নাঠিয়াল বাহিনী তো আছেই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক আওয়ামীলীগ নেতা বলেন, ১ ও ২ নং আসামী দখলবাজি টিকিয়ে রাখতে যখন যে রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় আসে তখন তারা সেই দলের নিবেদিত প্রান হয়ে যান। জমি দখলকারী জাকির হোসেন সহ এরা এখন আওয়ামিলীগার। বিএনপির আমলে তান্ডবলীলা চালিয়ে জালাও পোড়াও আন্দোলনে সামিল হয়ে এলাকার বহু মানুষের ক্ষতি করেছে এরা। কামরুল থানা সহ দেশের বিভিন্ন থানায় এদের বিএনপির আমলের আমলনামা ও পাওয়া যাবে।

ডাক্তার নুরুল ইসলামের বাড়ীর কেয়ারটেকার দেলোয়ার বলেন, রাতের আধারে জাকির হোসেন খন্দকার অরফে বাবুল, এহসান, আমিনুলসহ অনেক লোকজন এসে আমার পরিবারসহ বাহির করে দেয়। টিনের চারপাঁচটি ঘর ছিলো সব তারা দখল করেছে। আমাকে বিভিন্ন ধরনের ভয় দেখিয়েছে, পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দিবে। আমার পরিবার নিয়ে ঐ রাতে কত অপমান কষ্ট পোহাতে হয়েছে তা বলে বোঝাতে পারবোনা। একটা দিনও সময় দেইনি ভূমিদস্যুরা। এই ঘটনা এলাকার শত শত মানুষ দেখছে কি তান্ডব চালিয়েছে তারা। আমি গরিব মানুষ আমি আর কি করবো পরে রাতেই কিছু কিছু ঘরের মাল জিনিস হাতে করে নিয়ে আছি আর বাকি সব সেখানেই তারা রেখে দেয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জমি দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে জিডির ২ নং আসামী এহসান ইসলাম বলেন, জোরপূর্বক জমি দখলের কোনো ঘটনা ঘটেনি। স্থানীয় এমপির কাছে নালিশ দেওয়া আছে, এখন আর কিছু বলা যাবে না। এক প্রশ্নে তিনি বলেন কাগজ পত্র যদি আমাদের নামে না থাকে তাহলে কি আমরা ভোগ করতে পারি।

তিনি আরো বলেন, ডাক্তার নুরুল ইসলামের কাছ থেকে সম্পত্তি কিনেছি, ২০০৮ সাল থেকে আমরাই দখলে আছি ।

এ ব্যাপারে জিডির তদন্ত কর্মকর্তা কাফরুল থানার (এসআই) শহিদুল রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কালকে জিডি হয়েছে এখনো হাতে পাইনি, হাতে পেলে তদন্ত পুর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Print Friendly, PDF & Email
Comments
Share

bangladesh ekattor

বাংলাদেশ একাত্তর.কম

Reply your comment

Your email address will not be published. Required fields are marked*

6 + 8 =

বাংলাদেশ একাত্তর