পল্লবীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গোলাগুলির ঘটনায় র্যাবের হাতে কুখ্যাত সন্ত্রাসী ‘টান আকাশ’ গ্রেফতার
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘটিত আলোচিত গোলাগুলি ও অপহরণ ঘটনার অন্যতম অভিযুক্ত মোঃ আকাশ ওরফে ‘টান আকাশ’কে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৪। র্যাবের দাবি, গ্রেফতারকৃত আকাশের বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি, ডাকাতি ও মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে প্রায় ১৩টি মামলা চলমান রয়েছে।
র্যাব-৪ জানায়, গত ১০ জুন ২০২৬ তারিখে মিরপুর পল্লবীর এভিনিউ-৫ এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ‘ল্যাংড়া রুবেল’ গ্রুপের সদস্যদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় মোঃ আকাশ ওরফে টান আকাশ, গাল কাটা রাব্বি, আল-আমিন, র্যাপার পারভেজসহ কয়েকজন বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করে প্রকাশ্যে গোলাগুলি চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনায় হৃদয় ওরফে গন্ডার গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। একই সময় আব্দুল্লাহ নামে এক ব্যক্তিকে জোরপূর্বক অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয় বলেও অভিযোগ উঠে। প্রকাশ্য দিবালোকে সংঘটিত এ ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, অনলাইন সংবাদমাধ্যম ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।
ঘটনার পরপরই র্যাব-৪ এর একটি বিশেষ আভিযানিক দল ছায়াতদন্ত শুরু করে। গোয়েন্দা তথ্য ও আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্ত আকাশের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে ১৬ জুন ২০২৬ তারিখ রাতে সাভারের হেমায়েতপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত আকাশ দীর্ঘদিন ধরে পল্লবীসহ আশপাশের এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, দখলবাজি ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন থানায় হত্যা, চাঁদাবাজি, ডাকাতি ও মাদক সংক্রান্ত প্রায় ১৩টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবেই এই গ্রেফতার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে এলাকায় শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।


















