বিনোদন

ক্ষণিকের দেখা, বিরামহীন ভালবাসা-কাজী ওয়াজেদ আলী

%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%a3%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%96%e0%a6%be-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%b9%e0%a7%80%e0%a6%a8-%e0%a6%ad

বাংলাদেশ একাত্তর.কম/ কাজী ওয়াজেদ আলী

ক্ষণিকের দেখা, বিরামহীন ভালবাসা

আমাদের দেখেই চিনলেন। অনেক মায়াবী কণ্ঠে বললেন, অনেকদিন যাবত আপনাকে খুঁজতেছি। আপনার দেওয়া কার্ড থেকে নম্বর নিয়ে মাঝে ফোন দিয়েছিলাম, কিন্তু আপনাকে পাইনি। খুব লজ্জা পেলাম, ভাবলাম এত কষ্ট করে ভদ্রলোক ফোন দিয়েছেন কিন্তু কথা বলতে পারিনি।

ভাটিয়াপাড়া মোড়ে পৌঁছে চায়ের স্টলে ঢুকতেই একনাগাড়ে কথাগুলো বললেন আমার খুব পছন্দের একজন মানুষ অধীর কাকা (অধীর মেম্বর)।

ক্ষণিকের দেখা, বিরামহীন ভালবাসায় অসাধারণ সেল্ফি

বললেন, কতদিন আসেন না, দেখিও না। ঢাকায় চাকরি করে পুলিশের এমন লোক পেলেই নাকি আমার খোঁজ নেন। জিজ্ঞেস করেন আমি এখন কোথায় আছি।

খুলনা থেকে ঢাকায় যাওয়া আসার পথে মাত্র ৩/৪ বার ১০ মিনিটের জন্য দেখা এই মহান মানুষটার জন্য আলাদা একটা টান অনুভব করি সবসময়। তাই ঢাকায় ফেরার পথে ভাটিয়াপাড়া পৌঁছতেই মনে পড়লো অধীর কাকার কথা। ভাবলাম, বেঁচে আছেন কিনা একটু খোঁজ নেই। কারন প্রায় ২ বছর ৩ মাস পর বাড়িতে যাওয়া।

বেঁচে থাকার কথা বলতেই হাসতে হাসতে বললেন, আরো অন্তত ১০ বছর পাবেন আমাকে। মৃত্যুর কোনো সময় নেই জেনেও, আরো বেশিদিন বেঁচে থাকার প্রতি অগাধ বিশ্বাস ৮০ উর্ধ্ব এই মানুষটির। বেঁচে থাকার ইচ্ছেটা আরেকটু রঙিন হতো ভদ্রলোকের। যদি একটু মনের আশা পূরণ হতো।

আফসোস করে বললেন, ছেলেটিকে এমএ পাশ করানোর পর কত লোকের পায়ে পড়েছি একটা চাকরির জন্য। কিন্তু চাকরি হয়নি। শেষে মনের কষ্টে ভারতে ওর মায়ের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি। তামিলনাড়ুতে একটা চাকরি নিয়ে বর্তমানে ওর মাসহ বসবাস করছে ছেলেটি। তামিলনাড়ুর ভাষা ভালমত বুঝতে না পারায় নিজ স্ত্রীর সাথে কথাও হয় কম ওনার।

১৫/২০ মিনিট গল্প করতে করতেই ফেরার সময় হয়ে গেল। স্বপরিবারে অত্যন্ত সুস্বাদু চায়ের স্বাদ নেওয়ার পর টাকা নিতে চাইলেন না। মমতাভরা কণ্ঠে বললেন, টাকা লাগবে না। একটু চমকে গেলাম! ভাবলাম, পথের ধারের এই অসাধারণ মানুষগুলো কাছেও অনেককিছু শেখার আছে, জানার আছে। শুধু টাকা নিতে চাইলেন না সেজন্য নয়। সামান্য সময়ের জন্য পথে দেখা মানুষগুলোকে কিভাবে মনে রেখেছেন ভদ্রলোক!! নিজের বাঁচার একমাত্র অবলম্বন সামান্য পুঁজিকেও তুচ্ছ মনে শুধুমাত্র ভালবাসার কাছে বিনে পয়সায় বিকোচ্ছেন অকাতরে।

সত্যি হেরে গেলাম এই অসাধারণ আত্মাটার কাছে। আজ কতটা আপন লাগছে অনাত্মীয় এই মানুষটাকে। শ্রদ্ধা আর অন্যরকম এক ভাললাগায় জড়িয়ে ধরতে ইচ্ছে করছে ওনাকে। বুঝলাম মনুষ্যত্ব আসলে খুব বেশি দূরে নয়, আমাদের অধীর কাকাদের মাঝেই আছে প্রকৃত মনুষ্যত্ব। শুধু তা উপলব্ধির চোখ থাকলেই হবে।

দোয়া করি অনন্তকাল বেঁচে থাক আমাদের অধীর কাকা।

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

লেখক : ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী ওয়াজেদ আলী।
পল্লবী থানা, ঢাকা।

Print Friendly, PDF & Email
Comments
Share

bangladesh ekattor

বাংলাদেশ একাত্তর.কম

Reply your comment

Your email address will not be published. Required fields are marked*

4 × 1 =

বাংলাদেশ একাত্তর