অন্যান্য

কুষ্টিয়ায় বিভিন্ন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে র‌্যাবের অভিযান: ২২ লাখ টাকা জরিমানা

%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%bf%e0%a7%9f%e0%a6%be%e0%a7%9f-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%ad%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a8-%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b2%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%bf

বাংলাদেশ একাত্তর.কম: (কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি)

কুষ্টিয়ায় বৈশাখী ক্লিনিকের দোতলার কয়েকটি কক্ষ পরিদর্শন করে। ২০ বেডের ক্লিনিক হলেও র‌্যাবের সদস্যরা পুরো ভবনের কক্ষগুলো ঘুরে পেলেন ৫০ বেড। এসব বেডের অধিকাংশতেই রোগী রয়েছে। বেশির ভাগই অস্ত্রোপচারের রোগী। ২০ বেডের এই ক্লিনিকে নিয়ম অনুযায়ী সার্বক্ষণিক ছয়জন এমবিবিএস চিকিৎসক থাকার কথা। সেখানে একজনকেও পেলেন না র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাকিম গাউছুল আজম। অথচ এই ক্লিনিকে রয়েছে তিনটি অস্ত্রোপচার কক্ষ। সেখানে দায়িত্বে আছেন একজন এসএসসি পাশ তরুণ। তার কোনো ডিপ্লোমা কোর্সও করা নেই। ক্লিনিকের এমন চিত্র দেখে হতবাক হলেন র‌্যাবের সদস্যরা।

তাৎক্ষণিকভাবে ক্লিনিকের মালিককে দুই লাখ ও ওটি ইনচার্জের দায়িত্বে থাকা তরুণকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। র‌্যাব-১২ কুষ্টিয়া ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর রবিউল ইসলাম বলেন, মঙ্গলবার সকাল থেকে এই অভিযান শুরু হয়েছে। সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত শহরের ছয়টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ক্লিনিক ও হাসপাতালে এ অভিযান চালানো হয়। এর আগে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শহরের ক্লিনিকগুলোতে অভিযান চালান র‍্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে শহরের মজমপুর এলাকায় একতা ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড হাসপাতালকে তিন লাখ টাকা, শাওন ক্লিনিককে ৩লাখ টাকা, পেয়ারাতলা এলাকায় নিউ সান ক্লিনিককে ৪ লাখ টাকা, অর্থোপেডিক জেনারেল হাসপাতালকে ৪ লাখ টাকা, আমিন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিককে ৫লাখ টাকা ও এক কর্মচারীকে তিন মাসের কারাদন্ড প্রদান করেন আদালত।

র‌্যাবের নির্বাহী হাকিম গাউছুল আজম বাংলাদেশ একাত্তরকে বলেন, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত যতগুলো ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যাওয়া হয়েছে তাদের একটাতেও এক্স-রে করার জন্য আণবিক শক্তি কমিশন থেকে কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি। এটা খুবই ভয়াবহ চিত্র। তা ছাড়া অর্থোপেডিক হাসপাতালে মেয়াদোত্তীর্ণ অ্যানেসথেসিয়ার ওষুধসহ বিভিন্ন ধরনের ওষুধ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া কোনো ক্লিনিক বা হাসপাতালে এমবিবিএস চিকিৎসক পাওয়া যায়নি। তিনি আরও বলেন, শুধু জরিমানা নয় নিয়মিত তদারকি করা খুবই জরুরি। কেননা রাতের বেলায় যদি কোনো রোগীর সমস্যা হয় সে ক্ষেত্রে কোনো চিকিৎসক না পাওয়া গেলে সেই রোগীর কী হবে। এর সঙ্গে জনগণের জীবন মরণ জড়িত। এসব হাসপাতালের মালিকদের নিয়মিত তদারকি করা দরকার। মেডিকেল অফিসার শারমিন আলী বলেন, মেয়াদোত্তীর্ণ অ্যানেসথেসিয়ার ওষুধ পুশ করলে রোগীর বিভিন্ন ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হবে। এতে অঙ্গহানিও ঘটতে পারে। অভিযানে র‌্যাব-১২ কুষ্টিয়া ক্যাম্পের কমান্ডার রবিউল ইসলাম, কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার শারমিন আলীসহ বিপুলসংখ্যক র‌্যাব সদস্য এ অভিযানে অংশ নেয়।

Print Friendly, PDF & Email
Comments
Share

bangladesh ekattor

বাংলাদেশ একাত্তর.কম

Reply your comment

Your email address will not be published. Required fields are marked*

one × three =

বাংলাদেশ একাত্তর