নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ১৭ জুন ২০২৫
রাজধানীর মিরপুর কালশী কূর্মিটোলা বিহারী ক্যাম্পে সংঘটিত বর্বরোচিত গণহত্যার ১১ বছর পূর্তিতে অনুষ্ঠিত হলো প্রতিবাদ সমাবেশ। ২০১৪ সালের ১৪ জুন রাতে সংঘটিত ওই ঘটনায় নারী, পুরুষ ও শিশুসহ অন্তত ১০ জন উর্দুভাষী নাগরিক নিহত হন। নিহতদের মধ্যে অনেকেই একই পরিবারের সদস্য ছিলেন। রাষ্ট্রীয় উদাসীনতা ও বিচারহীনতার দীর্ঘশ্বাস নিয়ে আজও বেঁচে আছেন কয়েকজন স্বজনহারা মানুষ।
মঙ্গলবার (১৭ জুন) বিকেলে কূর্মিটোলা ক্যাম্পে এই গণহত্যার স্মরণে স্ট্যান্ডার্ড পিপলস জেনারেল রিহ্যাবিলিটেশন কমিটি (এসপিজিআরসি) ও উর্দুভাষী যুব ছাত্র আন্দোলন এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক।
প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আমিনুল হক বলেন,
“২০১৪ সালের গণহত্যার বিচার আজও হয়নি। আমরা ক্ষমতায় গেলে এই হত্যাকাণ্ডের প্রত্যেক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দ্রুত মামলা করে বিচার নিশ্চিত করব। এটি রাজনৈতিক দায় নয়, এটি আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।”
তিনি আরও বলেন,
“বাংলাদেশের মানুষ গত ১৭ বছর ধরে একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়ছে। একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে চাই। সেই লক্ষ্যেই বিএনপি তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা রূপরেখা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, যেখানে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো হবে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ।”
উর্দুভাষী নাগরিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন,
“আপনারা আলাদা কেউ নন, আপনারা এই দেশেরই সন্তান। আপনাদের পাশে ছিলাম, আছি, থাকব। আপনাদের রক্তও এই মাতৃভূমির জন্য ঝরেছে।”
২০১৪ সালের ওই ঘটনায় নিহতদের একজন কন্যা ফারজানা বর্তমানে পরিবারে একমাত্র জীবিত সদস্য। সমাবেশে বিএনপি নেতা আমিনুল হক তার ভরণপোষণের দায়িত্ব গ্রহণের ঘোষণা দেন। উপস্থিত সকলে এ ঘোষণাকে সাধুবাদ জানান।
শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে আমিনুল হক বলেন,
“গত ১৭ বছরে শেখ হাসিনার সরকার গুম, খুন, নির্যাতনের মাধ্যমে জাতিকে দমন করেছে। এই স্বৈরতন্ত্রের বিচার বাংলার মাটিতেই হবে। ছাত্র আন্দোলনে নিহত ভাইদের হত্যাকারীদেরও ছাড় দেওয়া হবে না।”
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন:
- এম শওকত আলী — সভাপতি, এসপিজিআরসি কেন্দ্রীয় কমিটি
- সাদাকাত হোসেন ফাক্কু — সভাপতি, কূর্মিটোলা শাখা
- খোরশেদ আলম — সাধারণ সম্পাদক, কূর্মিটোলা শাখা
- সাহেদ আলী বাবলু — সাধারণ সম্পাদক, কেন্দ্রীয় কমিটি
- মঈনুদ্দিন হোসেন মুন্না — সহ-সভাপতি, কূর্মিটোলা শাখা
বক্তারা একযোগে কালশী হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন এবং উর্দুভাষীদের প্রতি সমান নাগরিক মর্যাদা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।