শনিবার , ২০ জুন ২০২৬ | ১৩ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন ও আদালত
  3. আওয়ামীলীগ
  4. আন্তর্জাতিক
  5. খেলাধুলা
  6. জাতীয়
  7. তথ্য-প্রযুক্তি
  8. ধর্ম
  9. বি এন পি
  10. বিনোদন
  11. বিশেষ সংবাদ
  12. রাজধানী
  13. রাজনীতি
  14. লাইফস্টাইল
  15. শিক্ষা

উচ্ছেদের ঘোষণা কাগজে-কলমে, দখলদারদের দাপটে বহাল দুয়ারীপাড়া বাজার!

প্রতিবেদক
বাংলাদেশ একাত্তর
জুন ২০, ২০২৬ ২:৪৭ অপরাহ্ণ

সড়ক ও ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা বাজারে চলছে বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবহার; উচ্ছেদের ঘোষণা এলেও নেই কোনো অভিযান। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়া ও প্রভাবশালীদের কারণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা | ২০ জুন ২০২৬,

রাজধানীর মিরপুরের রূপনগর থানার দুয়ারীপাড়া সড়ক যেন এখন আর জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা নয়, বরং দখলদারদের নিয়ন্ত্রিত একটি বিশাল অস্থায়ী বাজার। সড়কের একাধিক সারিতে দোকান বসিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলছে বেচাকেনা। মাছ, মাংস, সবজি, ফলমূল থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের জমজমাট ব্যবসা হলেও বাজারটির বৈধতা, সড়ক দখল এবং সরকারি সম্পদের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।

চার দিন সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, বাজারের বিভিন্ন দোকানে রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ ব্যবহার করে ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত জ্বলে বৈদ্যুতিক বাতি, চলে মোটর ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি। অথচ এই সড়ক দিয়েই নিয়মিত যাতায়াত করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, একসময় বাজারটির নিয়ন্ত্রণ ছিল আওয়ামী লীগের অনুসারীদের হাতে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বর্তমানে বিএনপি ও যুবদলের অনুসারীরা বাজারটি নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা রয়েছে। এ কারণে দখলদারদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অনেক ক্ষেত্রে নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী।

সম্প্রতি হরিরামপুর শ্মশানঘাটে বৈদ্যুতিক মানবদেহ দাহ চুল্লির উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে রূপনগর থানায় উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন দুয়ারীপাড়া সড়কের বাজার উচ্ছেদের ঘোষণা দেন। তবে সেই ঘোষণার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও উচ্ছেদ অভিযান বা দৃশ্যমান কোনো কার্যক্রম চোখে পড়েনি।

শুধু দুয়ারীপাড়াই নয়, সরেজমিনে দেখা যায় মিরপুর-১০ মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে ও গোলচত্বর ঘিরে টাইলস করা ফুটপাতের বড় অংশ দখল করে বসেছে জুতা ও কাপড়ের দোকান। একইভাবে আইডিয়াল গার্লস স্কুলের সামনের মূল সড়ক, হোপের হোলি এলাকা, মিরপুর-১, মিরপুর-১১, পুরবী সুপার মার্কেটের সামনের সড়ক, মুসলিম বাজার এলাকা, মিরপুর-৭, ভাষানী মোড়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ফুটপাত দখল করে চলছে বাণিজ্যিক কার্যক্রম।

স্থানীয়দের দাবি, গত বছরের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এসব এলাকায় দখলদারিত্ব আরও বেড়েছে। সড়কের ওপর মাছ, মুরগি, সবজি, ফলমূল ও বিভিন্ন পণ্যের অস্থায়ী দোকান বসিয়ে চলাচলের পথ সংকুচিত করে ফেলা হয়েছে। ফলে প্রতিদিন সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট এবং বাড়ছে ছোট-বড় সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, এসব দোকানের আড়ালে মাদক ব্যবসা, চুরি-ছিনতাই এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডও বেড়ে চলেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন অজুহাতে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ চাঁদা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ফুটপাত দখল হয়ে গেলেও পল্লবী ও রূপনগর অঞ্চলে সিটি করপোরেশনের দৃশ্যমান উচ্ছেদ অভিযান কেন নেই? সড়ক ও ফুটপাত জনগণের ব্যবহারের জন্য নির্মিত হলেও সেগুলো দখলমুক্ত রাখতে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা কোথায়?

সচেতন মহলের মতে, শুধু উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন নয়, বিদ্যমান অবৈধ দখল, অবৈধ সংযোগ এবং চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণও জরুরি। তাদের দাবি, দ্রুত সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করা হলে একদিকে যেমন জনভোগান্তি কমবে, অন্যদিকে সরকারি সম্পদের অপব্যবহারও হ্রাস পাবে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সর্বশেষ - আইন ও আদালত