বুধবার , ২৮ মে ২০২৫ | ১৫ই ভাদ্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন ও আদালত
  3. আওয়ামীলীগ
  4. আন্তর্জাতিক
  5. খেলাধুলা
  6. জাতীয়
  7. তথ্য-প্রযুক্তি
  8. ধর্ম
  9. বি এন পি
  10. বিনোদন
  11. বিশেষ সংবাদ
  12. রাজধানী
  13. রাজনীতি
  14. লাইফস্টাইল
  15. শিক্ষা

🔥 পল্লবীতে পরকীয়ার জের: খুন-খারাবি আর রক্তের গন্ধে জর্জরিত রাজধানী! 🔥

প্রতিবেদক
বাংলাদেশ একাত্তর
মে ২৮, ২০২৫ ১১:২১ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২৮ মে ২০২৫

রাজধানীর পল্লবীতে রক্তের হোলিখেলায় এবার ঘটিয়েছে নতুন একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড। স্বামী-স্ত্রীকে জবাই করে হত্যা করেছে প্রেমিক—একটি দুর্বৃত্তায়নের চিত্র ফুটিয়ে তুলছে রাজধানীর নিরাপত্তা পরিস্থিতির বাস্তবতা। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে—এ কি নিছক প্রেমঘটিত হত্যাকাণ্ড, না কি এর পেছনে রয়েছে অপরাধ জগতের অদৃশ্য শিকড়?

আজ ২৮ মে দুপুর ২টা থেকে ৩টার মধ্যে পল্লবী থানাধীন মিরপুর ১১ বি-ব্লক এলাকার একটি ফ্ল্যাটে ঘটে এই নৃশংস ঘটনা। স্বামী নাজমুল হাসান পাপ্পু (৩৫) ও স্ত্রী দোলনা আক্তার দোলাকে (২৯) ছুরি দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে হত্যা করা হয়। ঘটনার মূল অভিযুক্ত, গাউস মিয়া (৩২), দীর্ঘদিন ধরে দোলনার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুললেও জানতেন না যে দোলনার এখনও বৈবাহিক সম্পর্ক বিদ্যমান।

যেমনই ঘটনার দিন পাপ্পু দেশে ফিরে আসেন, গাউসের সঙ্গে মুখোমুখি সাক্ষাতের পর তার মাথা গরম হয়ে ওঠে এবং প্রাণহানি ঘটায় । পরিচিতদের মাধ্যমে জানা যায়, পাশের ফ্ল্যাটের লোকজন গাউসকে ‘ডাকাত’ সন্দেহ করে আটক করলে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সহযোগীতায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। মৃতদেহ দুটি পাঠানো হয়েছে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের ময়নাতদন্ত বিভাগে।

পল্লবী: অপরাধের দুর্গ?

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা পল্লবীকে আবারও আলোচনায় নিয়ে এসেছে। এর আগে দুই মাস আগে যুবদল নেতা সেলিমের হত্যার মতো একাধিক অপরাধ পল্লবী থানাকে করেছে অপরাধের ‘হটস্পট’। প্রকাশ্যে চলছে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় সন্ত্রাস, যেখানে যুবলীগের কিছু নেতাদের দ্বারা চাঁদাবাজি, ছিনতাই, ডাকাতি, মাদক ব্যবসা এবং কিশোর গ্যাংয়ের মাধ্যমে জনজীবন অতিষ্ঠ।

এমনকি, দুজন কুখ্যাত সন্ত্রাসী, বিহারী আড্ডু ও কালা পাপ্পু, প্রকাশ্যে হামলা চালালে কালা পাপ্পুর সাথে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে তাঁদের সখ্যতা এতটাই গভীর যে মামলাও হয়নি। অদৃশ্য শক্তির কারণে অপরাধীরা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় লুকিয়ে রয়েছে, যার ফলে প্রশাসন সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে কাজ করতেও ব্যর্থ হচ্ছে।

এক স্থানীয় সূত্র জানায়, পাপ্পু প্রতি মাসে পুলিশের নাম করে মিল্লাত ক্যাম্পের মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা তোলে। তাঁর বোন পরিচিত ‘মাদকের রানি’ হিসেবে, যিনি বিভিন্ন বাণিজ্যিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। প্রশাসনের নির্লিপ্ততা অপরাধীদের উৎসাহিত করছে।

অপরাধ হটস্পটের তালিকা:

পল্লবীর বিভিন্ন স্থান অপরাধীদের অবাধ উপস্থিতির কারণে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। নিচে উল্লেখিত স্পটগুলোতে অপরাধ বেড়ে গেছে:

১. বাউনিয়াবাধ এলাকার বস্তি – মাদক, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং
২. মিরপুর-১১ ট্রাক স্ট্যান্ড এলাকা – পরিবহন চাঁদাবাজি ও মাদক
৩. কলাবাগান বস্তি মোড় (মিরপুর ১১) – ছিনতাই, মাদক বিক্রি
৪. লালমাটিয়া মোড় – অবৈধ দখল বাণিজ্য
৫. মিল্লাত ক্যাম্প – সন্ত্রাস, মাদক সিন্ডিকেট
৬. আদর্শ নগর – রাজনৈতিক কিশোর গ্যাং কালচার
৭. পলাশ নগর – মাদক ব্যবসায়ী ও অস্ত্র ব্যবসায়ীদের নিরাপদ আশ্রয়
৮. কালাপানি বস্তি – মাদক বানিজ্য ও সন্ত্রাস
৯. মুসলিম বাজার – কালাপানি, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, মাদক সন্ত্রাস
১০. পল্লবী থানা সংলগ্ন বেগুনটিলা বস্তি – মাদক বানিজ্য ও সন্ত্রাস
১১. কালসী লোহার ব্রিজ এপার ওপার – নদী দখল বানিজ্য বিভিন্ন কোম্পানির সাইনবোর্ড ও সন্ত্রাস বাহিনীর কর্মকাণ্ড
১২. ধ-ব্লক বালুর মাঠ বস্তি – মাদক বানিজ্য ও সন্ত্রাস
১৩. মিরপুর ১২ সিরামিক রোড – সড়ক পার্কিং, পরিবহন চাঁদাবাজি, চুরি, ছিনতাই
১৪. টেকেরবাড়ী বস্তি – মাদক, চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি
১৫. মিরপুর ডি-ব্লক লাল মাঠ – দখল, চাঁদাবাজি, মারামারি, সন্ত্রাস
১৬. মিরপুর ১২ পূর্ব-উত্তর কালশী – মাদক, চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি
১৭. মিরপুর ১২ পুরাতন থানা রোড – হারুন মোল্লা ঈদগা মাঠ পশ্চিম ও দক্ষিণ পাশে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, মাদক বানিজ্য।

এমতাবস্থায়, স্থানীয় জনগণ এর খোঁজ নিয়ে প্রশ্ন তুলছে—পুলিশ যদি অপরাধীদের বন্ধু হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? পল্লবীতে আজকের খুন কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি হলো অপরাধের পাহাড়চূড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা সমাজের দিশেহারা চিত্র। প্রেমের নামে খুন, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় চলে মাদক কারবার, আর পুলিশ-প্রশাসন দর্শকের ভূমিকায়—এসবই পল্লবীর বাস্তবতা।

পল্লবীর বাসিন্দারা—মিন্টু,হুমায়ুন, লেলিন, আলাউদ্দিন, কবির, মাসুম—বলেছেন যে, যত দ্রুত প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারবে, তত দ্রুত পল্লবী আবারও নিরাপদ ও সুন্দর হয়ে উঠতে পারবে। আইন-শৃঙ্খলার এই অব্যবস্থা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি সমগ্র সমাজের জন্য এক বিপজ্জনক সংকেত। অপরাধীদের খপ্পর থেকে রেহাই পেতে প্রশাসনকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

পল্লবীর মানুষ এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের দাবি—এই অবস্থা চলতে থাকলে, ভবিষ্যতের প্রতিটি দিন আরো অন্ধকারময় হয়ে উঠবে, যেখানে সামাজিক শান্তি ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা হবে আদৌ সম্ভব নয়। পল্লবী যেন অপরাধের দুর্গে পরিণত হয়েছে, আর সাধারণ জনতা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তাই, প্রয়োজন এখনই কার্যকর পদক্ষেপ, যা পল্লবীকে পুনরায় একটি নিরাপদ আবাসে পরিণত করতে হবে।

সর্বশেষ - আইন ও আদালত

আপনার জন্য নির্বাচিত

কোটালিপাড়ায় পশু ডাক্তারের লুচুপনার ভিডিও ভাইরাল

চিত্রনায়িকা তানিন রহমান সুবহা আর নেই

দুঃখের কান্না ধরে রাখতে পারেননি চিত্রনায়ক সোহেল রানা: বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য হাসপাতালেও ঠাঁই নেই!”

রিকশা চালকদের জন্য ‘পোশাক ট্যাক্স’: মিরপুর ডিওএইচএস-এ ঢুকতেই গুনতে হচ্ছে ৮০ টাকা!

গুম-খুনের রাজনীতির মাধ্যমে বিএনপি প্রতিষ্ঠা: তথ্যমন্ত্রী

দেলোয়ার হোসেন সাঈদী”চলে গেলেন ‘না’ ফেরার দেশে

“করিডোর নয়, গণতান্ত্রিক সরকারের নেতৃত্বে দেশ চলবে: সেনাপ্রধান”

সেফটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মেট্রোরেলের পিলারে ধাক্কা:আহত ৭

মিরপুরে নকশা বহির্ভূত ভবন নির্মাণ করায় রাজউকের জরিমানা ও উচ্ছেদ অভিযান

ফ্রিডম ইন্টারন্যাশনালের আহ্বান: তাপসী তাবাসসুম ঊর্মিকে হয়রানি না করার অনুরোধ