৪৫ বছরে গোপালগঞ্জে উন্নয়নের বদলে লুটপাট : শেখ সেলিমের ‘অভিজাত সাম্রাজ্য’ বনাম জনগণের বঞ্চনা।
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি: ২৭ আগস্ট ২০২৫
“গোপালগঞ্জে কোনো উন্নয়ন বাকি নেই, সব হয়েগেছে”,এমন দাবি করেছিলেন শেখ সেলিম। অথচ বাস্তবে সেটি জনগণের কাছে একটি মিথ্যা ও বানোয়াট দাবি ছাড়া আর কিছু নয়। এলাকার মানুষ বলছে, গোপালগঞ্জ শহর দেখলেই বোঝা যায় সেখানে উন্নয়নের পরিবর্তে ধ্বংসযজ্ঞের চিহ্নই রয়ে গেছে। আজও শহরের চিত্র দেখে মনে হয়—সুনামির ঝড়ে বিধ্বস্ত কোনো নগরী।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, শেখ সেলিম ঢাকায় বসে আসনকে ব্যবহার করেছেন নিজের ক্ষমতা ধরে রাখার স্বার্থে। প্রতিদ্বন্দ্বী বের হলে তাদের বাড়িতে হামলা, অগ্নিসংযোগ। সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার কেড়ে নিয়ে একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম করা ছিল তার একমাত্র লক্ষ্য।
মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে সংযোগ ভেঙে রাখা হয়েছে ভাঙ্গা পর্যন্ত। চাইলে তিনি সহজেই ফোর লেন সড়কটি টেনে গোপালগঞ্জ থেকে মোল্লার হাট পর্যন্ত সম্প্রসারণ করতে পারতেন, কিন্তু করেননি। তার একমাত্র লক্ষ্য ছিল এবার ছেলে শেখ নাঈমকে এমপি বানানো, কিন্তু গণঅভ্যুত্থানে সেই পরিকল্পনা সফল হয়নি।
পাকিস্তানিরা ১৯৬৯ সালে যে বোমা মেরেছিলো, তার ঘাও যেন এখনো শুকায়নি। স্বাধীনের এত বছর পরও উন্নয়নের নামে জনগণ পেয়েছে শুধু আশ্বাস, প্রতারণা আর একচ্ছত্র আধিপত্য। শহরের পাশেই কাঁচা রাস্তা, ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডে নেই পাকা সড়ক, নেই ওয়াসার পানি। জমির দলিল আটকে সাধারণ মানুষকে বছরের পর বছর জিম্মি করা হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, শেখ সেলিম ও তার ছেলে নাঈম উন্নয়নের নামে শতশত কোটি টাকা তুলে বিদেশে বাড়ি-গাড়ি করেছেন। কিন্তু জনগণের ভাগ্যে কোনো উন্নয়ন আসেনি। ৪৫ বছরে গোপালগঞ্জবাসীর উন্নয়ন না হলেও, শেখ পরিবারের ব্যক্তিগত উন্নয়ন হয়েছে অগণিত।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, গোপালগঞ্জবাসী আবেগের নৌকায় ভর করে ভোট দিয়েছে। কিন্তু প্রার্থী পরিবর্তনের সাহস কেউ দেখাতে পারেনি, কারণ শেখ সেলিম বাহিনীর ভয়ে দাঁড়ানোই ছিলো কঠিন। একবার লিয়াকত ভূঁইয়া প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, কিন্তু সেদিন রাতেই তার বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় সেলিম বাহিনী।
এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছে,“আমরা তিন পুরুষ শেখ সেলিমকে শুধু নামেই দেখেছি, বাস্তবে মানুষ তাকে চেনে না। তিনি ঢাকার বনানীতে আরামে শুয়ে থেকেও গোপালগঞ্জ-২ আসনের এমপি হয়ে যান। জনগণের দুঃখ-দুর্দশা তার চোখে পড়ে না।”
স্থানীয়দের দাবি, এবার সময় এসেছে নতুন প্রজন্মের হাতে গোপালগঞ্জের ভাগ্য পরিবর্তনের। চার দশকের দুঃশাসন, ভীতি ও বঞ্চনা ভেঙে জনগণ চায় প্রকৃত উন্নয়ন, প্রকৃত নেতৃত্ব।