রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ৪ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু:
(কামরুল ইসলাম টিটু) শনিবার: ১৩ জুলাই ২০২৪)
রাজধানীতে প্রবল বর্ষণের পর জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে পৃথক স্থানে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১২ জুলাই) পল্লবী, ভাষানটেক ও পুরান ঢাকায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে।
শনিবার (১৩ জুলাই) দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে মৃতদের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। পরে মরদেহগুলো তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
নিহতরা হলেন পল্লবীতে রাসেল দাস (২৭) ও আলাউদ্দিন (১৭), ভাষানটেকে আব্দুর নূর (৩৫) ও পুরান ঢাকায় আইউব আলী শেখ (৪৫)।
পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল আজিজ গণমাধ্যমকে বলেন শুক্রবার প্রবল বর্ষণের সময় বারনটেক আজিজ মার্কেট একটি ফার্নিচার দোকানে পানির জমে যায়। ওই ময়লা পানিতেই কর্মচারী রাসেল দাস ও আলামিন বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়।
স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানেই তারা মারা যান। পরে পুলিশ শুক্রবার বিকালে ওই হাসপাতাল থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য শনিবার সকালে মর্গে পাঠায়।
এদিকে, পুরান ঢাকার কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাজীব ঢালী জানান, শুক্রবার পুরান ঢাকার আগরবাতি গলিতে বৈদ্যুতিক জোড়া খাম্বার সামনে পানির মধ্যে আউব আলী অচেতন হয়ে পড়েন। পরে লোকজন তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। তিনি পেশায় রংমিস্ত্রি ছিলেন।
অপরদিকে ভাষানটেক থানার উপপরিদর্শক (এসআই) প্রনয় কৃষ্ণ মণ্ডল জানান, শুক্রবার সকালে বাসার নিচে জমে থাকা পানির মাঝে হেঁটে যাওয়ার সময় সেখানে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন আবদুল নুর (৩৫)। পরে লোকজন তাকেও কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়।
সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আবদুর নূর উত্তর ভাষানটেক এলাকায় একটি বাসায় থাকতেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, আগে এত জলবদ্ধতা হতো না এখন বর্ষাকালেই ওয়াসার রাস্তা কাটাকাটির কারণে বিভিন্ন রাস্তায় পানি জমে এই ধরনের দুর্ঘটনার সম্মুখীন হচ্ছে সাধারণ জনগণ। এই মৃত্যুর দায়ভার কে নিবে এ নিয়ে স্থানীয় লোক জনের ভিতরে ক্ষোভ বিরাজ করছে।