দেশপ্রেমিক রাজনীতিককে ঘিরে বিতর্কে অবুঝ ছাত্রদের মাঠে নামানো হচ্ছে ষড়যন্ত্রের অংশ-এখনই তার পাশে দাঁড়ানোর সময়
রাজু আহমেদ । প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৫
ঢাকা, ২৫ আগস্ট ২০২৫ : মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, অভিজ্ঞ আইনজীবী ও প্রবীণ রাজনৈতিক নেতা ফজলুর রহমানকে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্ক নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ১৯৭১ সালে কিশোরগঞ্জে মুজিব বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এ নেতা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন, একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং বর্তমানে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার অধিকারী এ মুক্তিযোদ্ধাকে নিয়ে প্রশ্ন তোলা দেশের ইতিহাস ও মর্যাদাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করার শামিল বলে মনে করছেন অনেকেই।
২৩ আগস্ট দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফজলুর রহমান জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্র শিবিরকে ‘কালো শক্তি’ হিসেবে আখ্যায়িত করলে বিষয়টি ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। এর জেরে পরিকল্পিতভাবে একদল তরুণ তার বাসার সামনে বিক্ষোভ করে, সড়ক অবরোধ করে এবং সেনা মোতায়েনের দাবি তোলে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি শুধু একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদ নয়, বরং বৃহত্তর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তরুণদের ব্যবহার করার একটি কৌশল।
অভিজ্ঞ মহলের মতে, ফজলুর রহমান কখনোই দেশবিরোধী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। বরং তিনি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের রাজনীতির ধারক এবং গণতন্ত্রের সংগ্রামে নিবেদিতপ্রাণ আইনজীবী। একজন মুক্তিযোদ্ধা নেতাকে হেয় করার চেষ্টা মানেই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে অস্বীকার করা, জাতিকে অপমান করা।
রাজনীতির নামে অপ্রস্তুত ও অভিজ্ঞতাহীন তরুণদের রাস্তায় নামিয়ে দেওয়া দেশের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির জন্যও অশুভ সংকেত। বিশ্লেষকদের মতে, এর মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দুর্বল করার পাশাপাশি অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছে। তবে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, তরুণরা যেন রাজনীতির স্লোগানের আড়ালে নয়, বরং পড়াশোনা ও যোগ্যতা অর্জনের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের প্রস্তুতি নেয়।
এ প্রসঙ্গে ছাত্রদলের পদবঞ্চিত কেন্দ্রীয় নেতা সাজিদ আহমেদ সুমন বলেন, “ফজলুর রহমানের মতো নেতারা জাতির সম্পদ। তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র মানেই জাতির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। এখন সময় এসেছে, দেশপ্রেমিক সবাইকে তার পাশে দাঁড়াতে হবে।”