নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা | ২২ অক্টোবর ২০২৫
তিন লাখ টাকায় হত্যার অডিও ভাইরালের পর আবারও নতুন বিতর্কে জড়ালেন মিরপুরের আলোচিত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রাসেল খান। এবার তার বিরুদ্ধে উঠেছে চাঁদাবাজির অভিযোগ, আর সর্বশেষ সংগঠন থেকেও তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
রাজধানীর মিরপুর ১১ নম্বর মোহাম্মদীয়া মার্কেটের এক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেছেন, পল্লবী থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের নবনিযুক্ত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাসেল খান তার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। অভিযোগে বলা হয়, টাকা না দিলে ভয়ভীতি দেখিয়ে ও নানা অজুহাতে চাপ প্রয়োগ করে শেষ পর্যন্ত তিনি ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী বলেন,
“রাসেল এসে বলে, ‘তুমি ব্যবসা করো, মার্কেটে কোনো সমস্যা হলে আমি দেখব।’ আমি বলেছিলাম, আমি তো কোনো অবৈধ কাজ করি না। তারপরও সে ভয় দেখিয়ে টাকার দাবি তোলে। শেষে ভয়ে ৫০ হাজার টাকা দিতে বাধ্য হই। এখন কথা বললে সে বড় ক্ষতি করতে পারে— এমনকি হত্যার জন্য কিলার ভাড়া করতেও পারে।”
এর আগে সংবাদমাধ্যম বাংলাদেশ একাত্তর ডটজম এ প্রকাশ করে এক ভয়াল অডিও, যেখানে রাসেল খান ও এক ভাড়াটে খুনির কথোপকথন শোনা যায়।
“হত্যা তিন লাখ, আধমরা পঞ্চাশ হাজার।”
অডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। নেটিজেনরা বিএনপির শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংগঠন জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল থেকে রাসেলকে বহিষ্কার ও তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
সংগঠন থেকে বহিষ্কার
অবশেষে নানা অভিযোগের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর উত্তর এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে রাসেল খানকে বহিষ্কারের ঘোষণা দেয়।
সংগঠনের সভাপতি শেখ ফরিদ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী রনি স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়,“দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে
পল্লবী থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রাসেল খানকে বহিষ্কার করা হলো।”প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, দল তার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে যথাযথ তদন্তের পর সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে কেউ জড়ালে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
অডিও ভাইরালের পর থেকেই রাসেল খানের একের পর এক অনিয়ম ও অপকর্ম প্রকাশ্যে আসছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ,“রাসেলের মতো দুষ্কৃতকারীরা দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। এমন অপরাধীদের শাস্তি না হলে সাধারণ মানুষ রাজনীতির প্রতি আস্থা হারাবে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাসেল খান গত কয়েক মাসে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় দখলবাজি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। তিনি কিছু প্রভাবশালী নেতার ঘনিষ্ঠতা অর্জন করে অর্থের বিনিময়ে সংগঠনে পদও নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
দলের অবস্থান
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পল্লবী থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান বাবু বলেন,“চাঁদাবাজির বিষয়টি আমি শুনিনি, তবে হত্যার অডিও সম্পর্কে জানি। বিষয়টি তদন্তাধীন, প্রমাণিত হলে অবশ্যই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অন্যদিকে, ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মো. ফরিদ বলেন,“কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন দলের কেউ অপরাধে জড়ালে কোনো ছাড় নেই।” তিনি আরও বলেন, পল্লবী থানা ১৬ নম্বর আসনের অন্তর্ভুক্ত। সেখানে আমিনুল হক ভাই অত্যন্ত দক্ষ রাজনীতিবিদ। তিনি চাইলে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারবেন এতে কোনো সন্দেহ নেই।”
অডিও ভাইরাল, চাঁদাবাজির অভিযোগ, নেটিজেনদের ক্ষোভ সবকিছুর পর অবশেষে সংগঠন থেকে বহিষ্কৃত হলেন মিরপুরের আলোচিত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রাসেল খান।


















