নারী

‘বার ড্যান্সার’ জান্নাতের ফাঁদে বহুপুরুষ নিঃস্ব!

%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%a1%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a7%87%e0%a6%b0

প্রতিবেদনক/সাদ্দাম হোসেন মুন্না:

সুন্দরীদের রূপ লাবণ্যে মুগ্ধ সবাই, তবে বিপত্তি ঘটে তখনই, যখন কেউ কোনও ভয়ঙ্কর সুন্দরীর ফাঁদে পড়ে যান! অসাধু সুন্দরীদের চেহারায় থাকে আভিজাত্যের ছাপ। একাধিক অবৈধ সম্পর্ক ও বিয়ে করার পরও নিজেকে কুমারী পরিচয় দেন অনেকেই। এমনই এক নারীর সন্ধান মিলছে সে কখনো অন্তরা চৌধুরী কখনো বা জান্নাত নামে বিভিন্ন পুরুষের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ফাঁদে ফেলে হাতিয়ে নেয় লাখ লাখ টাকা। সেই টাকার ক্যাশিয়ার হিসেবে রয়েছেন তার গর্ভধারিণী ‘মা’ বৃষ্টি চৌধুরী। শুনে আপনাদের অবাক লাগারই কথা, গর্ভধারিণী মা কখনো নিজের মেয়েকে দিয়ে দেহব্যবসার মত কাজ করাতে পারে?

বৃষ্টি চৌধুরীর এক ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বলেন এখন মেয়ে যে কাজ গুলো করছে সেই কাজ বৃষ্টি চৌধুরীও এক সময় এই কাজ করতো।  সেখানেই পরিচয় লিটনের সাথে” লিটন একজন হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক। তিনি পেশায় একজন স্বর্নকার। পরে বৃষ্টি ও লিটনের মধ্য একটা প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। পরে তারা বিয়ে করে। লিটন এখন নিজেকে মুসলিম পরিচয়ে চলে বৃষ্টি চৌধুরীর নামের সাথে তিনিও এখন লিটন চৌধুরী বনে গেছেন। বয়সের ভারে বৃষ্টির চৌধুরী অনৈতিক কর্মকাণ্ড চাইলেও করতে পারেনা।  তাদের সুন্দরী কন্যা অন্তরা চৌধুরী (ছদ্মনাম জান্নাত)  এখন মায়ের পুরনো ব্যবসা করে আসছে। তার মা বাবা পুরো সাপোর্ট করে অন্তরাকে।

টঙ্গী ও ঢাকার বিভিন্ন আভিজাত্য হোটেলে বারের ড্যান্সার জান্নাত হলেও পরিবার ও তার নিকটতম আত্মীয়ের কাছে অন্তরা চৌধুরী। অন্তরা চৌধুরীর ছদ্মনাম “জান্নাত”। সুন্দরী হওয়ার সুবাদে অনেক বিত্তশালীদের তার প্রেমের ফাঁদে ফেলতে বেশি সময় লাগেনা।

তার এ সকল অপকর্মের সহযোগী মা বৃষ্টি চৌধুরী “বাবা লিটন চৌধুরী। মেয়েকে দিয়েই অসৎ উপার্জন করাতে তাদের বিবেক বুদ্ধি এতটুকু নাড়া দেয়নি বরং উল্টো তাদের গর্ব হয় এই সুন্দরী মেয়েকে নিয়ে।

জানাগেছে গাজীপুর টঙ্গীর একটি জামান বারে জান্নাত নামের এক অপরূপা সুন্দরী বার ড্যান্সারের সাথে পরিচয় হয় শামসুল হক নুরু নামে এক যুবকের সাথে ২০১৮ সালে। পরিচয় থেকে বন্ধুত্ব এরপর মোবাইল নাম্বার আদান প্রদান হয়। পাসপোর্টে অন্তরা চৌধুরী নাম থাকলেও বার ড্যান্সার জান্নাত নামেই সে পরিচিত রঙ্গমহলে।

একপর্যায়ে অন্তরা চৌধুরী ওরপে জান্নাত এবং মা বৃষ্টি চৌধুরী ওই যুবকে রাজধানীর মিরপুর-১ আহমেদ নগরের বাসায় দাওয়াত দেন। সেই থেকে তাদের মাঝে ঘনিষ্ঠতা শুরু হয়। গড়ে উঠে প্রেমের গভির সম্পর্ক। আড়াই বছরে নুরুরের কাছ থেকে প্রায়ই ১৯ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় মা মেয়ের চক্রটি। এমন একটি তালিকা হাতে এসেছে এই প্রতিবেদকের কাছে।

সুত্রে জানা যায়, শামসুল হক নুরুর সাথে সম্পর্কের আগেও অন্তরার দুই টা বিয়ের খবর গোপন রাখে। এবং সম্পর্ক চলাকালীন সময়ে অন্তরার বাসা মিরপুর ১ নম্বরে অবাদে যাতায়াত ছিলো প্রেমিক নুরুর। আশপাশের অনেকেই তাদের স্বামী স্ত্রী হিসেবেই জানতো। শামসুল হক নুরুর টাকা শেষ গেলে মা মায়ের আসল চরিত্র সামনে আসে। মায়ের প্রলোভনে মেয়েকে গোপনে শাকিল নামের আরেক যুবকের সাথে বিবাহ দেয় কিন্ত সেই বিয়ে আর বেশি কিছু রান করতে পারেনি শাকিলের টাকা ছিলোনা। পরে তৃতীয় স্বামী শাকিলকে ডিভোর্স না দিয়েই চতুর্থ স্বামী মালোশিয়া প্রবাসী জিল্লুল রহমান জিকোকে বিয়ে করেন অন্তরা চৌধুরী। প্রেমিক শামসুল হক নুরু মা মায়ের আচরনে কিছুটা হলেও উপলব্ধি করতে পারে যে তিনি মা মায়ের প্রতারণার ফাঁদে আটকে গেছেন। এরপর থেকেই নুরুর সাথে তাদের সম্পর্কের দুরত্ব হতে থাকে।

অন্তরা ও তার মা বৃষ্টি চৌধুরী নুরুকে আর আগের মত সমাদর করেনা। অন্তরা পরপর আরো দুটো বিয়ে করে। বিষয়টি নুরু জানতে পারলে সে তার ১৯ লক্ষ টাকা ফেরত চাইলে অন্তরা চৌধুরী ও তার মা বৃষ্টি চৌধুরী তাকে বিভিন্ন মামলা হামলার ভয়ভীতি হুকমি প্রদর্শন করে।

মা মায়ের প্রতারণার শিকার শামসুল হক নুরু বলেন অন্তরা চৌধুরীর সাথে টঙ্গীর জামান বার এ পরিচয় হয়। বার ড্যান্সার হিসাবে তার নাম জান্নাত। সে ওখানে নাচ করতো। পরিচয়ের সুবাদে আমাদের ঘনিষ্ঠতা হয়। অন্তরার বাসায় যাতায়াতে আমাদের সম্পর্ক গভির হতে থাকে। এর ভিতরে বিভিন্ন অযুহাতে নানী, মামা’র অসুখের কথা, যশোরে বাড়ী নির্মানের কথা, অন্তরা বাবা লিটন চৌধুরীর স্বণের ব্যবসার কথা বলে মোট ১৯ লাখ টাকা নিয়েছে।

কিছু দিন আগেও অন্তরার বাবার হাতে একলক্ষ টাকাও দিয়েছিলাম অন্তরার জন্য একটি সোনার হার বানাইতে। তিনি আরও বলেন অন্তরার মায়ের বিকাশ নাম্বারে প্রায়ই সাড়ে চার লাখ টাকা দিয়েছি। বাকি টাকা গুলো ক্যাশ দিয়েছি। আমাকে তার মেয়ের জামাই বলেও সব জায়গায় পরিচয় করিয়ে দিত। আমাদের বিয়ের দিন তারিখ ও ঠিক হয়েছে ছিলো। অথচ এর ভিতরই অন্তরা আরো দুটো বিয়ে করে।

পরে জানতে পারলাম ওরা মা মেয়ে বাবা পরিবারটি লোভী পরিবার! এভাবে মানুষের অর্থ হাতিয়ে নিয়ে প্রতারণা করে” ভালোবাসা হলো একটা খেলা ওদের কাছে। টাকা আছে যার অন্তরার মা’বাবা তাকেই জামাই বানায়। আমি যখন তাদের প্রতারণার কথা জানতে পেরেছি তখন আমার সব টাকা পয়সা কৌশলে হাতিয়ে নিয়েছে তারা। অন্তরা ও তার মাকে প্রায়ই দেড় লক্ষ টাকা দিয়ে দুটো মোবাইল ফোন কিনেদিছে। তাদের ঘরের সকল ফার্নিচার আমার কেনা, ফ্রিজ টাও আমি কিনেদিছি। এখন টাকা চাইলে উল্টো আমাকেই হুমকি দেয়। তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ বা ওদের বিরুদ্ধে কিছু বললে তারা নাকি আমার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের অভিযোগ করবে বলেও হুমকি দেয়।

এ বিষয়ে অন্তরার মা বৃষ্টি চৌধুরীর কাছে জানতে চাইলে টাকা নেওয়ার বিষয়ে অস্বীকার করে তিনি বলেন আমি নুুরুকে ছেলের মত জানতাম” নুরু আমার কাছ থেকে ৫লাখ টাকা ধার নিয়েছে ব্যবসার কথা বলে। একপ্রশ্নে অন্তরার মা বৃষ্টি চৌধুরী বলেন ফ্রিজ” মোবাইল কেন দিয়েছিলো তখন। আরেক প্রশ্নে এই প্রতিবেদকের কাছে অনুনয় করে অন্তরার মা বলেন আমি খুবই অসুস্থ হাসপাতালে আছি” সুস্থ হয়ে আমি আপনার সাথে যোগাযোগ করে নুরুর বিষয়ে বিস্তারিত বলবো। এর তিনদিন পর পুনরায় অন্তরার মায়ের সাথে যোগাযোগ করা হলে ফোন রিসিভ করে রেখে দেয় ফোনের ওপাশ থেকে বিকট শব্দে হিন্দি গান বাজছে” পরে অন্তরার মা বলেন কে? তখন এই প্রতিবেদক পরিচয় দিলে তিনি বলেন আমি একটু ব্যস্ত আছি।

পরে খোঁজ খবর নিয়ে জানাযায় বার ড্যান্সার (ছদ্মনাম জান্নাত) পাসপোর্ট নাম অন্তরা চৌধুরী নতুন আরেক বন্ধু জুটিয়েছেন তাকে নিয়ে অন্তরা ও তার মা প্রাইভেটকার যোগে যশোর এলাকায় বাড়ী নির্মাণের কাজ করাতে যাচ্ছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অন্তরার এক আত্মীয় বলেন একাধিক প্রেম” জোড়া জোড়া বিয়ে” মদের বারে নাচ গান করা মেয়েটি এবার না জানি কোন সরল মানুষের জীবন নিয়ে খেলছে। বহুপুরুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে হাতিয়ে নেওয়া কোটি টাকা দিয়ে এখন বাড়ী নির্মাণ করাতে যশোরে যাচ্ছে।

 

Print Friendly, PDF & Email
Comments
Share
bangladesh ekattor

bangladesh ekattor

বাংলাদেশ একাত্তর.কম

Reply your comment

Your email address will not be published. Required fields are marked*

ten − four =

বাংলাদেশ একাত্তর