অর্থ ও বাণিজ্য, আইন ও আদালত

ফরিদপুরে ১০ লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে এনজিও কর্মকর্তা উধাও

%e0%a6%ab%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%a6%e0%a6%aa%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a7%a7%e0%a7%a6-%e0%a6%b2%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%be%e0%a6%a7%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%9f%e0%a6%be%e0%a6%95

নুরুল হক 

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় ঋণ দেয়ার কথা বলে শতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় ১০ লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়েছে পল্লী উন্নয়ন সংস্থা’ (পিইউএস) নামের একটি এনজিওর কর্মকর্তা।প্রতারিত হওয়ার বিষয়টি টের পেয়ে নারী ও পুরুষ গ্রাহক মধুখালী উপজেলা সদরের পশ্চিম গাড়াখোলা এলাকার পিইউএস এনজিওর কার্যালয়ের সামনে এসে ভিড় করে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ব্যাপারে থানায় একটি জিডি করা হয়েছে।বুধবার সকালে সরেজমিনে পিইউএস এনজিওর কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, অফিসটি তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। অফিসের সামনে একাধিক গ্রাহকরা ভিড় করে বসে আছেন।পিইউএস এনজিওর এর গ্রাহক (সদস্য) ফাতেমা, মেরী বেগম ও জোহরাসহ কয়েকজন জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ওই এনজিওর মহিলা কর্মীরা উপজেলার রায়পুর, ব্যাসদী, ধোপাগাতি, দড়িবাজার আড়কান্দি, লক্ষ্মণদিয়া ও আমডাঙ্গাসহ আশেপাশের বিভিন্ন গ্রামের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে শতাধিক নারী ও পুরুষ সদস্য নিয়ে একেকটি সমিতি গঠন করে।এ সময় স্বল্প সুদে ২০ হাজার টাকা থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেয়ার কথা বলে চার হাজার টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রায় ১০ লক্ষাধিক টাকা গ্রাহক (সদস্য) সঞ্চয় নেয়।

                                                                                         

 সর্বশেষ গত সোমবার ঋণ দেয়ার কথা ছিল ওই দিন  গ্রাহকরা গাড়াখোলা এলাকার মিত্র ভবনে অবস্থিত ওই এনজিও অফিসে গিয়ে তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পায়।যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে ওই মহিলা এনজিও কর্মকর্তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এনজিও অফিস বন্ধের খবর ছড়িয়ে পড়লে মঙ্গলবার দুপুরে শতাধিক সদস্য এসে ওই অফিস চত্বরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। গ্রাহকরা প্রতারকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও টাকা ফেরতের দাবি জানিয়ে স্লোগান দেয়। এ সময় অনেক গ্রাহককে কাঁদতে দেখা যায়।সদস্যদের দেয়া সঞ্চয় বইয়ে পিইউএস-এর প্রধান কার্যালয়ের ঠিকানা দেয়া হয়েছে রাজধানী ঢাকার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউর খদ্দর শপিং কমপ্লেক্স, (ষষ্ঠ তলা), ৫৮ নম্বর কক্ষ, ঢাকা-১০০০। আর রেজিস্ট্রেশন নম্বর ম/বি/অ-ঢাকা-১৫২/৯৮।এনজিওটির অফিস হিসেবে ভাড়া নেয়া হয় উপজেলা সদরের মিত্র ভবনে। মিত্র ভবনের মালিক মধুখালী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রঞ্জয় মিত্র জানান, গত ২১ মে নিজেকে পল্লী উন্নয়ন সংস্থার শাখা ব্যবস্থাপক কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে সাহারা খাতুন নামে এক নারী মালিক দেশের বাইরে আছে বলে ২৮ মে চুক্তিপত্র হবে বলে আমার বাসায় ওঠে। কিন্তু মঙ্গলবার থেকে আমার বাসার সামনে লোকজন জড়ো হওয়ায় ঘটনাটি আমি থানায় জানাই।মধুখালী থানা পুলিশের এসআই মো. মাহাবুবুল করিম বলেন, এ ব্যাপারে ভবন মালিক রঞ্জয় মিত্র থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে পল্লী উন্নয়ন সংস্থার ম্যানেজার পরিচয় দেয়া সাহারা খাতুনের মোবাইলে একাধিক বার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া সম্ভব হয়নি।  

Print Friendly, PDF & Email
Comments
Share

bangladesh ekattor

বাংলাদেশ একাত্তর.কম

Reply your comment

Your email address will not be published. Required fields are marked*

13 + ten =

বাংলাদেশ একাত্তর