পল্লবীতে আটক তরুণ-তরুণীকে নিয়ে প্রশ্ন আইনের ন্যায্যতা ও প্রয়োগে
বাংলাদেশ একাত্তর.কম: সংবাদ, ২৪ মে, ২০২৬
কুষ্টিয়া থেকে নিখোঁজ হওয়া ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ঢাকার পল্লবী থানা এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয়দের মাঝে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
তথ্য সূত্রে জানা গেছে, মেয়েটি একটি ছেলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান। পরে তারা পরিবারকে না জানিয়ে পালিয়ে এসে ঢাকার পল্লবী থানা এলাকায় সংসার শুরু করেন। ছেলেটি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে চাকরি করেন।
জানা যায়, তারা মিরপুর-১০ নম্বর ব্লক-এ, রোড-৫ এলাকায় মধু ব্যাপারীর একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। পরে পল্লবী থানা পুলিশ তাদের সেখান থেকে আটক করে।
এদিকে গতকাল রাতে খোকসা থানার এসআই আলাল উদ্দিন ও ভিকটিমের বাবা পল্লবী থানায় এসে ছেলে ও মেয়েকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে যান। মেয়েটিকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হলেও এখন প্রশ্ন উঠেছে, ছেলেটির ভবিষ্যৎ কী হবে?
স্থানীয়দের দাবি, যদি দুজনের সম্মতিতে সম্পর্ক ও বিয়ে হয়ে থাকে, তাহলে শুধুমাত্র ছেলেটিকেই কেন অপহরণ মামলার আসামি হতে হবে? অনেকেই বলছেন, প্রেমের সম্পর্ক বা পারিবারিক বিরোধের ঘটনায় তদন্তের আগেই একপাক্ষিকভাবে ছেলেদের অপরাধী বানানো হচ্ছে।
সচেতন মহলের মতে, দেশে বিদ্যমান আইন ও তার প্রয়োগে সংস্কার প্রয়োজন। বিশেষ করে সম্মতিপূর্ণ সম্পর্কের ক্ষেত্রে উভয় পক্ষের বক্তব্য, বয়স, পরিস্থিতি ও বাস্তবতা যাচাই ছাড়া কঠোর মামলা দেওয়া হলে অনেক নিরীহ তরুণের জীবন অনিশ্চয়তায় পড়ে যায়।
তারা বলছেন, আইন অবশ্যই নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে, তবে একইসঙ্গে যেন নিরপেক্ষতা ও ন্যায়বিচারও বজায় থাকে। প্রেম করে পালিয়ে বিয়ে বা সম্পর্কের ঘটনায় সত্যতা যাচাইয়ের আগে কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত না করার দাবি জানিয়েছেন অনেকেই।
খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাংলাদেশ একাত্তরকে ফোনে বলেন, “এটি প্রেমের সম্পর্কজনিত ঘটনা ছিল। মেয়ের বাবা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন। সেই সূত্র ধরে ছেলে ও মেয়েকে উদ্ধার করা হয়। পরে উভয় পরিবারের জিম্মায় তাদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি।”


















