আইন ও আদালত, আওয়ামীলীগ, রাজধানী, রাজনীতি

ছাত্রলীগের সভাপতি মিঠু সহ ৭ নেতাদের বিরুদ্ধে চুরি ও ভাংচুরের মামলা

%e0%a6%9b%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%b2%e0%a7%80%e0%a6%97%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a6%a4%e0%a6%bf-%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%a0%e0%a7%81-%e0%a6%b8

বাংলাদেশ একাত্তর.কম / আব্দুল আল মাসুম:

এজাহার সুত্রে ও ভুক্তভোগীদের বরাদে জানা গেছে, পুর্বের ঘটনার জের ধরে রুপনগর থানা ছাত্রলীগের নেতা মিঠুসহ ৩০/৪০ জন দেশীয় অস্ত্র লাঠি সোঁটা নিয়ে রাতে বাসার ভিতরে ঢুকে মোঃ শামীম আহমেদ ও তার ছোট ভাই মাসুমের উপর হামলা করে। এলোপাতাড়ি ভাবে তাদের পিটিয়ে জখম করে। ঘরের জিনিস-পত্র ভাংচুর করে। স্বর্ণের কানের দুল ও স্বর্নের চেইন এবং নগত ১২ হাজার টাকা নিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহযোগীতায় রক্তাক্ত অবস্থায় শামীম আহমেদ ও তার ভাই মাসুমকে রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

যুবদলের মিছিলে বর্তমান রূপনগর থানা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রাসেল-ছবি সংগৃহীত।

২০ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর রূপনগর থানাধীন এলাকার রোড-৩, বাসা-৫৪, রুপনগর টিনসেড এ ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়ে রুপনগর থানায় ভুক্তভোগীদের মা আরনিকা সুলতানা বাদী হয়ে ৭ জনের নাম উল্লেখ করে ও আরো অজ্ঞাত নামা ২০/৩০ জনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের তদন্ত সাপেক্ষে ২৩ ডিসেম্বর মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়।

জানা গেছে, আসামীরা সবাই ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত এবং পদধারী নেতা। তারা হলেন- আসামী ১। মারুফ হোসেন মিঠু ( যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক-ঢাকা মহানগর উত্তর ও সভাপতি রুপনগর থানা ছাত্রলীগ।
২। মহিদুল ইসলাম রাসেল (যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক-রূপনগর থানা ছাত্রলীগ)।
৩। রাজিব হোসেন জেবু (সিনিয়র সহসভাপতি-রূপনগর থানা ছাত্রলীগ)।
৪। আবু জাফর নোবেল (সাংগঠনিক সম্পাদক- রূপনগর থানা ছাত্রলীগ)।
৫। মফিজুর রহমান সুমন (যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক-রূপনগর থানা ও রাজনৈতিক ৯২ নং ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক ছাত্রলীগ)।
৬। তানবির রহমান (সহসভাপতি-রূপনগর থানা ছাত্রলীগ ও সভাপতি ৭৯ নং ওয়ার্ড শিয়ালবাড়ী আবাসিক আঞ্চলিক শাখা ছাত্রলীগ)।
৭। অন্তুর সহ অজ্ঞাত নামা আরো ২০/৩০ জনের বিরুদ্ধে।
মামলার ৭দিন পার হলেও এখন পর্যন্ত এজাহার ভুক্ত আসামীদের কাউকেই আটক করতে পারেনি রূপনগর থানা পুলিশ।

এজাহার ভোক্ত আসামীদের আটকের বিষয়ে মামলার তদন্ত অফিসার (এস আই) এনামুল এর কাছে জানতে চাইলে, তিনি বলেন মামলা নিষ্পত্তি হওয়ার কথা রয়েছে  স্থানীয় ভাবে। তবে মামলা হওয়ার পর কোর্টে না গিয়ে কি ভাবে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা মামলা নিষ্পত্তি করেন। এমন প্রশ্ন সাধারণ স্থানীয় বাসিদের।

ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি মোঃ ইব্রাহিম এর কাছে জানতে চাইলে, তিনি বলেন মারামারি ও ভাংচুরের বিষয়ে আমার জানা নেই। যদি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এ ভাংচুর ও মারামারি অপরাধ কর্মকান্ডের সাথে জড়িত থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মামলার বাদী বলেন, আমাদের প্রতিনিয়ত মামলা তুলে নিতে বিভিন্ন নেতা নেত্রী চাপ প্রয়োগ করছে। স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক লোকজন বাসায় আসছেন। তারা বলছেন, মামলা তুলে নিতে ও স্থানীয় ভাবে মিমাংসা করতে।

অভিযোগ রয়েছে, রূপনগর থানা ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটিতে, যুবদলের নেতাকর্মীদের মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে পদপদবী বিক্রি করে তাদের ছাত্রলীগের কমিটিতে যোগদান করানো হয়েছে। দুর্দিনের ত্যাগী ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ঠাই মেলেনি বর্তমান কমিটিতে। মামলার ২নং আসামী মহিদুল ইসলাম রাসেলের ছাত্রদলে থাকা কিছু ছবি ফেসবুক দুনিয়ায় ঘুরপাক খাচ্ছে। অন্যরা ব্যানার মাথায় বাঁধা অবস্থায় বিভিন্ন স্থানে বিএনপির মিছিলে তাকে দেখা গেছে। বিতর্কিত এই রূপনগর থানা ছাত্রলীগের কমিটির পদ বানিজ্য নিয়ে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ ও হয়েছে।

প্রকাশিত/সময়/২টা ৫২ মিনিট/ তারিখঃ ৩১/১২/২০২০ইং

Print Friendly, PDF & Email
Comments
Share
bangladesh ekattor

bangladesh ekattor

বাংলাদেশ একাত্তর.কম

Reply your comment

Your email address will not be published. Required fields are marked*

seventeen − 15 =