মঙ্গলবার , ৩১ জানুয়ারি ২০২৩ | ১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন ও আদালত
  3. আওয়ামীলীগ
  4. আন্তর্জাতিক
  5. খেলাধুলা
  6. জাতীয়
  7. তথ্য-প্রযুক্তি
  8. ধর্ম
  9. বি এন পি
  10. বিনোদন
  11. বিশেষ সংবাদ
  12. রাজধানী
  13. লাইফস্টাইল
  14. শিক্ষা
  15. শিল্প ও সাহিত্য

চাঁদা দে না হয় কোপ খাবি; কিশোর গ্যাং বাহিনী

প্রতিবেদক
bangladesh ekattor
জানুয়ারি ৩১, ২০২৩ ১:৫৪ অপরাহ্ণ

কিশোর গ্যাং বাহিনীর ভয়ে নিজের জীবন বাঁচাতে পাঞ্জাবি কারখানা ছেড়ে দৌড়ে পলিয়েও শেষ রক্ষা হলোনা শাহিনের। চাঁদা দে, না হয় কোপ খাবি, বলেই মারধর কিশোর গ্যাং বাহিনীর।

বাংলাদেশ একাত্তর.কম; নিজেস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর পল্লবী থানা এলাকার শাহিন আকন্দ (৪৮) নামে এক পাঞ্জাবি ব্যবসায়ীর কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে উপর্যুপরি কোপ, হাতুড়ি, লাঠি দিয়ে পেটিয়ে রক্তাক্ত করে এলাকার কিশোর গ্যাং লিডার আশিক সহ তার বাহিনীর সদস্যরা।

হাসপাতালের বিছানায় কারখানার মালিক শাহিন।

সোমবার (৩০ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর পল্লবী থানা এলাকার পুলিশিং বিট সংলগ্ন লালমাটিয়া টেম্পুস্ট্যান্ড বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

ব্যবসায়ীর উপর হামলার ঘটনার একাধিক ভিডিও ফুটেজ বাংলাদেশ একাত্তর এর কাছে এসেছে।

মঙ্গলবার দিনগত রাতে (৩১ জানুয়ারি) পল্লবী থানায় ভুক্তভোগীর স্ত্রী নিলুফা (৪০) ১৩ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা ২০-২৫ জনকে আসামি করে অভিযোগ দায়ের করেন।

আওমীলীগ নেতা খালেকুজ্জামান জীবনের পুত্র কিশোর গ্যাং লিডার সন্ত্রাসী আশিক।

আসামিরা হলেন: গ্যাং লিডার আশিক ওরপে পিস্তল আশিক (২০) পিতা-খালেকুজ্জামান জীবন ওরপে খালেক, নাহিদ (১৮), হাসান (২৪), হেলাল (২২), শুভ (২০), রবিন (২০), জুয়েল (২৫), খালেকুজ্জামান জীবন (৪০), মিঠু (২৬), রাশেদ (২২), রাজন (২৩), রোমান (১৯), আহাদ (২৬), অহিদ (২০) ও অজ্ঞাতনামা ২০/২৫ জন।

ভুক্তভোগীর স্ত্রী অভিযোগে বলেন, আমার স্বামী মো. শাহিন আকন্দ পল্লবী থানার-সেকশন-১১, ব্লক-ই, লালমাটিয়া, রোড-৯, বাড়ি-১০৫/১, ২য় তলায় অবস্থিত দিলা ফ্যাশন নামক পাঞ্জাবির কারখানার মালিক। আসামি আশিক মাঝেমধ্যে আমার স্বামীর কারখানায় আসে বিভিন্ন প্রোগ্রামের কথা বলে পাঞ্জাবিসহ টাকা পয়সা নিয়ে যেত।

সোমবার (৩০ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় আসামি আশিক ও তার সহযোগী অন্যান্য আসামিসহ হাতে সুইচ গিয়ার চাকু, হাতুড়ি, লোহার রড, কাঠের বিট নিয়ে পাঞ্জাবির কারখানায় আসে। আমার স্বামীর কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। ব্যবসায়ী শাহিন (আমার স্বামী) তাদের চাঁদার টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলে আসামি নাহিদের হাতে থাকা লোহার হাতুড়ি দিয়ে কপালের উপর আঘাত করে। আমার স্বামী কৌশলে কারখানা থেকে বের হয়ে দৌড় দিলে আসামিরা তাকে ধাওয়া করে। এক পর্যায় লালমাটিয়া টেম্পুস্ট্যান্ড বাজারে এক মুরগীর দোকানের সামনে গেলে রাস্তার উপর ফেলে তার ওপর অতর্কিতভাবে হামলা চালায় আসামিরা।

অভিযোগ ও স্থানীয় সুত্রে জানাযায়, আহত শাহিনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখম করে। আশিকের হাতে থাকা সুইচ গিয়ার চাকু দিয়ে শাহিনের পিঠে ‘পার মেরে’ জখম করে। শাহিনের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে আসামিরা ওই ব্যবসায়ীকে পরবর্তীতে সুযোগমতো পেলে প্রাণে শেষ করে ফেলার হুমকি দিয়ে দৌড়ে চলে যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসী বলেন, আশিক পল্লবী থানা এলাকার কিশোর গ্যাং লিডার। আশিকের নামে থানায় আরও মামলা রয়েছে। আশিকের নামে এই গ্যাংয়ের নাম। প্রায় ছয় মাস আগে লালমাটিয়া টেম্পুস্ট্যান্ডে এক ব্যক্তিকে মারধর করে আশিক। ওই ঘটনাও মামলা হয়েছিল। আশিক প্রায়ই মানুষের সঙ্গে মারামারি গণ্ডগোল করে থাকে। সে ঝাল মুড়িওয়ালা-রিকশাওয়ালা থেকে শুরু করে সবার সঙ্গেই গণ্ডগোল করে থাকে।

স্থানীয়রা বলেন, লাল মাটিয়া শেখ কামাল স্কুলের সামনে চোরাই মোবাইল মার্কেট বসে। আশিক বাহিনী চুরি ছিনতাই করে এই মার্কেটে মোবাইল বিক্রি ও করে।

এলাকা ঘুরে জানা গেছে, খালেকুজ্জামান জীবন ও তার কিশোর গ্যাং লিডার পুত্র আশিক খিচুড়ি পট্টি বস্তির বাসিন্দা ছিলেন। বস্তিতে কে বা কারা আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে দেয়। বর্তমানে সেখানে ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুর রউফ নান্নু তার ৪ নম্বর অফিস করে নিচে মার্কেট করে ভাড়া দিয়েছেন। ঢাকা উত্তর সিটির মধ্যে ৫নং ওয়ার্ড এলাকাএকটি অপরাধ জোন হিসেবে চিহ্নিত। আওয়ামীলীগের দুইটি গ্রুপ ৫নং ওয়ার্ড শাসন করে। একটি গ্রুপ সহোদর কচি কাউন্সিলর নান্নু নিয়ন্ত্রণ করে। অপরটি এমপি গ্রুপের হয়ে আলতাফ হোসেন (কাইল্লা আলতাফ) ও আনোয়ার হোসেন রনি (পানি রনি) ও সুলতান ওরপে সুলতান সরদার নিয়ন্ত্রণ করে। খালেকুজ্জামান জীবন ও তার সন্ত্রাসী পুত্র কিশোর গ্যাং লিডার আশিকসহ তার বাহিনী কোন গ্রুপের হয়ে কাজ করে তা এখনো জানা যায়নি।

আরো জানাযায় যে, আশিকের বাবা খালেকুজ্জামান জীবন বর্তমানে আওয়ামীলীগের রাজনীতি করেন। ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সেক্রেটারি ক্যান্ডিডেট। দুই গ্রুপরে সদস্যরা এলাকা জুড়ে অপরাধ কর্মকাণ্ড ঘটিয়ে বেড়ায়। ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের সাইনবোর্ড ব্যবহার করে ৫নং ওয়ার্ডে প্রায়ই সময়ই হট্টগোল মারামারি কাটাকাটি ফুটপাত সড়ক দখল, বসত ভিটা জবরদখল কর্মকাণ্ড চলছেই। ন্যায় বিচারের আশায় দাড়ে দাড়ে শতশত মানুষ ঘুরছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, সব শেষে ক্ষমতাশালীদের পক্ষেই রায় দেয় উচ্চ ক্ষমতশালী নেতারা। লালমাটিয়া মোড়ে পল্লবী থানা বিট পুলিশং ক্যাম্প থাকলেও তেমন কোনো কাজে আসছেনা ভুক্তভোগীদের।

আহত ব্যবসায়ীকে প্রথমে নেওয়া হয় কুর্মিটোলা হাসপাতালে। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। ভুক্তভোগীর ১০টি সেলাই লেগেছে।

পল্লবী থানা উপ-পরিদর্শক (এসআই) কামরুল ইসলাম বলেন, ব্যবসায়ীর ওপর হামলার ঘটনায় তারা একটি অভিযোগ করেছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। তবে লালমাটিয়ার পুলিশিং বিট ইনচার্জ আতাউর রহমান তিনি অভিযোগটি তদন্ত করিবেন এবং মামলা প্রকৃয়াধীন।

সর্বশেষ - অন্যান্য