আওয়ামীলীগ, জনদুর্ভোগ, জাতীয়

কোটি টাকার বিনিময়ে দুয়ারীপাড়া সড়কে ফের বসেছে দোকানপাট: সকালে উচ্ছেদ বিকালে যা-তাই

%e0%a6%95%e0%a7%8b%e0%a6%9f%e0%a6%bf-%e0%a6%9f%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%ae%e0%a7%9f%e0%a7%87-%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a7%9f%e0%a6%be%e0%a6%b0

  বাংলাদেশ একাত্তর.কম/ মাসুম :

কয়েক হাজার দোকান বসিয়ে এক রাতেই কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠে। রূপনগর এলাকার সড়ক ও ফুটপাত নিয়ে। স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহল, পুলিশ ও এক কাউন্সিলরের আশীর্বাদক্রমে পুলিশের সোর্স কাদের, ছদ্মবেশী মাছ বিক্রেতা আওলাদ, এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী সুজন, কথিত এক সাংবাদিক সিন্ডিকেট করে তারা সড়কে বাজার বসিয়ে চাঁদা তুলেন।

অভিযোগ উঠে, দুয়াড়ীপাড়া মোড় থেকে মোল্লা টাওয়ার পর্যন্ত তিন ফুট করে ফিতা মেপে দোকান বসিয়ে প্রতি দোকান থেকে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা নিয়ে প্রায়ই কোটি টাকা চাঁদাবাজির মহা উৎসব সোর্স কাদের সিন্ডিকেটের। স্থানীয়রা জানান, রুপনগর থানার ওসি, স্থানীয় এক কাউন্সিলর আওয়ামিলীগ নেতার নাম ভাঙ্গিয়ে সোর্স কাদের সিন্ডিকেটের সদস্য, মাছ বিক্রেতা আওলাদ এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী সুজন, কথিত এক ইউটিউব সাংবাদিক ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উচ্ছেদ অভিযানকে বৃদ্ধা আঙ্গুলী দেখিয়ে দোকানপাট বসিয়ে কোটি টাকা তুলে এলাকায় সমালোচনার ঝড় তুলেছেন। যা প্রকৃত আওয়ামীলীগের রাজনৈতিকবীদরা সমালোচনার সম্মুখীন হচ্ছেন বার বার। তারা মনে করছেন। যারা দলের নাম ভাঙ্গিয়ে  সাধারণ মানুষের চলাচলের রাস্তায় যানজট সৃষ্টি করে ফুটপাত ও সড়ক দখল করে দোকান বসিয়ে চাঁদাবাজি করছে। তারা দেশের ও ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করছে। প্রশাসনের ভাবমূর্তি ও নষ্ট করেছে। এখনই তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। চাঁদাবাজির সাথে যারাই জড়িত এরা সকলেই নব আওয়ামিলীগ, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক এরা হতেই পারেনা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ অমান্য করে তারা সকল অপকর্মে লিপ্ত হচ্ছে। সরকারের নিয়ম নীতি কোনো তোয়াক্কাই করছেনা কোটি টাকার মহে পড়ে।

দুয়ারীপাড়া মসজিদ এর সামনে পুলিশের গাড়ী

একাধিক অভিযোগ রয়েছে, রূপনগর ও দুয়ারীপাড়া এলাকার সড়ক ও ফুটপাত দখল করে বিভিন্ন ধরনের ৯ থেকে ১০ হাজার দোকান বসিয়ে প্রায়ই ১ কোটি টাকা চাঁদা তুলায় স্থানীয় আওয়ামী অঙ্গসংগঠনের নেতাদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় নেতা লতিফ মোল্লা  সঙ্গীদের নিয়ে আনবিক প্রজেক্টে বসে তারা এ বাজার পরিচালনা করেন ও সড়কে পজিশন বিক্রির দায়ীত্বে কাদের সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটের নাগাল ছুতে পারেনি এখন পর্যন্ত প্রশাসনের কেউ। কাদের সিন্ডিকেট কে চাঁদা না দিয়ে রূপনগর এলাকায় কোনো ধরনের ব্যবসা করা অসম্ভব।

বুধবার ২৮ তারিখে সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, দুয়ারীপাড়া সড়কে সকালে উচ্ছেদ অভিযান হলেও বিকালে যা-তাই দুয়ারীপাড়া মোড়েই চোখে পড়ে রাজনৈতিক দলের বিশাল বড় ব্যানারে লতিফ মোল্লার ফটো টানানো। দুয়ারীপাড়া মসজিদের সামনে পুলিশের গাড়ী রাখা, তিন চারজন কিশোর সড়কে তিন ফুট করে ফিতা মেপে দোকান বসানোর কাজে ব্যস্ত। এসআই কামরুল কে দেখে এই প্রতিবেদক জানতে চাইলেন, সকালে উচ্ছেদ হলো আর বিকালেই দখল হচ্ছে আপনারা দাড়িয়ে দেখছেন দোকান বসানো হচ্ছে? তখন তিনি বলেন, গরিব মানুষ তাদের আমি বলেছি যাদের কাঁচা মাল আছে তারা বিক্রি করে করুক। আপনার গাড়ীর পিছনে লাইন করে সড়কে নতুন করে ফের দোকান বসছে। এমন প্রশ্নে: তিনি বলেন, হ্যা” আমি তো-তাই বলছি গরিব মানুষ।

এককালীন টাকা নেওয়ার পরও কাদের সিন্ডিকেট প্রতিদিন দোকান ভেদে-যেমন: মাছ দোকান ২০০ টাকা, মুরগীর দোকান ২০০ টাকা, চটপটি দোকান ২০০ টাকা, শালসার দোকান ২০০ টাকা, টোং দোকান ১০০ টাকা, সবজি দোকাব ১০০ টাকা ও ভ্যানগাড়ী থেকে ৫০ টাকা। অন্যদিকে ময়লা কামাল ও লুৎফর নামে এরা প্রতি দোকান থেকে সরকারী সম্পদ অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ও পনি দিয়ে দোকান প্রতি দৈনিক ১০০ টাকা চাঁদা নেয়।

রূপনগর থানা এলাকার সকল ফুটপাত ও সড়কের অলিগলিতে বাজার বসানো, খাল পাড়ে কেরাম বোর্ডে জুয়াসহ সকল অবৈধ স্থাপনা স্থাপনে কাদের সিন্ডিকেটের সাইন ছাড়া কোনো কিছু করা সম্ভব নয় রূপনগর থানাধীন এলাকায়!

ছদ্মবেশী মাছ বিক্রেতা আওলাদ বলেন, আমি টাকা উঠাইনি টাকা কাদের উঠাইছে। অভিযোগ আছে এই টাকা গুলো উঠায়ে ভাগবাটোয়ারা তো আপনি করেছেন? এমন প্রশ্নে: আওলাদ বলেন, আমি জানিনা কাদের বলতে পারবে। যারা আমার নামে বলছে তারা মিথ্যা বলেছে। আমি এই বাজারের সেক্রেটারি ছিলাম তাই আমার বিপক্ষের লোকজন এগুলো ছড়াইতেছে।

এ বিষয়ে জানতে কাদের এর ব্যবহারিক মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

রূপনগর থানার ওসি আবুল কালাম আজাদকে অনেক দিন ধরে কাদের সিন্ডিকেটের সকল অপকর্মের তথ্য দিলেও তিনি কোনরুপ ব্যবস্থা নিতে পারেনি। শুধু আশ্বাসের বুলি শুনিয়েছেন অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দা ও গণমাধ্যম কর্মীদের।

স্থানীয় বাসিন্দা মনির মোল্লা বলেন, স্থানীয় প্রভাবশালী বড় নেতা ও নব কাউন্সিলের নির্দেশেই  দুয়ারীপাড়ায় এলাকায় গরিব মানুষের রক্ত চুষে খায় লতিফ বাহিনী। তার সিন্ডিকেটের সদস্য  মাদক ব্যবসায়ী সুজন, থানার সোর্স কাদের, মাছ বিক্রেতা আওলাদ এদের দিয়েই সকল কিছু পরিচালনা করে।

তিনি বলেন, আওয়ামীলীগের নাম বিক্রি করে যারা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে এখনই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

স্থানীয় নেতা লতিফ মোল্লা চাঁদাবাজির সাথে জড়িত না বলে এই প্রতিবেদক কে বলেন, আমি তো কাদের কে কতবার মারতে গেছি চাঁদা তুলে বলে। তাদের বলেছি তোরা যা মন চায় তাই কর আমার নাম কস ক্যান। আমি সড়ক ও ফুটপাতের টাকা এখন খাইনা, আল্লাহ’র রহমতে আমি ভালো আছি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, কাদের সিন্ডিকেটের সাথে টিভি চ্যানলের এক ক্রাইম রিপোর্টার আছে। ২০টি দোকান তারও রয়েছে। ওসির সাথে তার খুব সুসম্পর্ক রয়েছে সে রূপনগরে একটি প্রেসক্লাব ও করেছে যার কোনো ঠিকানা নেই।

দুয়ারীপাড়া ফুটপাতের দোকান্দার কালাম বলেন , আমি এক হাত জায়গা বহু কষ্টে পেয়েছি ৫ হাজার টাকা দিয়ে। আমি দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে দোকান করি তাদের সকল শর্ত মেনে। কান্না জনিত কন্ঠে ওই দোকানদার বলেন, আওলাদ কয় তুমি আমাদের দলের লোক না তুমি বীর মুক্তিযোদ্ধা আমির হোসেন মোল্লার লোক তাই তোমাকে এক হাত দিলাম, বেশি কথা কইলে এই এক হাতও দিবোনা। প্রতিটি দোকান থেকে তারা ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা নিয়ে সড়কে দোকানের পজিশন বিক্রি করছে।

তিনি আরো বলেন, দৈনিক ৫০ থেকে ২৫০ টাকা চাঁদা দিতে হয় কাদের সিন্ডিকেটকে না দিলে পুলিশ এসে দোকান তুলে দেয়। তিনি বলেন,ওই দোকান গুলো থেকেই পুলিশের নাম করে সাপ্তাহে আবার ২০০ টাকা নেয় কাদের সিন্ডিকেট। ময়লা কামাল ও লুৎফর নেয় ৬০ টাকা। সরকারি বিদ্যুৎ ও পানির অবৈধ সংযোগ দিয়ে।

পথচারী আলী আকর বলেন, আমি নিয়মত অফিসে যাতায়াত করি ইস্টার্ন হাউজিংয়ে আমার বাসা, এক মাস আগেই সড়কের পাশে থাকা সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে সিটি কর্পোরেশন এর পর থেকে যানজট কমে গিয়েছিলো এখন আবার যা-তাই। শুনেছি প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা ও পুলিশ মিলে দোকান বসিয়েছে আমরা জেনেও কিছু করতে পারিনা। জন প্রতিনিধি ও থানার পুলিশ যদি অপরাধের সাথে যুক্ত থাকে তাহলে সে এলাকায় বসবাস করাই দুষ্কর ও বিপদজনক বটে।

স্থানীয় বাসিন্দা বিএম ইনামুল হক বলেন, রূপনগরে প্রকাশ্যে চলে কেরাম বোর্ড খেলার নামে জুয়া, শতশত কেরাম ঘর তৈরি হয়েছে রুপনগর খাল পাড় জুড়ে। এ টাকার ভাগ থানা পর্যন্ত যায়। থানার ওসিকে বার বার বলেও কোনো পদক্ষেপ নেয়না। ফুটপাত ও সড়কের বিষয়ে আর কি বলবো।

সড়কের দোকানদার মজিবর বলেন, সড়কে দোকান করি এমনিতেই অবৈধ, তারপরও যদি টাকা পয়সা না দেই তাহলে তো পুলিশ এসে ধরে নিয়ে যাবে। টাকা নিলেও শান্তিতে রাস্তায় দোকান করতে পারি।

রূপনগর থানা কৃষকলীগের সভাপতি হাজী হারুন বলেন, কিছু দিন আগে সিটি কর্পোরেশনের নেতৃত্বে সড়ক ও ফুটপাত দখল মুক্ত হয়েছিলো স্থানীয় প্রভাবশালী ও কাদের সিন্ডিকেট আবারো সড়ক দখল করে চাঁদাবাজীতে মগ্ন রয়েছে। পুলিশ কি করে বুঝিনা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রূপনগর থানার এক পুলিশ বলেন, থানার মা’বাপ হলো ওসি” স্যার, ওসি স্যার যদি মনে করেন এই থানা এলাকায় জুয়া চাঁদাবাজিসহ কোনো প্রকার অপরাধ হবেনা তাহলে অপরাধীরা এলাকা ছেড়ে পালাবে। তিনি বলেন, আমি পল্লবী থানায় থাকাকালীন সময়ে ওসি দাদন ফকির স্যারের কাজ দেখেছি পল্লবীর রাস্তা ঘাটে দোকানপাট বসিয়ে চাঁদাবাজি করা তো দুরের কথা জুয়া মাদক ব্যবসায়ীরা সহ সকল ধরনের অপরাধীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে। থানার ওসি কঠোর হলেই অনেক কিছুই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

কাদের থানার নাম করে সড়কে চাঁদা তুলে জানতে চাইলে রূপনগর থানা ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, কাদের নাম আমিও শুনেছি তাকে খুজে পাচ্ছি না। ওসি আরো বলেন, কোনো টাকা পয়সা আমি নেইনা, আমি আরো সড়কের দোকানপাট উচ্ছেদের জন্য কাউন্সিলর ও সিটি কর্পোরেশন বরাবর চিঠি দিয়েছি। কোন ভাবেই সড়কে দোকান বসতে দেওয়া যাবেনা।

দোকান বসিয়ে লাখ টাকা চাঁদাবাজির বিষয়ে জানতে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পীর ব্যবহারিক মোবাইল ফোনে একাধিক বার কল করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, গত (১১ সেপ্টেম্বর) বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টায় ডিএনসিসি অঞ্চল-২ এর একটি ভ্রাম্যমান আদালত মিরপুর ৬ নম্বরের আদর্শ স্কুল সংলগ্ন সড়ক ও ফুটপাতের শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছে করে। এরপর বেলা ১২ টায় রূপনগর দুয়াড়ীপাড়া সড়কের অবৈধ কাঁচা-বাজারটি উচ্ছে করে সিটি কর্পোরেশনের ভ্রাম্যমান আদালত।  ২৮/১০/২০২০ তারিখ বুধবার, সকলে আবারো অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। ১১ টি মামলাও হয়। সকলে উচ্ছেদ অভিযান হলেও বিকালেই আবার সড়ক দখল।

Print Friendly, PDF & Email
Comments
Share
bangladesh ekattor

bangladesh ekattor

বাংলাদেশ একাত্তর.কম

Reply your comment

Your email address will not be published. Required fields are marked*

two + ten =