কে এই রিজেন্ট সাহেদ ? অল্প সময়ে কোটিপতি!
(বাংলাদেশ একাত্তর.কম) মোঃ রাজু আহমেদঃ
মিরপুর ১২, রিজেন্ট হাসপাতালে প্রবেশ মুখেই সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ও হেভিওয়েট রাজনৈতিক নেতার সাথে ফটো টাঙ্গানো নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন। এসব ছবি সাধারণ মানুষকে দেখিয়ে তার প্রতারণার কাজ গুলি খুব সহজেই বাগিয়ে নিতো। মিরপুরের শাখা রিজেন্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা ভাড়া পাওনা রয়েছেন বিল্ডিং মালিক ফিরোজ আলম চৌধুরী। ফিরোজের বাড়ীর ম্যানেজার মনির বলেন, ভাড়ার টাকা চাইলেই মোবাইল বন্ধ করে রাখে ও ভাড়ার টাকা না দেওয়ার জন্য নানা তালবাহানা করে। এমন অসংখ্য অভিযোগ হাসপাতালের মালিক সাহেদর এর বিরুদ্ধে।
বেশি টাকার লোভে এই শাখায় দুর থেকে আশা অর্থ বিত্তশালী রুগীদের বেশি ভর্তি করা হতো। স্থানীয় রোগীদের অন্য হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দিতো যাতে বিল নিয়ে কোনো প্রতিবাদ করতে না পারে। একজন রুগী ১০/১৫ দিন ভর্তি থাকলেই ৩ থেকে ৫ লক্ষ টাকা বিল গুনতে হতো।
টেস্ট না করেই করোনাভাইরাস পরীক্ষার ভুয়া রিপোর্ট দেয়াসহ নানা অভিযোগে সিলগালা করে দেয়া হয়েছে ঢাকার উত্তরায় রিজেন্ট হাসপাতাল ও রিজেন্ট গ্রুপের প্রধান কার্যালয়।
বেলা চারটার দিকে রিজেন্ট গ্রুপের প্রধান কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে র্যাবের টীম সেখানেও অনুমোদনহীন টেস্ট কিট ও বেশ কিছু ভূয়া রিপোর্ট পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম।
অভিযান শুরুর আগেই রিজেন্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের কুর্মিটোলা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
অভিযান শেষে সাংবাদিকদের র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম বলেন, রিজেন্ট হাসপাতাল ও প্রধান কার্যালয় সিলগালা করে দিয়েছি। হেড অফিসে বসেই মিথ্যা রিপোর্ট তারা তৈরি করতো। হেড অফিসে ৫/৭ দিনের স্যাম্পল এক সাথে করে ফেলে দিতো। ভূয়া রিপোর্টও পেয়েছি। অনুমোদনহীন র্যাপিড কিট আমরা পেয়েছি। রিজেন্ট হাসপাতাল ও গ্রুপের মালিক ও এমডি সহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা হবে এবং এর মধ্যে আট জনকে আটক করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এর আগে সোমবার বিকেলে রিজেন্ট হাসপাতালে এসব অনিয়মের সাথে হাসপাতালটির চেয়ারম্যানই জড়িত এবং তিনি নিজেই এসব ডিল করেছেন।
বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা নিয়ে এটি দ্বিতীয় কোনো প্রতিষ্ঠান যার বিরুদ্ধে মামলা হলো। তবে রিজেন্ট হাসপাতালের মালিককে আটক না করা গেলেও সোমবারই হাসপাতালটির আটজন কর্মকর্তাকে আটক করেছে র্যাব।
এর আগে জেকেজি নামক একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ওঠার পর আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তার প্রমাণ পেয়ে সেটি বন্ধ করে দিয়েছিলো। আটকও করা হয়েছিলো কয়েকজনকে।
জানা যায়, ৫০ শয্যার এই হাসপাতালটিকে স্বাস্থ্য অধিদফতর অনুমোদন দিয়েছিলো ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে।
পরে ২০১৭ সালে মিরপুরেও হাসপাতালটির আরেকটি শাখা খুলে তার অনুমোদন নেয়া হয়।
যদিও এসব হাসপাতালের লাইসেন্সের মেয়াদ একবার উত্তীর্ণ হওয়ার পর আর নবায়ন করেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
গত ৮ই মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের পর যখন কোনো হাসপাতাল করোনা রোগীদের চিকিৎসা দিতে রাজী হচ্ছিলোনা জরুরী প্রেক্ষিতে রিজেন্ট সহ তিনটি হাসপাতালের সাথে চুক্তি করে স্বাস্থ্য বিভাগ।
চুক্তির আওতায় সরকার সেখানে ডাক্তার, নার্সসহ কিছু জনবলও নিয়োগ দেয়। হাসপাতালটির করোনা রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দেয়ার কথা ও পরে সরকার সেই টাকা পরিশোধ করার কথা ছিলো।
হাসপাতাল সিলগালা করে দেয়ার পর সারোয়ার আলম সাংবাদিকদের বলেন সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে ৪২৬৪টি স্যাম্পল রিজেন্ট টেস্ট করেছে এবং এর বাইরে ৬ হাজারের বেশি স্যাম্পল টেস্ট না করেই তারা ভূয়া রিপোর্ট দিয়েছে।
একই সাথে এ প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ২০১৪ সাল থেকে নেই আর আইসিইউ যেটা আছে এটা নরমাল ওয়ার্ডও না। সেখানে পুরনো কাথা বালিশ থেকে আরম্ভ করে সব আছে। এর যে ডায়াগনসিস ল্যাব সেখানে কোনো মেশিন নেই, সেখানে কোনো টেস্ট না করেই রিপোর্ট দিয়েছে। ফ্রিজের মধ্যে এক অংশে রি এজেন্ট আর অন্য অংশে নদীর আইয়ের মাছ পাওয়া গেছে। এর যে ডিসপেনসারি সেখানে সব সার্জিক্যাল আইটেম ৫/৬ বছর আগের মেয়াদোত্তীর্ণ। এর মালিকের গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নেই”।
এর আগে প্রধান কার্যালয়ে অভিযান চালানোর সময় তিনি বেশ কিছু রিপোর্ট ও কিট সাংবাদিকদের দেখিয়ে বলেন, দেখুন এগুলো তো হাসপাতালে থাকার কথা। অথচ এসব রিপোর্ট পড়ে আছে তাদের গ্রুপের প্রধান কার্যালয়ে।
হাসপাতালটিতে দুপুর নাগাদ ১৪ জন কোভিড-১৯ রোগী চিকিৎসাধীন ছিলো।
এর আগে সোমবার বিকেলে রিজেন্ট হাসপাতালে অভিযানের পর সারোয়ার আলম জানিয়েছিলেন যে এখন পর্যন্ত দুশোর মতো রোগীকে চিকিৎসা দিয়েছে রিজেন্ট হাসপাতাল। ভুয়া রিপোর্ট তৈরি আর দুবার টাকা আদায় করে নিয়ে।
সোমবার বিকেলে রিজেন্ট হাসপাতালে অভিযান চালানোর পর সারোয়ার আলম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন যে তারা হাসপাতালটি একজন কর্মকর্তার রুমে অনেক নমুনা পড়ে থাকতে দেখেছেন যেগুলো করোনা পরীক্ষার জন্য গ্রহণ করা হয়েছিলো।
তবে অভিযানের আগেই করোনা টেস্টের ভুয়া রিপোর্ট তৈরির অন্তত ১৪টি প্রমাণ র্যাবের হাতে ।
সারোয়ার আলম জানান, হাসপাতালটি নমুনা সংগ্রহ করে সেগুলোর কোনো পরীক্ষা ছাড়াই পজিটিভ বা নেগেটিভ উল্লেখ করে রিপোর্ট দিতো।
আমরা আমাদের সরকারি প্রতিষ্ঠানে ভেরিফাই করে দেখেছি যে তারা এসব রিপোর্ট ওখান থেকে নেয়নি। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো নিশ্চিত করেছে যে এসব নমুনা তারা পরীক্ষা করেনি এবং এসব রিপোর্টও তারা দেয়নি।
বরং এসব রিপোর্ট বিশ্বাসযোগ্য করতে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সিল ও প্যাড নকল করে ব্যবহার করা হতো এবং এবং ধরণের প্রচুর ভুয়া সনদ অভিযানের সময় উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
আবার সরকারিভাবে যে টেস্ট বিনামূল্যে করার কথা সেগুলোর জন্যও তারা টাকা আদায় করতো।
রোগীর কাছ থেকে টাকা আদায় করে পরে সেটিকে বিনামূল্যে করা হয়েছে দেখিয়ে সরকারের কাছে প্রায় দেড় কোটি টাকার বিল জমা দিয়েছিলো রিজেন্ট কর্তৃপক্ষ।
এমনকি যেই চিকিৎসা বিনামূল্যে করার কথা সেটির জন্য রোগীর কাছ থেকে টাকা নিয়ে আবার সরকারের কাছ থেকেও সেই টাকা গ্রহণ করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
সুত্র, সাহেদ এর ব্যবহারিক গাড়ীগুলোর কোন বৈধ কাগজপত্র নেই। তার গাড়ীতে ভিভিআইপি ফ্ল্যাগ স্ট্যান্ড, অবৈধ ওয়ারল্যাস সেট আর অস্ত্রসহ ৩ জন বডিগার্ড থাকার কারনে সাধারনত পুলিশ তার গাড়ী থামানোর সাহস পেতনা।
তার অফিসে লাঠিসোটা রাখা হয় এমনিক তার অফিসের ভেতরে একটি টর্চার সেলও রয়েছে। কোন পাওনাদার টাকা চাইতে আসলে পাওনাদারদের সেখানে টর্চার করা হয়। তার অফিসে সুন্দরী মেয়েদের রাখা হয় বেশী আর অনেক সুন্দরীর সাথে তার অবৈধ সর্ম্পক রয়েছে।
সুত্র জানায়, তার বিরুদ্ধে ৩২ টি মামলা রয়েছে দেশের বিভিন্ন থানায় এর মধ্যে ধানমন্ডি, মিরপুর, উত্তরায় বেশী সেগুলোর কয়েকটি মামলার নং-বাড্ডা- ৩৭(৭)০৯, আদাবর-১৪(৭)০৯, লালবাগ-৪৭(৫)০৯। উত্তরা ২০(৭)০৯, উত্তরা১৬(৭)০৯,
উত্তরা ৫৬(৫)০৯,
উত্তরা ১৫(৭)০৯, ৩০(৭)০৯, ২৫(৯)০৯, ৪৯(০৯)০৯, ১০(৮)০৯ সবগুলো মামলা ৪২০ ধারায়।
তার প্রতিষ্ঠান রিজেন্ট কেসিএস লিঃ ইউসিবি ব্যাংক উত্তরা শাখায় একাউন্ট নং-০৮৩২১০১০০০০১০০০৩, রিজেন্ট হাসপাতাল লিঃ ইউসিবি ব্যাংক উত্তরা শাখায় একাউন্ট নং-০৮৩১১০১০০০০০০৬১৬, সহ ব্র্যাক ব্যাংক উত্তরাসহ বিভিন্ন ব্যাংকে শত শত কোটি রয়েছে।
প্রকৃত নাম মোঃ শাহেদ করিম, পিতাঃ সিরাজুল করিম, মাতাঃ মৃত সুফিয়া করিম। শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি। তার মা মৃত্যুবরন করেন ০৬ নভেম্বর ২০১০ইং সালে। প্রতারক শাহেদের একাধিক নাম রয়েছে সে কখনো মেজর ইফতেকার আহম্মেদ চৌধুরী, কর্ণেল ইফতেকার আহম্মেদ চৌধুরী, কখনো মেজর শাহেদ করিম হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকে, জাতীয় পরিচয় পত্রে শাহেদ করিম লেখা। বর্তমানে সে মোঃ শাহেদ নামে আরেকটি জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করছে যাহা নং ২৬৯২৬১৮১৪৫৮৮৫, এ জাতীয় পরিচয়পত্র দেয়া হয় ২৫-৮-২০০৮ইং। কিন্তু তাতে তার মা মারা গেছে লেখা রয়েছে, অথচ তার মা মৃত্যুবরন করেন ০৬ নভেম্বর ২০১০ইং।
সাহেদের গ্রামের বাড়ী সাতক্ষীরা জেলায় এক নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান হয়েও প্রতারণা বাটপারি করে আজ শত শত কোটি টাকার মালিক। বিএনপি সরকারের আমলে রাজাকার মীর কাসেম আলী ও গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের সাথে সর্ম্পক গড়ে তাদের মাধ্যমে তারেক জিয়ার হাওয়া ভবনের অন্যতম কর্তাব্যক্তি হয়ে উঠে সে।শাহেদের বেশ কিছু প্রতারণার প্রমাণ তৎকালীন প্রভাবশালী ছাত্রদল নেতা বর্তমানে জাতীয় পার্টির সাংগঠিনক সম্পাদক সৈয়দ মঞ্জু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সাহসী ছাত্রলীগ নেতা এসএম হলের শামীম তথা শামীম আহমেদ এবং সাবেক ছাত্রলীগ নেতা অবগত। এমনকি, ১/১১ ফকরুদ্দিন সরকারের সময় খাম্বা মামুনের সাথে সে ২ বছর জেলও খাটে। সে বিভিন্ন প্রতারণার মাধ্যমে মানুষকে ঠকিয়ে অল্প-সময়ে ফকির থেকে শতশত কোটি টাকার মালিক বনে গেছে।
প্রতারক সাহেদ পলাতক রয়েছে র্যাবের অভিযানের পর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছেনা।
রাজু আহমেদ, বুধবার- ০৮/০৭/২০২০ইং।