আওয়ামীলীগ

আ.লীগ তথা নৌকার বিরোধীতাকারীদের বিপক্ষে কথা বলাতেই দোষ হলো এমপি শিমুলের

%e0%a6%86-%e0%a6%b2%e0%a7%80%e0%a6%97-%e0%a6%a4%e0%a6%a5%e0%a6%be-%e0%a6%a8%e0%a7%8c%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%8b%e0%a6%a7%e0%a7%80%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%95

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

নাটোর (২) আসনের সাংসদ আলহাজ্ব শফিকুল ইসলাম শিমুলের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে নাটোর জেলা আওয়ামিলীগের নেতৃবৃন্দের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। জানা গেছে গত গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন সেখানকার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম। সেখানে বিএনপি বা অন্য কোনো দল প্রার্থী দেয়নি। তবে সাংসদ আব্দুল কুদ্দুস তার কথিত পালিত পুত্র জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য সম্পাদক আনোয়ার হোসেনকে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে দাড় করিয়ে পক্ষে প্রকাশ্যে ভোট চেয়ে বেড়ায় সাংসদ মোঃ আব্দুল কুদ্দুস। গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাচনে সেই নৌকার বিরোধীতাকারীদের বিরুদ্ধে কথা বলায় ষড়যন্ত্রকারীরা দল বেধে উঠে পড়ে লেগেছে এমপি শিমুলের পিছনে।

একটি ভিডিওতে দেখা গেছে আওয়ামীলীগের সাংসদ মোঃ আব্দুল কুদ্দুস নৌকার বিরোধীতা করে ভোট চাইছেন বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে। বলছেন ওই প্রতিকের প্রতি বিশ্বাস নাই, ওই প্রতিকের প্রতি আস্থা নাই, ওই চেতনায় যারা বিশ্বার করেনা, ওই আদর্শ কে যারা লালন করেনা, ওই রকম ভেন্না কাঠের নৌকায় মানুষ ভোট দিবেনা। কালামপুর বাসি এই নৌকায় ভোট দিবেনা।

এবিষয়ে এমপি শফিকুল ইসলাম শিমুল বলেন আমি নৌকার পক্ষে কথা বলায় মোঃ আব্দুল কুদ্দুস ও শহিদুল ইসলাম বকুল গং আমার বিরুদ্ধে নানা ও বাবাকে জড়িয়ে বিভিন্ন অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র করে আসছে। তাদের সাথে আমার ব্যক্তিগত কোনো দ্বন্দ্ব নেই। নৌকার প্রার্থীর পক্ষে নাটোর জেলা আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও কর্মীরা কাজ করেছেন এবং জয় নিশ্চিত করেছেন। সেই থেকেই তারা আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে। অভিযোগ করে এমপি আরো বলেন সিংড়ার উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন শফিকুল ইসলাম শফিক তার প্রতিক ছিলো নৌকা, তার বিরুদ্ধে বিএনপি থেকে সদ্য যোগদান করিয়ে বিএনপি নেতার আদেশে শেরকোল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কে দোয়াত কলম মার্কায় বিজয়ী করানোর জন্য জুনাইদ আহমেদ পলক (এমপি) তার স্ত্রী কনিকা, শ্যালক শেরকোল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রুবেল, পৌরসভার মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস সহ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারন সম্পাদককে এ সকল নেতৃবৃন্দকে চাপ প্রয়োগ করে নৌকার বিপক্ষে কাজ করিয়েছে। এমপি শিমুল আরো বলেন এ খবর ছড়িয়ে পড়লে আমার নেতৃত্বে জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এড. সিরাজুল ইসলাম সিরাজ (পিপি)কে টীম লিডার করে দশ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি করে নৌকার প্রার্থীকে জয়লাভ করানোর জন্য নির্দেশনা প্রদান করি এবং সার্বিক সহযোগিতা করি। অবশেষে সেখানে নৌকার প্রার্থীর জয় লাভ হয়। আমি শফিকুল ইসলাম শিমুল বলতে চাই “যতদিন বাঁচবো” দলের পক্ষে ষড়যন্ত্রকারীদের বিপক্ষে লড়ে যাবো। এবং নাটোর জেলা আওয়ামীলীগ দলের বিরুদ্ধে যারাই কথা বলবে আমি তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করবো। দিনে আওয়ামীলীগ রাতে অন্যদল করার পাত্র আমি নই।

ভিডিও বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে নাটোর (৪) আসনের সাংসদ মোঃ আব্দুল কুদ্দুস এ প্রতিবেদককে বলেন আমি এই বিষয়ে কোনো কথা বলবোনা, বলেই মোবাইল সংযোগটি কেটে দেন। নাটোর (১) আসনের সাংসদ শহিদুল ইসলাম বকুলের মুঠোফোনে একাধিক বার কল দিলেও ওপাশ থেকে ফোন রিসিভ হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নাটোর জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক এক সভাপতি বলেন আওয়ামীলীগের দুর্দিনে নাটোর জেলা বিএনপির অপরাধ সাম্রজ্যের কর্ণধার রুহুল কুদ্দুস তালুকদার ওরপে দুলুর অত্যাচারে আওয়ামিলীগের বহু নেতা কর্মীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছিলো। তার জুলুম নির্যাতন সইতে না পেরে অনেক নেতাকর্মী ঘর-বাড়ী ছাড়া হয়ে দেশান্তরি হয়েছে। আওয়ামীলীগের লোকজন রাস্তায় বের হতেই পারতোনা তখন। আওয়ামিলীগে এখন যাদের দেখছি তাদের নামও সে-সময় শুনেনি। বর্তমান সাংসদ শফিকুল ইসলাম শিমুলের একার নেতৃত্বে সেই সৈরাচার দুলুকে দমন করা হয়েছিলো।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বীর মুক্তিযোদ্ধা বলেন যারা এমপি শিমুলের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে তার কারা? তাদের পিছনের ইতিহাস কি? দলের দুর্দিনে তারা কোথায় ছিলো? তারা সুসময় এসে নৌকার বিরোধীতা করছেন। প্রতিবাদ করলে তাকেই দমন করছেন? আপনারা কি জানেন নাটোরে থেকে ঘরে গরম ভাত খান এগুলো শিমুলের গোছানো ছিলো। আপনারা তো আঙ্গুল ফুলে এসেছেন।

পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিকরা মনে করছেন নাটোর জেলা আওয়ামিলীগ দলের ভিতরে উইপোকারা প্রবেশ করেছে। তারা দলের লেবাস পড়ে অবৈধ অর্থ কামানোর পথে হাটছে। যারা অর্থের মোহে পড়ে নৌকার বিপক্ষে কাজ করে। নৌকা প্রার্থীকে হারানোর জন্য বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে কাজ করে তারা আর আজই হোক বঙ্গবন্ধু আদর্শে আদর্শীনন। তারা দলের শত্রু, দেশের শত্রু, জনগনের শত্রু এক কথায় তারা দেশদ্রোহী।

 

Print Friendly, PDF & Email
Comments
Share

bangladesh ekattor

বাংলাদেশ একাত্তর.কম

Reply your comment

Your email address will not be published. Required fields are marked*

8 − 5 =

বাংলাদেশ একাত্তর