নিজেকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে রাতের অন্ধকারে ছিনতাই, ৯৯৯-এ কল দিতে বাধা—ভুক্তভোগীদের অভিযোগে ক্ষোভ এলাকাজুড়ে
নিজস্ব প্রতিবেদক │ ঢাকা │ সোমবার, ৬ অক্টোবর ২০২৫
রাজধানীর পল্লবীতে পুলিশের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এক সদস্যের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। ফাহিম নামে ওই যুবক পুলিশের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বলে পরিচয় দিয়ে রাতে নিরীহ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগী মো. সালমান (২২), পিতা—মো. সুলতান, মাতা—গুলশান আরা, সাং—১১/বি, রোড—১৭, বাসা—১৪ (নান্নু মার্কেট), থানা—পল্লবী, ঢাকা, থানায় লিখিত অভিযোগে জানান, রবিবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে তিনি তার বন্ধু পিয়েল (১৯) ও মনির হোসেন (২১)-কে নিয়ে নান্নু মার্কেট থেকে খিচুড়ি আনতে যান। এসময় পল্লবী সেকশন ১১, ব্লক ‘এ’, হীড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের সামনে পৌঁছালে ফাহিম (২৩) ও টুটুল (২০) নামে দুই যুবক নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে চেক করার নামে তাদের আটকায়।
অভিযোগে বলা হয়, ‘তারা আমার বন্ধু পিয়েলের পকেটে থাকা মানিব্যাগ থেকে ১০,০০০ টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং পরে আরও ২ লাখ টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে মাদক দিয়ে চালান দেওয়ার হুমকি দেয়। আমরা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করার চেষ্টা করলে তারা আমাদের মোবাইল কেড়ে নিয়ে আছাড় মেরে ভেঙে ফেলে, এতে প্রায় ১০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়।’
চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে ফাহিম ও টুটুলকে আটক করলেও কিছুক্ষণ পর ফাহিম তার আত্মীয়-স্বজনকে ডেকে এনে উল্টো সালমানদের মারধর করে বিবাদীদের উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অভিযুক্ত ফাহিম পুলিশের ট্রেনিংয়ে রয়েছেন এবং ছুটিতে এসে এলাকায় ‘পুলিশ পরিচয়ে’ ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় করছেন। স্থানীয়রা জানান, তিনি নব্য পুলিশে যোগ দিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে দিনের বেলাতেও এ ধরনের চাঁদাবাজি চালাচ্ছেন।
পল্লবী থানায় ভুক্তভোগীরা অভিযোগ নিয়ে গেলে ডিউটি অফিসার অভিযোগ জমা না নিয়ে সকালে আসতে বলেন। স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সে পুলিশ বলেই কেউ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় না।”
অপরাধ দমনকারী সংস্থার এক কর্মকর্তা জানান, এ ধরনের কর্মকাণ্ড দণ্ডবিধির ৩৮৫ ধারায় “চাঁদাবাজি” হিসেবে গণ্য হয়, যার সর্বোচ্চ শাস্তি ১৪ বছর কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড, কিংবা উভয় দণ্ডই হতে পারে। থানায় মামলা না নিলে ভুক্তভোগীরা সরাসরি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বা আদালতে অভিযোগ দায়ের করতে পারেন।
রাত গভীর হওয়ায় পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-এর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

















