মিরপুর ১০, ১১, ১২, রুপনগর দুয়ারীপাড়া ও শিয়ালবাড়ীতে ফুটপাত–সড়ক দখল বাণিজ্যের দাপট
প্রতিবেদক, রাজু আহমেদ: প্রকাশ, ২৪ আগস্ট ২০২৫
ঢাকা,রাজধানীর মিরপুরে ফুটপাত ও সড়ক দখল করে গড়ে উঠেছে অসংখ্য দোকানপাট। দেখে মনে হয় যেন এগুলো সিটি করপোরেশনের অনুমোদিত দোকান। অথচ এগুলো সম্পূর্ণ অবৈধ, যার ফলে বৈধ ব্যবসায়ী, পথচারী ও যানবাহন চালকেরা প্রতিদিন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
রুপনগরে ভয়াবহ দখল
রুপনগরের দুয়ারীপাড়া মোড় থেকে ৬০ ফিট সড়কের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত দুই পাশে বসানো হয়েছে মাছ, মুরগি, শাক–সবজি, চা–বিড়ি এমনকি মুরগির আড়তও। টাইলস করা ফুটপাতও দোকানিদের কব্জায়। একই অবস্থা রুপনগর আবাসিক থেকে শিয়ালবাড়ী কবরস্থান পর্যন্ত।
এসব দোকানে অবৈধভাবে ব্যবহার হচ্ছে রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিদ্যুৎ ও পানি। দোকানপ্রতি লাইটের জন্য ৩০ টাকা, পানির জন্য ২০ টাকা, নাইটগার্ড বাবদ ৩০ টাকা করে আদায় করা হয়। রাজনৈতিক দলের সাইনবোর্ড টাঙিয়ে এই অর্থ তোলা হচ্ছে নিয়মিত। নতুন দোকান বসাতেও লাগে রাজনৈতিক নেতাদের অনুমোদন।
মিরপুরে একই চিত্র
রুপনগর ছাড়াও মিরপুর ১০ গোলচত্বর, আইডিয়াল গার্লস স্কুল হয়ে হোপের গলি, বিআরটিএ আসা–যাওয়ার সড়ক, মিরপুর মডেল থানার সামনের সড়ক এবং মিরপুর জাতীয় স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকাও একইভাবে দখল বাণিজ্যের শিকার। মিরপুর ১১, সাড়ে ১১ ও ১২ নম্বর এলাকার ফুটপাত ও সড়কেও চলছে একই চিত্র।
ফুটপাত–সড়ক এখন পাকা দখলে
অভিযোগ রয়েছে, দোকানিরা শুধু ফুটপাতেই বসে নেই, বরং সড়কের ওপর টাবু টেনে স্থায়ী দোকান তৈরি করেছে। কেউ কেউ আবার সড়ক ছিদ্র করে নাট–বল্টু দিয়ে খুঁটি বসিয়ে ঘর তুলেছে। বিদ্যুতের সুইচ লাগিয়ে চলছে ফ্যান ও মোবাইল চার্জার, এমনকি বক্স বাজিয়ে গান শোনার ব্যবস্থাও রয়েছে। সব দেখে মনে হয়, যেন তারা সিটি করপোরেশনের অঞ্চল–২ থেকে চুক্তি নিয়ে ইজারা করেছে।
বৈধ ব্যবসায়ীরা হুমকির মুখে
অভিযোগ রয়েছে, যারা সরকারকে ট্যাক্স–ভ্যাট দিয়ে মার্কেটে বৈধভাবে ব্যবসা করছেন, তারাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। এক দোকানদার বলেন, “আমরা নিয়ম মেনে মার্কেটে ব্যবসা করছি, অথচ রাস্তায় বসা অবৈধ হকাররা আমাদের উল্টো হুমকি দিচ্ছে।”
অন্যদিকে, সড়কের হকাররা প্রকাশ্যে বলছে— “আমাদের তুলতে হলে পুলিশ বা সিটি করপোরেশন আসতে হবে, নইলে কেউ তুলতে পারবে না।”
কর্মকর্তাদের নীরবতা
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অঞ্চল–২ এর নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জিয়াউর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে বিরক্ত হয়ে কল কেটে দেন এবং আর ফেরত কলও করেননি।
ওই অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলামকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, “ওসব আমাদের জিয়া স্যার দেখেন, তিনিই ভালো বলতে পারবেন।”
এর আগে উত্তর সিটির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের অফিস টিএনটি নাম্বারে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন রিসিভ করা হয়নি।
প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ মঈন উদ্দিন, এসইউপি, এসপিপি, এনডিসি, পিএসসি-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “এটা অঞ্চল–২ এর দায়িত্ব, আপনি ওখানে ফোন করুন।” এক প্রশ্নে তিনি আরও যোগ করেন, “আমি তাদের নাম্বার জানি না, আপনি সরাসরি ওখানেই যোগাযোগ করুন।”
সাধারণ মানুষের ক্ষোভ
ভুক্তভোগীরা বলছেন, সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা মাসিক বেতন–ভাতা নিয়ে দায়িত্ব পালন না করলে জনগণের লাভ কী? এক পথচারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “লোক দেখানো উচ্ছেদ মানুষ আর চায় না। প্রতিটি ওয়ার্ড–মহল্লায় সিটি করপোরেশনের লোকজন আছে, তারা সব জানে। তবুও চুপ থাকে কেন?”
সাধারণ মানুষের প্রশ্ন— যারা রাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা ও অপরাধ দমন করতে মাসিক বেতন–ভাতা পান, তারা কেন দায়সারা কাজ করেন? কেন তারা নীরব দর্শক হয়ে থাকেন?