বাংলাদেশ একাত্তর: সংবাদ
ঢাকা: গুলিবিদ্ধ ওসমান হাদির অকাল মৃত্যুর খবর প্রকাশের পর আবারও দেশের শীর্ষ গণমাধ্যম প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। হামলার সময় সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি দেয় বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, ওসমান হাদিকে গুলি করার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়া হলেও সেখানে তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পরপরই গণমাধ্যমে হামলার পুনরাবৃত্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিক নেতারা। তারা বলছেন, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে স্বাধীন সাংবাদিকতা দমনের অপচেষ্টা।
এক সাংবাদিক নেতা বলেন, “প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে বারবার হামলা মানে শুধু দুটি অফিসে আঘাত নয়, এটি দেশের স্বাধীন গণমাধ্যমের ওপর সরাসরি হামলা। যারা সত্য প্রকাশে ভয় পায়, তারাই এসব হামলার পেছনে রয়েছে।”
সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা দাবি করেন, আওয়ামী লীগ আমলেও প্রথম আলোর বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র হয়েছে। ৫ আগস্টের পর আবারও একই গণমাধ্যমকে টার্গেট করা প্রমাণ করে যে, কিছু গোষ্ঠী এখনো সহিংসতার মাধ্যমে সংবাদমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়।
হামলার ধরন নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা। তাদের ভাষায়, “হামলাকারীরা কখনো ধর্মীয় ছদ্মবেশে, মাথায় টুপি পরে, কখনো সাধারণ মানুষের রূপ ধরে হামলা চালাচ্ছে”, যাতে বিভ্রান্তি ছড়ানো যায় এবং দায় এড়ানো যায়।”
এ বিষয়ে আরেক সাংবাদিক নেতা বলেন, “এই হামলার মাধ্যমে তারা বিশ্ববাসীকে বার্তা দিতে চায়—বাংলাদেশে সত্য বলা বিপজ্জনক। এটি দেশের ভাবমূর্তির জন্য ভয়াবহ।”
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
সাংবাদিক নেতাদের অভিযোগ, প্রকাশ্যে গুলি, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, দখল বাণিজ্য ও মাদক কারবার চললেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
সাংবাদিক নেতারা সতর্ক করে বলেন, “এভাবে যদি রাষ্ট্র নীরব থাকে, তাহলে আজ গণমাধ্যম, কাল সাধারণ নাগরিক—কেউই নিরাপদ থাকবে না। একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে এমন পরিস্থিতি চলতে পারে না।”

















