✍️ রাজু আহমেদ | প্রকাশিত : ২২ আগস্ট ২০২৫
রাজধানীর মিরপুরে শিক্ষিত সমাজের আড়ালে গড়ে উঠেছে এক ভয়ঙ্কর প্রতারণা চক্র। পল্লবী থানার মদিনা নগর থেকে গ্রেফতার হওয়া নূরে আলম সিদ্দিকী তার প্রতারণার মাধ্যমে কোটি টাকারও বেশি হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্ত্রীকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে তিনি ব্যবসার নামে সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলেছেন।
প্রতারণার কৌশল
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, নূরে আলম প্রথমে ভদ্রলোক সেজে মানুষের আস্থা অর্জন করতেন। ব্যবসায় বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে শুরু হয় প্রতারণার খেলা। তার স্ত্রী তাসলিমা পাখি, যিনি মিরপুর ১১ আইডিয়াল স্কুলের শিক্ষিকা, পরিচয়ের সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করতেন। শিক্ষিকার বিশ্বাসযোগ্যতা কাজে লাগিয়ে নূরে আলম সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতেন।
ভুক্তভোগীদের কান্না
একজন বিধবা নারী ফরিদা পারভীন জানান,“আমার স্বামী নেই। স্কুল শিক্ষিকা তাসলিমা পাখির মাধ্যমে নূরে আলমের সঙ্গে পরিচয় হয়। তারা ব্যবসার কথা বলে লাখ লাখ টাকা নেয়। এখন আমি সর্বস্বান্ত।”
দুবাই প্রবাসী মুক্তার হোসেন বলেন, “আমরা তিনজন পার্টনার মিলে প্রায় ৪০ লাখ টাকা দিয়েছি। এক বছর ধরে শুধু আশ্বাস শুনছি। এখন আমাদের ব্লক করে রেখেছে।”
আরেক ভুক্তভোগী আরমানের দাবি, তিনি ৩ লাখ টাকা পাবেন। আবুল বাশার ৫ লাখ, রানা ৮ লাখ, মাসুদ রানা ১৫ লাখ এবং মোস্তফা কামাল উজ্জ্বল ৫ লাখ টাকা পাবেন। সব মিলিয়ে প্রতারণার শিকার মানুষের সংখ্যা ও অঙ্ক ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছে।
ক্ষোভ ও প্রশ্ন
ভুক্তভোগীরা বলছেন, নূরে আলমকে গ্রেফতার করা হলেও টাকা ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। তাদের অভিযোগ, জামিন পেলেই এই চক্র ফের সক্রিয় হয়ে উঠবে।
শিক্ষিকা স্ত্রী কি জড়িত?
স্ত্রী তাসলিমা পাখির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও তিনি সব অস্বীকার করে, “বাংলাদেশ একাত্তর”কে বলেন, “আমি যদি টাকা নিয়ে থাকি তাহলে আমার নামেও মামলা করুন।”
কিন্তু অভিভাবকদের প্রশ্ন, প্রতারকের স্ত্রী যদি শিক্ষক হন তবে শিক্ষার্থীরা কী শিক্ষা পাবে? স্থানীয় এক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,“প্রতারকের স্ত্রী যদি আমার সন্তানের শিক্ষক হন, তবে আমার সন্তানও ভুল শিক্ষা পাবে। আমি তাকে অন্য স্কুলে ভর্তি করব।
”স্কুল কর্তৃপক্ষের বিব্রতকর অবস্থান
আইডিয়াল স্কুলের পরিচালক হিরন বলেন—
“এটা অত্যন্ত লজ্জাজনক। আমাদের শিক্ষিকার স্বামী প্রতারক হলে স্কুলের সুনাম নষ্ট হবে। আমরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।
পুলিশের বক্তব্য
পল্লবী থানার ওয়ারেন্ট অফিসার আতাউর রহমান জানান—
“আমরা আদালতের নির্দেশে নূরে আলম সিদ্দিকীকে গ্রেফতার করেছি এবং কোর্টে প্রেরণ করেছি।”
মিরপুরবাসীর প্রশ্ন, শিক্ষিত সমাজের আড়ালে গড়ে ওঠা প্রতারণার এই চক্র রোধে কড়া ব্যবস্থা নেবে কে? একজন শিক্ষিকার সংসার যদি প্রতারণার অর্থে টিকে থাকে, তবে সমাজের তরুণ প্রজন্ম কী শিখবে?
ভুক্তভোগীদের দাবি, নূরে আলম ও তার স্ত্রীকে ঘিরে প্রতারণার মামলা যেন দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তি হয় এবং ক্ষতিগ্রস্তদের অর্থ ফেরত নিশ্চিত করা হয়।