বিনোদন প্রতিবেদক: ৪ আগস্ট ২০২৫
আজ কিংবদন্তি শিল্পী কিশোর কুমারের ৯৬তম জন্মদিন। বাংলা ও হিন্দি সঙ্গীতের সবচেয়ে রঙ্গিন, রসিক আর সৃষ্টিশীল এই মানুষটি শুধু সুরের জাদুকরই ছিলেন না, ছিলেন বহুমাত্রিক প্রতিভার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
ওয়ার্ডেন রোডের তার ফ্ল্যাটের বাইরে ঝোলানো থাকতো একটি বোর্ড— ‘কিশোর কুমার থেকে সাবধান’। আর এই সতর্কবার্তাকে সত্যি প্রমাণ করতেই একবার এক প্রযোজকের হাত কামড়ে দিয়েছিলেন তিনি। এমন খামখেয়ালি, মজার সব কাণ্ডকীর্তির জন্য তিনি হয়ে উঠেছিলেন কিংবদন্তি।
গানেই যার বসবাস
১৯৪৮ সালে হিন্দি সিনেমা ‘জিদ্দি’ দিয়ে শুরু হয়েছিল তার প্লেব্যাক ক্যারিয়ার। তবে সুরের রাজ্যে তার যাত্রা সহজ ছিল না। বলা হয়, তার গলা মোটেও প্রথম দিকে সুন্দর ছিল না। কঠোর পরিশ্রম আর নিজের অনন্য ভঙ্গিমায় গান গাওয়ার মাধ্যমে তিনি হয়ে উঠেছিলেন এক অতুলনীয় শিল্পী।
১৯৪৬ থেকে ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত তিনি অভিনয়ও করেছেন অনেক সিনেমায়। কিন্তু অভিনয় নয়, গানই ছিল তার প্রকৃত ভালোবাসা। অভিনয় ছেড়ে গানে ফেরার পরেই কিশোর কুমার পূর্ণমাত্রায় প্রকাশ পেয়েছিলেন।
‘লতা’ কন্ঠেও গেয়েছিলেন কিশোর!
তার সৃষ্টিশীলতার পরিচয় পাওয়া যায় ‘আকে সিধি লাগি দিল পে’ গানটির মধ্যেও। এটি মূলত লতা মঙ্গেশকরের গাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কিশোর কুমার নিজেই মহিলা কণ্ঠে সেই গান গেয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন।
কিশোর কুমারের স্বর্ণালী দিনগুলো
তার ক্যারিয়ারে উল্লেখযোগ্য স্বর্ণালী সময় ছিল ১৯৬৯ থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত। এই সময়ে তিনি একের পর এক হিট গান উপহার দিয়েছেন—
‘রূপ তেরা মস্তানা, ‘পল পল দিল কে পাস’, জিন্দেগী এক সফর হ্যায় সুহানা’,
‘কোরা কাগজ থা ইয়ে মন মেরা’,
‘হামে তুমসে পেয়ার কিতনা’,
‘চিংগারি কোই ভড়কে’,‘আজ রপ্তা রপ্তা’,‘ও সাথি রে’।
মরণোত্তর জনপ্রিয়তা
১৯৮৭ সালে তিনি প্রয়াত হন। তবে মৃত্যুর পরও কিশোর কুমারের গান কখনো ম্লান হয়নি। তার কণ্ঠে এক বিশেষ ‘আনফিল্টারড’ আবেগ ছিল, যা সময়ের গণ্ডি পেরিয়ে আজও নতুন প্রজন্মকে মোহিত করে।
কিশোর কুমার।
কিশোর কুমার মানেই অদ্ভুত এক জীবনদর্শন, যেখানে গানের সঙ্গে হাসি-ঠাট্টা, খামখেয়ালি ও জীবনবোধের এক অনন্য মিশেল ছিল। তার ৯৬তম জন্মদিনে সারা বিশ্বের সংগীতপ্রেমীরা আবারও স্মরণ করছে সেই সুরের জাদুকরকে, যিনি চিরকাল জীবিত থাকবেন তার গানের মধ্যে।