ফিচার

হিন্দু উত্তরাধিকার আইন সংস্কার, না মাইনোরিটি সুরক্ষা আইন জরুরী ?

%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%81-%e0%a6%89%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%a7%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%86%e0%a6%87%e0%a6%a8-%e0%a6%b8

লেখকঃ নিপুল কুমার বিশ্বাস/ শনিবার/১৭/০৭/২০২১/ইং তারিখ প্রকাশিত।

সবিতা রানীর (ছদ্দ নাম) যখন স্বামী পরলোকগত হলো, তখন তার  পাঁচ সাত বছর বয়সের দুইটি ছেলে সন্তান তিন বছর বয়সের একটি কন্যা সন্তান ছিল সংসারে। সবিতা রানী স্বামীর বাড়িতেই  নাবালক সন্তানদের সাথে নিয়ে মাঠের কৃষি জমি দেবর ভাসুরের সহযোগিতায় চাষাবাদ করে সংসারের হাল ধরে তিনটি সন্তানকে বড় করে। মেয়ের বিবাহের সময় কিছু কৃষি জমি বিক্রয় করে মেয়ের বিয়ে দিয়ে পরবর্তীতে ছেলেদের বিবাহ কার্য সম্পন্ন করে সুখেই দিনাতিপাত করার মাঝে তীর্থ ভ্রমণ করে এসে স্বর্গবাসি হয়েছেন  সবিতা রানী।

কমলা সরকার (ছদ্দ নাম) যখন বিধবা হয়, তখন ছোট মেয়ের বয়স দুই বছর, আর বড় মেয়ের বয়স ছয় বছর। স্বামীর মৃত্যুর পর স্বামীর ভিটাতেই দেবর ভাসুরদের সাথেই উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া স্বামীর কৃষি জমি চাষ করে সংসারের দায়িত্ব পালন করেছেন। বড় মেয়ে বিয়ে দেওয়ার পর ছোট মেয়েকে বিয়ে দিয়ে স্বামীর ভিটাতে একাকী জীবন পার করার বছর দুই পর মেয়েদের ছেড়ে থাকতে ভালো না লাগলে, বড় জামাইকে নিজের ভিটাই রাখতে চাইলে রাজী না হওয়ায় স্বামীর সকল সম্পত্তি বিক্রয় করে ছোট মেয়ের সংসারটি নিজের করে নিয়ে সেখানেই জীবন পার করছেন। 

সুশিল সরকার (ছদ্দ নাম) নিজে এলাকার হাতুড়ে পশু ডাক্তার। চার সন্তান, বড় ছেলে এলাকার বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক এলাকার হাতযশ সম্পন্ন একজন পল্লী ডাক্তার নিজ গ্রাম ছাড়াও কমপক্ষে নিকটতম আরো তিন থেকে চারটি গ্রামে সুনামের সাথে ডাক্তারি করেছেন। সুশিল সরকারের গ্রামে বেশ কিছু কৃষি জমিও ছিল ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর সংখ্যালঘু নির্যাতনের ভয়াবহতা, নিষ্ঠুরতা, অপমান ভয়ভীতির কারণে বাপদাদার চৌদ্দ পুরুষের ভিটা বাড়ি কৃষি জমি নামমাত্র মূল্যে বিক্রয় করে রাতের আধারে নিজ দেশ ছেড়ে  আজ ভারতে বাস করছেন।

উপরের ঘটনা তিনটির নাম গুলি শুধু কাল্পনিক, কিন্তু ঘটনা তিনটি বাংলাদেশে আমার আত্মীয় নিকট জনের পরিবারে ঘটে যাওয়া সত্য ঘটনা।

কয়েক বছর ধরে পত্রপত্রিকায় গোলটেবিল বৈঠকে, কিছু ধর্মীয় সামাজিক অনুষ্ঠানে হিন্দু ধর্মের উত্তরাধিকার আইন বা পারিবারিক আইন সংস্কার নিয়ে আলোচনা দেখতে পাওয়া যায় এবং গঠন করা হয়েছেহিন্দু আইন প্রণয়নে নাগরিক উদ্যেগনামে কোয়ালিশন। এক পক্ষ এর সাথে তাল মিলিয়ে বলে, সময়ের প্রয়োজন হিন্দু ধর্মের পারিবারিক আইন সংস্কারের, আবার অন্য পক্ষ বলছে কোন মতেই এই আইন পরিবর্তন করা যাবে না। বিশেষ করে মেয়েদের সম্পত্তির বিষয়টি বেশি গুরুত্বপূর্ণভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। সাথে আছে হিন্দু বিবাহের বিবাহ নিবন্ধন, বিবাহ বিচ্ছেদ ভরণপোষণ সংক্রান্ত বিষয়।

এমন পেক্ষাপটে বাংলাদেশে বাংলাদেশ পূর্ববর্তী সময়ে হিন্দুদের অবস্থান একটু দেখে আসা যাক। ১৯৩১ সালে ২৯. ভাগ হিন্দু, ১৯৪১ সালে ২৮ ভাগ হিন্দু, ১৯৫১ সালে ২২ ভাগ হিন্দু, ১৯৬১ সালে ১৮. ভাগ হিন্দু, ১৯৭৪ সালে ১৩. ভাগ হিন্দু শুমারি গুলি পর্যালোচনা করলে দেখা যায় ক্রমান্বয়ে হিন্দু জনগোষ্ঠী কমেছে। 

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধটা হয়েছিল অসাম্প্রদায়িক একটি রাষ্ট্র গড়ার লক্ষ্যে, যেখানে ছিল মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ খ্রিস্টান ধর্মের সবার অংশগ্রহণ সব ধর্মের নারী যেমন নির্যাতন ভোগ করেছে তেমনি সকল ধর্মের লোক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে। দেশ স্বাধীন হলো, অসাম্প্রদায়িক , মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের জন্ম হলো, তখন মনে একটা শান্তি ফিরে পেল হিন্দু জনগোষ্ঠী, মনে করল এবার হয়তো স্থিতাবস্থা ফিরে পাবে সংখ্যালঘুরা বিশেষ করে হিন্দু জনগোষ্ঠী।

স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম আদমশুমারি হয় ১৯৭৪ সালে তখন বাংলাদেশের মোট জন সংখ্যা কোটি ১৪ লাখ ৭৮ হাজার মোট জনসংখ্যার ৯৬ লাখ ৭৩ হাজার  হিন্দু জনগোষ্ঠী। ১৯৭৪ সালে ১৩. ভাগ , ১৯৮১ সালে ১২. ভাগ, ১৯৯১ সালে ১০. ভাগ, ২০০১ সালে . ভাগ, ২০১১ সালে . ভাগ হিন্দু জনগোষ্ঠী শুমারি তথ্য অনুযায়ী। পাকিস্থান আমল বলি আর বাংলাদেশ আমল বলি সব আমলেই একই অবস্থা এই জনগোষ্ঠীর। সরকার যায় নতুন সরকার আসে কিন্তু ক্রমবর্ধমান কখনো হয়নি, হিন্দু জনগোষ্ঠী ক্রমান্বয়ে কমেছে।

১৯৬৫ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত শত্রু সম্পত্তি আইনের ফলে ১২ লক্ষ পরিবারের ৬০ লক্ষ হিন্দু জনগোষ্ঠী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই সময় কালে হিন্দু সম্প্রদায়ের ২৬ লাখ একর ভূমি হারিয়েছে এবং অনেক পরিবার সব হারিয়ে সর্বশ্রান্ত হয়েছেন। ধরতে গেলে বাংলাদেশের প্রায় অর্ধেক হিন্দু জনসংখ্যাই সাম্প্রদায়িক, অমানবিক আইনটির ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আওয়ামীলীগ সরকার অর্পিত সম্পত্তির একটা ধারা বিলুপ্ত করেছে কিন্তু যাদের দখলে এই সম্পত্তি, বছরের পর বছর ভোগদখল করে অধিকারে রেখেছে তাদের হাত থেকে উদ্ধার করার জন্য কি বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এবং গবেষক . আবুল বারাকাত তার বাংলাদেশ কৃষি ভূমি জল সংস্কারেররাজনৈতিক অর্থনীতিনামের গবেষনা গ্রন্থে বলেছেন  ১৯৬৪ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত আনুমানিক এক কোটি ১৩ লাখ হিন্দু জনগোষ্ঠি নিরুদ্দিষ্ট হয়েছেন। তিনি বলেছেন যেসব হিন্দু নিরুদ্দিষ্ট হয়েছেন তারা দেশ ছেড়েছেন। তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের এই দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার ছয়টি কারণ চিহ্নিত করেছেন

১। এই অঞ্চলের মুসলমানদের ফার্টেইলিটি রেট বেশি, ২। ১৯৬৪ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, ৩। ১৯৬৫ সালের ভারত পাকিস্থানের যুদ্ধ, ৪। এনিমি প্রোপার্টি এ্যাক্ট, ৫। ভেস্টেড প্রোপার্টি এ্যাক্ট, ৬। নিরাপত্তাহীনতা। 

ইউরোপ, আমেরিকা, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের প্রতিটি দেশে দুই একটা দেশ ছাড়া সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী বৃদ্ধি পেয়েছে এবং প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমনকি আমাদের প্রতিবেশি দেশ ভারত, সেখানেও মাইনোরিটি জনগোষ্ঠী বৃদ্ধি পেয়েছে এবং নিয়মিত বৃদ্ধি পাচ্ছে। 

ভারতের মাইনোরিটি জনগোষ্ঠীর জন্য রয়েছে নানা রকমের প্রকল্প, মাদ্রসা গুলি রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে পরিচালিত হয় , করা হয়েছে সাচার কমিটি মুসলিম জনগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক শিক্ষাগত অবস্থান নিরুপন করার জন্য। সংখ্যালঘু সমাজের উন্নয়নে ভারতে কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় রয়েছে। এই মন্ত্রণালয়ের জন্য জাতীয় বাজেটে বরাদ্ধ রয়েছে। এই মন্ত্রনালয়ের জন্য ২০২০২০২১ অর্থ বছরের জাতীয় বাজেটে কেন্দ্রীয় সরকার হাজার ২৯ কোটি রুপি বরাদ্ধ রেখেছিল, আর ২০২১২০২২ অর্থ বছরে হাজার ৮১০ কোটি রুপি বরাদ্ধ রেখেছে। তো গেল কেন্দ্রের হিসাব পশ্চিমবঙ্গে সংখ্যালঘু সমাজের উন্নয়নে তৃণমূল সরকার ২০২১২০২২ অর্থবছরে হাজার ৭৭৭ কোটি রুপি বরাদ্ধ রেখেছে। এছাড়া রয়েছে মাইনোরিটিদের বিশেষ পুলিশি ব্যবস্থা , যেখানে কোন মাইনোরিটি সাহায্য চেয়ে কল দিলেই অতিদ্রুত পুলিশ ব্যবস্থা নিতে বাধ্য। 

বিভিন্ন ধরনের প্রকল্প হাতে নিয়েছে বিভিন্ন রাষ্ট্র সরকার সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর জন্য। অথচ আমাদের দেশে প্রতি নিয়ত হিন্দু বাড়ি, সম্পত্তি দখল, ধর্মান্তর করার জন্য বাড়িতে বাড়িতে চিঠি বিতরণ, মিথ্যা গুজব রটিয়ে রামু, বিবাড়িয়ার নাছির নগর, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, কুমিল্লা, যশোরের মালো পাড়ার মতো ঘটনা  ঘটে চলেছে। সামাজিকভাবে মানসিকভাবে চলছে নির্যাতন, ইউটিউব , ফেসবুকের মতো সমাজিক মাধ্যমে চলছে কিছু কিছু ধর্মীয় নেতার চরম সাম্প্রদায়িক গীবত আর উসকানিমূলক বক্তব্য। যা এই সম্প্রদায়ের চরমভাবে মানষিক আঘাত করে। এই ধরনের আঘাত কারীদের শাস্তির জন্য নেই কোন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা

সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর জন্য বিভিন্ন দেশের ন্যায় সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় প্রয়োজন। সংখ্যালঘুদের জন্য বিশেষ এ্যাক্ট প্রয়োজন। জীবনমান উন্নয়নের সুরক্ষার জন্য জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্ধের প্রয়োজন। প্রশাসনে বিশেষ সেল থাকা প্রয়োজন। যেখানে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর সমস্যা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। শতাংশ হারে সংসদে, মন্ত্রীসভায়, সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা, ইউনিয়ন পরিষদ সহ জনগণ কর্তৃক নির্বাচিত কোন স্থানীয় সরকারে বা কোন রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব থাকার ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। 

স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৪ সালে  থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ৩৭ বছরে হিন্দু জনগোষ্ঠী ১৩. ভাগ থেকে ক্রমান্বয়ে কমে . ভাগে নেমে এসেছে ক্রমহ্রাসমান এই ধারা অব্যহত হতে থাকলে আগামী ৪০ বছর থেকে ৫০ বছর এর মধ্যে এই দেশে হিন্দু জনগোষ্ঠী শূণ্য হয়ে যাবে এটা একদমই সাধারন শতকরা হিসাব, যেটা . আবুল বারাকাত স্যারের গবেষনায়ও উঠেছে, এমন হতে পারে ৫০ বছর পর বাংলাদেশে আর কোন হিন্দু থাকবে না।

 সেই বাস্তবতায় পারিবারিকভাবে স্থিতি পরিবেশে হিন্দু পরিবার গুলি একক বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ থেকে সুখেই দাম্পত্য জীবন অতিবাহিত করছে। শত কষ্টের মাঝেও কেউ কাউকে ছেড়ে যেতে চাইও না, ছাড়ার নিয়মও মনে হয় নিতে চাই না। আমি মনে করি বিবাহ বিচ্ছেদটা পুরুষের হাতিয়ার যেখানে পারিবারিক বন্ধন অটুট রাখার জন্য মানুষ জীবন পর্যন্ত দিয়ে দিচ্ছে, তাছাড়া হিন্দু সমাজে যেহেতু বিবাহ বন্ধনটা  ঐশ্বরিক বন্ধন এবং ধর্ম মতে দ্বিতীয় বিবাহ নিষেধ সেখানে বিবাহ বিচ্ছেদের মতো আইনের কি প্রয়োজন! যেহেতু চাকুরি , বিদেশ গমনের ক্ষেত্রে দালিলিক প্রমাণ প্রয়োজন সেহেতু বিবাহ নিবন্ধন করাটা প্রয়োজন হতে পারে, সেটাতো আরো ভালো হলো ঐশ্বরিক বন্ধনের সাথে রাষ্ট্রীয় দালিলিক প্রমান থাকলো।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে যদি সামাজিক ভাবে জনমত নেওয়া হয় দেখা যাবে  হিন্দু ধর্মের উত্তরাধিকার আইন বা পারিবারিক আইন সংস্কার থেকে  সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয়, এই জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের জন্য বরাদ্ধ মাইনোরিটি সুরক্ষা আইন বেশি প্রয়োজন এই জনগোষ্ঠীর অস্থিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য, বলতে পারি সময়ের প্রয়োজন। মানুষই যখন থাকবে না আইন কোথায় প্রয়োগ করবেন। হিন্দু পারিবারিক উত্তরাধিকার আইন বিষয়টা নিয়েহিন্দু আইন প্রণয়নে নাগরিক উদ্যেগনামে যে কোয়ালিশন গঠন করা হয়েছে, সেই কোয়ালিশনে যে সকল কর্তাব্যক্তিরা কাজ করছেন তাদের কি মনে হয় না, যখন জনগোষ্ঠীই থাকবে না তখন পারিবারিক উত্তরাধিকার আইন কোথায় প্রয়োগ করবেন আর সম্পত্তিই বা কোথায় পাবেন বন্টনের জন্য?

লেখকঃনিপুল কুমার বিশ্বাস/ ইমেল/biswasnipul14@gmail.com

Print Friendly, PDF & Email
Comments
Share

bangladesh ekattor

বাংলাদেশ একাত্তর.কম

১ Comments

  1. আলমগীর
    জুলাই ১৯, ২০২১ at ৯:৫১ পূর্বাহ্ণ

    লেখকের সাথে একমত প্রকাশ করছি।

Reply your comment

Your email address will not be published. Required fields are marked*

five − two =

বাংলাদেশ একাত্তর